একটি বিমানঘাঁটির কাছে কথিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চেষ্টা এবং পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর বৃটেনে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। রোববার বৃটেনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করছিলেন এমন সন্দেহে ফেয়ারফোর্ডে পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি তারা জানতে পেরেছে। এ ঘটনার পর মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। বিবৃতিতে দূতাবাস বলেছে, মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গ্লুচেস্টারশায়ারে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর বিভিন্ন অভিযান পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা চালানো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের অবস্থানে মার্কিন হামলার ক্ষেত্রেও ঘাঁটিটি ব্যবহার করা হয়েছে। জুলাইয়ে ইরানের বিপ্লবী গার্ড এই ঘাঁটি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিল।
ওই সময় ইরান বৃটেনকে সতর্ক করে বলেছিল, যেন তারা মার্কিন বোমারু বিমানগুলোকে এই ঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের সুযোগ না দেয়। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বৃটিশ পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই সন্দেহভাজনদের ওপর নজর রাখছিল। ইলিনয়ে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, এটি অসাধারণ ব্যাপার ছিল। বৃটেনের সঙ্গে কাজ করে তারা অসাধারণ একটি কাজ করেছে। আমরা তাদের ওপর তদন্ত চালাচ্ছিলাম। তারা আমাদের ঘাঁটির বড় ধরনের ক্ষতি করার চেষ্টা করছিল। বৃটিশদের সঙ্গে কাজ করাটা দারুণভাবে সফল হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হয়তো এটি স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড ছিল, আমি জানি না। আমরা অনেকের সঙ্গে কাজ করেছি। দীর্ঘ সময় ধরে আমরা তাদের নজরদারিতে রেখেছিলাম এবং শেষ পর্যন্ত তাদের ধরে ফেলেছি। ধন্যবাদ। তবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্রেপ্তার অভিযানটি আগে থেকে পরিকল্পিত ছিল না। অর্থাৎ পুলিশ আগে থেকে কথিত এই ষড়যন্ত্রের বিষয়ে অবগত ছিল না। স্থানীয় এক কৃষক কথিত গাড়িবোমা হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে পুলিশকে সতর্ক করেছিলেন বলে জানা গেছে। একটি পার্টি থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিনি পাঁচজন মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের মতো দেখতে, মুখোশধারী ব্যক্তিকে দেখতে পান।
টেলিগ্রাফকে ওই নারী বলেন, আমি ভাবছিলাম, তারা এসব কী করছে! আমি দেখলাম, মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের মতো দেখতে একদল তরুণ গাছপালার মধ্য দিয়ে দৌড়ে যাচ্ছে। তাদের কয়েকজনের মুখে মাস্ক বা বালাক্লাভা ছিল। আমরা গাড়ি নিয়ে পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তারা সবাই ছড়িয়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন, কয়েকজন মাঠের দিকে দৌড়ে যায়, আর কয়েকজন বিমানঘাঁটির দিকে ছুটে যায়। তখন আমরা বুঝতে পারি, বিষয়টি বেশ গুরুতর।
স্থানীয় ওই কৃষক রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে তিনটি সাদা ভ্যানের আশপাশে সন্দেহজনক আচরণ করা কয়েকজন ব্যক্তির বিষয়ে পুলিশকে জানান। পুলিশ জানিয়েছে, ওই গাড়িগুলোর একটির ভেতর কার্যকর আগুন ধরানোর যন্ত্র ও রাসায়নিক পদার্থ পাওয়া গেছে।
