তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগানকে আদালতের কাঠগড়ায় তুলতে চান ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ জন্য তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) মামলা প্রস্তুত করছেন নেতানিয়াহু। দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিরোধে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে এই মামলাকে ব্যবহার করতে চান তিনি।
আই২৪নিউজ’কে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন আরটি। এর আগে গত মাসে তুরস্ক ঘোষণা করে, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের কাছে রেড নোটিশ জারির আবেদন করেছে তারা। গাজামুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা চলতি বছরের শুরুতে ইসরাইল আটকে দেয়ার ঘটনায় তুরস্কের একটি আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গণহত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর এ পদক্ষেপ নেয়া হয়।
এর প্রতিক্রিয়ায় তুরস্কের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। তিনি এরদোগানকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী স্বৈরশাসক’ বলে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে কুর্দিদের গণহত্যা এবং হামাসের সদস্যদের আশ্রয় দেয়ার অভিযোগ তোলেন। গত সপ্তাহে জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণেও একই অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেন নেতানিয়াহু।
তিনি তুরস্ককে ‘ইহুদিবিদ্বেষী মিথ্যার সর্বশেষ সুপার স্প্রেডার দেশ” হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে তুরস্কের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক বুরহানেত্তিন দুরান নেতানিয়াহুর এসব মন্তব্যকে ভিত্তিহীন অভিযোগ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। নেতানিয়াহু এখন একটি ইসরাইলি আন্তঃমন্ত্রণালয় দল এবং দেশটির আন্তর্জাতিক আইন বিভাগের প্রধানকে একটি নথি প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ওই নথিতে মূলত কুর্দি সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত হামলার অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দেয়া হবে। এরদোগান সরকার হামাসকে অর্থায়ন করে- এমন অভিযোগও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) রোম সংবিধির অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০২ সালে রোম সংবিধি কার্যকর হওয়ার পর আদালতটি গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করে আসছে।
আই২৪নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে এই মামলা এগিয়ে নেয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে সরাসরি মামলাটি করার সম্ভাবনাও রয়েছে। সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, মামলাটির অস্তিত্বকে এরদোগানের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করাই তাদের লক্ষ্য; কার্যত এটিকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করতে চায় তারা।
২০২৪ সালের নভেম্বরে আইসিসি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে অনাহারকে ব্যবহার করা, গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা পরিচালনা করা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। ইসরাইল কিংবা তুরস্ক কোনো দেশই রোম সংবিধির পক্ষভুক্ত নয়। ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রকাশ্য বিরোধী যুক্তরাষ্ট্রও রোম সংবিধির পক্ষভুক্ত নয়।
ওয়াশিংটন আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আখানে এবং আদালতের জ্যেষ্ঠ ট্রায়াল আইনজীবী আবদুলায়ে সেয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আদালত তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করছে- এমন অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে আইসিসি এ সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। আদালত বলেছে, এই পদক্ষেপ একটি নিরপেক্ষ বিচারিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতার ওপর স্পষ্ট আক্রমণ। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিজেরা কার্যকর করার কোনো ব্যবস্থা আইসিসির নেই। গ্রেপ্তার করতে হলে আদালতকে বিভিন্ন দেশের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করতে হয়।
জুলাই মাসে ইকোনমিস্ট/ইউগভ পরিচালিত এক জনমত জরিপে দেখা যায়, ৪৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত।
