একই স্থাপনা। অথচ সার ডিলার হতে আবেদন করেছে দুই প্রতিষ্ঠান। কাগজপত্রে সেটিই দুই প্রতিষ্ঠানের গোডাউন। সরজমিন দেখা গেছে, প্রস্তাবিত স্থাপনাটি এখনো রাইস মিল হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশেই খাবারের দোকান, রয়েছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা। কাছাকাছি হেফজখানাও। কিন্তু ডিলার নিয়োগের আবেদনে এসবের অনেক কিছুই নেই। এমনকি গোডাউনের আশপাশে খাবারের দোকান আছে কি না, আবেদনের সেই প্রশ্নেও দুই আবেদনেই ‘না’ উত্তর দেয়া হয়েছে। এমন অভিযোগ ও সরজমিন বাস্তবতা নিয়ে কক্সবাজারের উখিয়ায় বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে দুই আবেদন পুনঃতদন্ত ও বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, উখিয়ার মরিচ্যা এলাকার মেসার্স সিকদার এন্টারপ্রাইজের পক্ষে মো. সাইফুল্লাহ সিকদার এবং নূরজাহান এন্টারপ্রাইজের পক্ষে এনাম উল্লাহ সিকদার ওরফে এহছান উল্লাহ সিকদার ডিলার নিয়োগের জন্য আবেদন করেন। দুই আবেদনে গোডাউন হিসেবে যে স্থাপনা দেখানো হয়েছে, সেটির মালিকানা বা ব্যবহার নিয়ে পৃথক তথ্য থাকলেও বাস্তবে দু’জনের প্রস্তাবিত গোডাউন একই স্থানে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। সরজমিন দেখা যায়, স্থাপনাটিতে রাইস মিলের কার্যক্রম রয়েছে। ভবনের সঙ্গেই ‘আল্লাহ্ ভরসা হোটেল’ নামে একটি খাবারের দোকান এবং একটি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান রয়েছে। সংলগ্ন ভবনে রয়েছে একটি হেফজখানা। ফলে সার সংরক্ষণের জন্য প্রস্তাবিত স্থাপনার পারিপার্শ্বিক পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আবেদনে গোডাউনের আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে যে তথ্য দেয়া হয়েছে, তার সঙ্গে সরজমিন দৃশ্যের মিল কতটুকু, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, খাবারের দোকানসহ আশপাশের প্রতিষ্ঠানের তথ্য গোপন করেই আবেদন করা হয়েছে। এরপরও হলদিয়াপালং ইউনিয়ন থেকে পাঠানো সুপারিশ তালিকায় দুই প্রতিষ্ঠানই জায়গা পেয়েছে। তালিকায় সিকদার এন্টারপ্রাইজকে প্রথম এবং নূরজাহান এন্টারপ্রাইজকে দ্বিতীয় অবস্থানে রাখা হয়েছে। এখানেই তদন্ত ও সুপারিশ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। শুধু একই স্থাপনা দুই আবেদনে ব্যবহারের অভিযোগ নয়, তদন্ত প্রতিবেদন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সরজমিন যাচাই সঠিকভাবে হলে প্রস্তাবিত গোডাউনটির বর্তমান ব্যবহার ও আশপাশের স্থাপনাগুলোর বিষয়টি প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে আসার কথা।
এক্ষেত্রে কীভাবে দুই আবেদনকারী সুপারিশের তালিকায় এলেন, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা। অভিযোগের বিষয়ে হলদিয়াপালং ইউনিয়নের তদন্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার বদরুল আলম বলেন, আমি শুধু আবেদনকারীদের এনআইডি ও মৌলিক তথ্য যাচাই করেছি। কোনো পক্ষাবলম্বন করে রিপোর্ট দিইনি। বাকি কাজ কৃষি অফিস করেছে। আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। উখিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশীস সরকার বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কমিটি যাচাই-বাছাই করে নামের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে একই স্থানে রাইস মিল, খাবারের দোকান ও গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা থাকার বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ডিলার নিয়োগের পর রাইস মিলটি পরিষ্কার করে সার রাখার উপযোগী করা হবে।
