নদীর কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছিল জীবন। শত বছর ধরে বাপ-দাদার কবর আর স্মৃতির আল্পনা আঁকা সেই ভিটাবাড়িতেই রাত কাটে ওদের। তারা আমাদের সমাজেরই একপ্রান্তের অসহায় বেদে সম্প্রদায়। যাদের নেই নিজস্ব কোনো জমিও, আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ই যাদের শেষ আশ্রয়। কিন্তু প্রভাবশালীদের নির্মম থাবায় আজ সেই শত বছরের বসতিটুকুও হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে তাদের। ভেঙে ফেলা হয়েছে মাথাগোঁজার একমাত্র নতুন তৈরি ঘরটি। ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুর পৌরসভার চরমুগরিয়া ব্রিজ সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জমিতে। সোমবার সকালে স্থানীয় প্রভাব আর শক্তির জোর দেখিয়ে নয়ন তারা নামে এক অসহায় নারীর নির্মাণাধীন টিনের ঘরটি দলবল নিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিপ্লব মুন্সি নামের এক স্থানীয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চরমুগরিয়া ব্রিজের নিচে নদীঘেঁষা জায়গায় প্রায় এক শতাব্দী ধরে বসবাস করে আসছে কয়েকটি বেদে পরিবার। বর্তমানে মৃত ওমর আলী সরদারের মেয়ে নয়ন তারা, ভাই মনির সরদার, মাহবুব সরদার ও পারুল বেগম তাদের পূর্বপুরুষের রেখে যাওয়া আশ্রয়েই জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।
সম্প্রতি নয়ন তারা তার জীর্ণ পুরনো ঘরটি ভেঙে নতুন করে একটু শক্তপোক্ত থাকার ব্যবস্থা করছিলেন। কিন্তু তাতে বাধা হয়ে দাঁড়ান স্থানীয় বিপ্লব। তিনি সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন নদীর পাড়ের জায়গাটি তার মায়ের মালিকানাধীন বলে দাবি করে ঘর নির্মাণে আপত্তি জানান। শেষে সোমবার সকালে দলবল নিয়ে হামলা চালিয়ে অসহায় পরিবারটির নতুন ঘরটি পুরোপুরি ভেঙে তছনছ করে দেন। কান্নাজড়ানো কণ্ঠে ভুক্তভোগী নয়ন তারা বলেন, আমার দাদা, বাবাসহ আমরা প্রায় একশ’ বছর ধরে এই নদীর পাড়ে বাস করছি। কখনো কেউ আমাদের উঠিয়ে দিতে আসেনি। এটা তো সরকারি জায়গা, সরকারের যখন প্রয়োজন হবে আমরা সসম্মানে ছেড়ে দেবো। কিন্তু হঠাৎ করে বিপ্লব তার মায়ের জায়গা দাবি করে আমাদের ভয় দেখাচ্ছে। মাথাগোঁজার ছোট ঘরটা নতুন করে তৈরি করতে গেলাম, তাও লোকজন নিয়ে ভেঙে ফেলে দিলো! আমরা এর বিচার চাই। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। খবর পাওয়ার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিপ্লব মুন্সির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
