অপ্রতিমকে হত্যার ছক ৭ দিন আগে, টিকটকে যোগাযোগ

সহযোগীদের খবর

অপ্রতিমকে হত্যার ছক ৭ দিন আগে, টিকটকে যোগাযোগ

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

‘অপ্রতিমকে হত্যার ছক ৭ দিন আগে, টিকটকে যোগাযোগ’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ছবি তোলা ও টিকটক তৈরি করার সূত্রে গড়ে ওঠে পরিচয়। এরপর লোভ হয় আইফোনের প্রতি। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকে শুরু হয় পরিকল্পনা। পরে ছবি তোলার কথা বলে ১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে নেওয়া হয় লালমাই পাহাড়ের নির্জন স্থানে। সেখানে প্রথমে তার হাত থেকে আইফোন নেওয়া হয়। ফোন ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয় কথা-কাটাকাটি। একপর্যায়ে পাশে থাকা কোদালের হাতল দিয়ে একের পর এক আঘাত করে হত্যা করা হয় অপ্রতিমকে।

কুমিল্লার অপ্রতিম হত্যা মামলায় তিন আসামির আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এমন বর্ণনা উঠে এসেছে। পরিকল্পনা, অপ্রতিমকে পাহাড়ে নেওয়া, আইফোন হাতে নেওয়া এবং তাকে আঘাত করার বিষয়ে তিনজনের বক্তব্যে অনেক জায়গায় মিল রয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সময়ের বর্ণনায় কিছুটা ভিন্নতা আছে।

কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অপ্রতিম ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরদিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯) এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই কিশোর ২০ সেপ্টেম্বর রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

আগের শুক্রবার পরিকল্পনা

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তিন জবানবন্দির মধ্যে হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে সবচেয়ে বিস্তারিত বলেছেন তুহিন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পাঁচ-ছয় মাস ধরে অপ্রতিমের সঙ্গে পরিচয়। তাঁর বন্ধু সিয়ামের মোটরসাইকেলে করে ছবি তোলা ও টিকটক করার জন্য অপ্রতিম তাদের সঙ্গে বের হতো।

তুহিন জবানবন্দিতে বলেছেন, অপ্রতিমের আইফোনের ওপর তাঁদের দুজনের লোভ হয়। ‘দুজন’ বলতে তিনি নিজে ও অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত কিশোরটির কথা বলেছেন। তুহিনের দাবি, ঘটনার আগের শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের কিছুটা সামনে দুজনের দেখা হয়। সেখানেই আইফোন নেওয়া এবং অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা হয়।

অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত কিশোরের জবানবন্দিতেও আগের শুক্রবারের ওই বৈঠকের কথা এসেছে। তবে ওই কিশোর পরিকল্পনার দায় মূলত তুহিনের ওপর দিয়েছে। তার বক্তব্য, ‘তুহিন আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে মারার প্ল্যান করে।’

তৃতীয় জবানবন্দিতে অপর কিশোর বলেছে, ঘটনার দিন বিকেলে তার বন্ধুই তাকে পরিকল্পনার কথা জানায় যে তুহিনের সঙ্গে মিলে আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে হত্যা করা হবে।

অর্থাৎ তিন জবানবন্দির একটি জায়গায় বড় মিল—হত্যার সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিক ছিল না। আইফোনকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই পরিকল্পনা হয়েছিল বলে তিনজনের বক্তব্যে এসেছে।
​
টিকটকে যোগাযোগ, পরদিন দেখা


তুহিনের জবানবন্দিতে এসেছে, হত্যার আগের দিন ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ময়নামতির একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউশনের সামনে অপ্রতিমের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। অপ্রতিম তাঁকে নিজের টিকটক অ্যাকাউন্টের ঠিকানা দেয়। ওই রাতেই টিকটকে অপ্রতিমকে মেসেজ করেন তুহিন। পরে অপ্রতিম একটি মুঠোফোন নম্বর দিলে সেই নম্বরে কথা হয়। পরদিন জুমার নামাজের পর দেখা করার সিদ্ধান্ত হয়।

অপ্রতিম তার বাবার দোকানে কর্মরত ওই কিশোরকেও একই সময় আসতে বলেছিল বলে তুহিনের বর্ণনায় এসেছে। কথা ছিল, তারা ছবি তুলবে। এই ‘ছবি তোলা’র সম্পর্কটিই শেষ পর্যন্ত অপ্রতিমকে নির্জন পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে—এমন বর্ণনাই পাওয়া যায় তিনজনের জবানবন্দি থেকে।

১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তার চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছরের বড় যুবকদের সঙ্গে মেলামেশা ও সম্পর্ককে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ‘অসম বন্ধুত্ব’ বলে অভিহিত করেছেন।

