পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় সরকারি প্রতিষ্ঠান সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে রোববার হিন্দুত্ববাদীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবারও ক্যাম্পাস থমথমে রয়েছে। জানা গিয়েছে, হিন্দুত্ববাদী আরএসএস-এর সহযোগী সংগঠন অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানালে সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। প্রতিষ্ঠানের মূল কমিউনিটি হলে অনুষ্ঠানটি চলছিল।
শিক্ষার্থীরা এই বলে প্রতিবাদ জানান যে, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানের চত্বরে রাজনৈতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ওই সংগঠনের সদস্যরা এমন কিছু মন্তব্য করেন যা শিক্ষার্থীরা বিদ্বেষপূর্ণ বলে মনে করেন। এর পরেই প্রতিবাদের তীব্রতা বেড়ে যায়। দক্ষিণ ভারতের দুই শিক্ষার্থী প্রথমে প্রতিবাদ করেছিলেন, তখন আয়োজকরা তাদের হিন্দিতে কথা বলতে বললে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
উল্লেখ্য, এসআরএফটিআই-তে সারা দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা পড়তে আসেন, তাই ক্যাম্পাসে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য প্রচুর বলে জানিয়েছেন এক শিক্ষক। এসআরএফটিআই ছাত্র সংসদ এক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শিক্ষার্থীরা যখন মূল থিয়েটার হলের দিকে যান, তখন তাদের মৌখিকভাবে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয়। ছাত্র সংসদ জানিয়েছে, এই সহিংসতায় ঘুষি, লাথি, পাথর, ইট ও লাঠিসোঁটা ব্যবহার করা হয়েছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের মৌখিকভাবে গালিগালাজ করা হয়; তাদের দেশবিরোধী ও আরশোলা বলে অভিহিত করা হয়। এরপর সংগঠনের সদস্যরা ঘুষি, লাথি, পাথর, ইট, লাঠি ও অন্যান্য বস্তু ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের-যার মধ্যে ছাত্রীরাও ছিলেন-শারীরিকভাবে আক্রমণ করে। শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, ক্যাম্পাসের ভেতর শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করা হয়েছিল এবং কেউ কেউ লাইব্রেরির ভেতরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানে লাইব্রেরিয়ানকেও লাঞ্ছিত করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া সহিংসতা চলাকালে শিক্ষার্থীদের পোশাক ছিঁড়ে ফেলা এবং তাদের ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যরা বন্ধ গেটের বাইরে থেকে ক্রমাগত ইট ছুড়েছে। ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসে আটকে ছিলেন। এদিকে, এই ঘটনায় তিনটি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। একটি এফআইআর দায়ের করেছে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতি। দ্বিতীয় এফআইআর পড়ুয়াদের একাংশের তরফে দায়ের করা হয়েছে। তৃতীয়টি পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত এফআইআর রুজু করেছে। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেউ আটক কিংবা গ্রেপ্তার হয়নি।
