আওয়ামী লীগ নেতার পরিবারের ৪ নারীসহ আটক ৫

চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা হত্যা

আওয়ামী লীগ নেতার পরিবারের ৪ নারীসহ আটক ৫

ফন্ট সাইজ:

কক্সবাজারের চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ইসফাতুল ইসলাম জিসানকে (২৮) রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গতকাল দিবাগত রাত ৩টার দিকে অপহরণের চার ঘণ্টা পর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার কচ্ছপিয়া এলাকায় মহাসড়কের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তবে হত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি অডিও কল রেকর্ড ফাঁস হওয়ায় পুরো ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের শিকার জিসানের বড় ভাই কায়সার ও আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দেয়া মিজানের মধ্যকার কথোপকথনের এই চাঞ্চল্যকর অডিও কল রেকর্ডটি সোমবার সকালে ফাঁস হয়। এর পরপরই পুলিশি অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দেয়া মিজানের পরিবারের চার নারী সদস্য ও বাড়ির কেয়ারটেকারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করেছে।

এদিকে আদরের সন্তানকে হারিয়ে জিসানের পিতা নাজেম উদ্দিন নাজু আহাজারি করতে করতে বলেন, আমার নিষ্পাপ ছেলেটাকে ওরা ধরে নিয়ে গিয়ে এভাবে মেরে ফেললো! তারা আমার বুকের ধনকে নির্মম অত্যাচার করে হত্যা করেছে। আমার ছেলের কী অপরাধ ছিল যে তাকে এভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হলো। আমি প্রশাসনের কাছে খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দিবাগত রাত ৩টার দিকে জিসান চকরিয়া সদর থেকে কাকারা ইউনিয়নের লোটনি গ্রামের নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। সাবের সদরের দোকানের সামনে সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে করে এসে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। অপহরণের আগে জিসানের বড় ভাই কায়সার ও আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দেয়া মিজানের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। সোমবার সকাল ১১টার দিকে ফাঁস হওয়া সেই অডিওতে আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দেয়া মিজানকে বলতে শোনা যায়, জিসানকে ধরার জন্য ৫০ জন মানুষ লাগিয়ে রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত। তাকে আমি ১৪ টুকরো করতে পারি। আমার সবকিছু আছে টাকা, শক্তি সবকিছু আছে। পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের পর জিসানকে চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকার ‘কবির টাওয়ার’ এ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যার পর মরদেহ কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ঘাতকরা। চকরিয়া থানা পুলিশ সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দেয়া মিজানের চকরিয়াস্থ বাসভবন ও সম্ভাব্য আস্তানায় অভিযান চালায়।

এ সময় মিজানকে না পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার পরিবারের চার নারী সদস্যকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করে চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম বাপ্পী মানবজমিনকে বলেন, জিসান ছাত্রদলের একজন উদীয়মান ও সক্রিয় নেতা ছিলেন। তাকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করার আলটিমেটাম দিয়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। কক্সবাজার জেলা পুলিশ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) অহিদুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিজানের পরিবারের ৪ নারী সদস্য ও বাড়ির কেয়ারটেকারকে আটক করা হয়েছে।