আলাদা পথে পাহাড়ে চারজন

১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে দেখা হয় বলে তুহিন জানিয়েছেন। এরপর অপ্রতিমকে ‘বুদ্ধি দিয়ে’ সানন্দা পশ্চিমপাড়ার দিকে নিয়ে যান। জায়গাটি নির্জন, এটি তাঁর চাচা শাহ আলমের পাহাড় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন তুহিন।

অন্যদিকে অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত কিশোরটি জানিয়েছে, বেলা দুইটার পর কোটবাড়ীর বোর্ড মার্কেট এলাকায় তার সঙ্গে অপ্রতিমের দেখা হয়। পরে সন্ধ্যার আগমুহূর্তে সে তার আরেক কিশোর বন্ধুকে নিয়ে পাহাড়ে যায়। যাওয়ার আগেই ওই বন্ধুকে পরিকল্পনার কথা খুলে বলে।

তৃতীয় কিশোরের বর্ণনাও কাছাকাছি। সে জানিয়েছে, বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে একটি স্কুলের সামনে তার সঙ্গে ওই কিশোরের দেখা হয়। সেখানেই হত্যার পরিকল্পনার কথা শোনে। এরপর বিকেল চারটার পর তারা পাহাড়ে যায় এবং সেখানে অপ্রতিম ও তুহিনকে বসে থাকতে দেখে।

চারজন একত্র হওয়ার পর কিছু সময় গল্প ও আড্ডা হয়—এ বিষয়টিতেও তিন জবানবন্দির বর্ণনা কাছাকাছি।

প্রথমে হাতে নেওয়া হয় আইফোন

দোকানে কর্মরত কিশোরটি জবানবন্দিতে বলেছে, সে অপ্রতিমের কাছে ফোন চাইলে অপ্রতিম সেটি তাকে দেয়। কিছুক্ষণ ব্যবহারের পর সে ফোনটি তুহিনের হাতে দেয়।

তুহিনের জবানবন্দিতেও একই ধরনের বর্ণনা রয়েছে। ওই কিশোর অপ্রতিমের কাছ থেকে আইফোন নিয়ে অনেকক্ষণ ব্যবহারের পর সেটি আর অপ্রতিমকে ফেরত না দিয়ে তুহিনের হাতে দেয়। এরপর ফোন নিয়ে অপ্রতিম ও তুহিনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পুলিশও আগে জানিয়েছিল, অপ্রতিম আইফোনটি নেওয়ার চেষ্টা করলে তুহিন বাধা দেন এবং এরপর মারধরের ঘটনা ঘটে।

এর পরের ঘটনাক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তিনজনের বক্তব্য মিলে যায়—অপ্রতিমকে প্রথম আঘাত করেন তুহিন। প্রথমে অপ্রতিমকে একটি থাপ্পড় মারেন তুহিন। এরপর পাশে পড়ে থাকা কোদালের হাতল নিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন। তারপর অন্য দুজনকে মারতে বলেন।

দোকানে কর্মরত কিশোরটির বক্তব্যেও এসেছে, তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমের ঝগড়া হওয়ার পর তুহিন পাশে পড়ে থাকা কোদালের হাতল দিয়ে প্রথমে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন। তৃতীয় কিশোরও বলেছে, তুহিনই প্রথম ওই হাতল দিয়ে অপ্রতিমকে আঘাত করেন।

তিন জবানবন্দির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মিল পাওয়া যায় হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে। তুহিন বলেছেন, অপ্রতিমের আইফোনের প্রতি তাঁদের লোভ হয়েছিল।

দ্বিতীয় কিশোর তার জবানবন্দিতে আরও স্পষ্ট করে বলেছে, ‘আমাদের প্ল্যান ছিল, তুহিন ওই মোবাইল বিক্রি করে আমাকে টাকার ভাগ দিবে। এই জন্যই এই কাজ করা।’ তৃতীয় কিশোরও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছে। তার ভাষ্য, তাকে বলা হয়েছিল আইফোনটি বিক্রি করে টাকার ভাগ দেওয়া হবে।

হত্যার পর কে কোথায় গেল

অপ্রতিমের মৃত্যুর পর কে কোথায় ছিলেন, সেই বর্ণনাতে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। তুহিন বলেছেন, অপ্রতিম মারা যাওয়ার পর অন্য দুজন একদিকে চলে যায় এবং তিনি অন্যদিকে চলে গিয়ে বাসায় ফেরেন। দ্বিতীয় জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, অপ্রতিম মারা যাওয়ার পর দুই কিশোর একসঙ্গে ঘটনাস্থল ছেড়ে যায়। তখন তুহিন সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিল। তৃতীয় কিশোরও বলেছে, সে ও তার বন্ধু একসঙ্গে চলে আসে; তুহিন অন্যদিকে যান। তবে অপ্রতিমের আইফোন শেষ পর্যন্ত তুহিনের কাছেই ছিল—তিনজনের বয়ানেই এমন কথা উঠে আসে।

