মৌলভীবাজার জেলাকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। রোববার মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক প্রথম দিনের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। প্রথমদিনে তিনি নানা শ্রেণি-পেশার গুণীজন ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময়ে জেলার নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা যেনে সে বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করে নানা দিক-নির্দেশনা দেন। এরপর দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন।
সভায় ও সভাশেষে গণমাধ্যমকর্মীদের মন্ত্রী বলেন, সীমান্ত দিয়ে আসা মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বয়ে ইতিমধ্যে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে এই টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দেবেন। তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করে জেলাকে একটি মাদকমুক্ত ও অনন্য মডেল জেলায় রূপান্তর করতে সরকার ও দলীয় নেতাকর্মীসহ সকলে মিলে একযোগে কাজ করবে। গণমাধ্যমের ভূমিকার বিষয়ে তিনি বলেন— সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা যেন জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিজস্ব তথ্যসূত্রের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেন, যাতে অপরাধীরা আগে থেকেই সতর্ক হতে না পারে। সভায় অংশগ্রহণকারীদের পক্ষ থেকে মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীদের পুলিশে সোপর্দ করার পর আদালতের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে মন্ত্রী বলেন, আইন ও আদালতের এখতিয়ার সরকারের সুনির্দিষ্ট বিধিমালা এবং নিয়মের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়।
বিষয়টি যথাযথ নিয়মে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে জানানো হবে বলে তিনি জানান। মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল এর সভাপতিত্বে প্রথম ওই সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দীন মিটু, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম, ৪৬-বিজিবি’র কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ, ৫২-বিজিবি’র কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল আতাউর রহমান সুজন, জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ুন, সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, জেলা পরিষদ প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজান, মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক বকশী ইকবাল আহমদসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