সিয়ামকে নিয়ে নতুন প্রশ্ন

তুহিনের জবানবন্দিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে তাঁর বন্ধু মো. সিয়ামকে (১৯) নিয়ে। তুহিনের ভাষ্য, হত্যার পর বাসায় ফিরে তিনি সিয়ামকে ফোন করে ডেকে আনেন এবং ‘সব কথা খুলে বলেন’। সিয়াম অপ্রতিম হত্যার প্ল্যানের কথা আগে থেকেই জানতেন বলেও জবানবন্দিতে উঠে আসে।

অন্য দুই আসামির জবানবন্দিতে অবশ্য হত্যার আগের পরিকল্পনার সঙ্গে সিয়ামের কোনো সম্পৃক্ততার কথা নেই। পুলিশ সিয়ামকে পরে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। পুলিশের ভাষ্য ছিল, তিনি সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেননি; তবে ঘটনার কথা জানার পর তা গোপন করেছিলেন। পুলিশ সূত্র জানিয়েছিল, হত্যার দিন রাতেই তুহিন তাঁর সঙ্গে দেখা করে হত্যার বিস্তারিত জানিয়েছিলেন।

একজন যায় খুঁজতে, দুজন দেয় শোকের স্ট্যাটাস

জবানবন্দিগুলোয় ঘটনার পরের দিনের আচরণের বর্ণনাও রয়েছে। তুহিন বলেছেন, হত্যার পরদিন সকালে অপ্রতিমের মামা তাঁকে ফোন করে অপ্রতিমের খোঁজ করেন। এরপর তিনি সিয়ামকে নিয়ে কোটবাড়ীতে অপ্রতিমের খোঁজ করতে যান। অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত কিশোরটি বলেছে, পরদিন সে অপ্রতিমের বাবার একজন সহকারীর সঙ্গে অপ্রতিমকে খুঁজেছে। পরে অপ্রতিমের মরদেহ পাওয়ার খবর শুনে সেও ঘটনাস্থলে যায়।

অন্য কিশোর জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের পর সে এবং তার বন্ধু সন্ধ্যায় ফেসবুকে অপ্রতিমের মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দেয়। আর এর মধ্যেই পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে তুহিনকে শনাক্ত করে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর অন্যদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এখন বিচারের অপেক্ষা

অপ্রতিমের লাশ উদ্ধারের পর তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। ২০ সেপ্টেম্বর তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছিল, তাদের বক্তব্য অন্যান্য তথ্যপ্রমাণের সঙ্গে যাচাই করা হবে। হত্যাকাণ্ডে আর কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

এই তিনটি জবানবন্দি পাশাপাশি রাখলে একটি বিষয় স্পষ্ট—অপ্রতিমের সঙ্গে তাঁদের পরিচয়, আইফোনের প্রতি লোভ, পূর্বপরিকল্পনা, নির্জন পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া, ফোন হাতে নেওয়া এবং এরপর হামলার মূল ঘটনাক্রমে মিল রয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডে কার ভূমিকা কতটা ছিল—সেসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর মিলবে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায়।

এখন সেই বিচারের অপেক্ষায় অপ্রতিমের পরিবার, সহপাঠী এবং কুমিল্লার মানুষ। যে বিকেলে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল অপ্রতিম, সেই বিকেলের ঘটনার পূর্ণ সত্য উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি—এটাই এখন স্বজনদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘আবারও গণভোটের চিন্তা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মৌলিক কাঠামোসহ সংবিধানের বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। মৌলিক বিষয়ে পরিবর্তন আনার প্রক্রিয়া হিসাবে আবারও গণভোট আয়োজনের চিন্তা করা হচ্ছে। রোববার জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির পক্ষ থেকে দেশের প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদক ও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতাদের এমন তথ্যই জানানো হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, ডিসেম্বরে সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে। এরপর জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ওই সংশোধনী বিল আকারে আনা হবে। সংসদে তা পাশ হলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে গণভোটের আয়োজন করা হবে। সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গণভোট হবে।

ওই বৈঠকে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করার পরামর্শ দিয়েছেন বেশ কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, একই ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী ও দলের প্রধান হিসাবে না থাকা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ বেশকিছু সংশোধনীর সুপারিশ করেছেন তারা। সিনিয়র সাংবাদিকদের কেউ কেউ ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

সংবিধান সংশোধন কার্যক্রমের অংশ হিসাবে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার অংশ হিসেবে প্রথমে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বৈঠক করল বিশেষ কমিটি। কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, নিউএজ সম্পাদক নুরুল কবির, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমাদ, সমকাল সম্পাদক শাহেদ মো. আলী, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, দেশ রূপান্তর সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম, কালবেলা সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, সাবেক গণমাধ্যম কমিশনের প্রধান কামাল হোসেন প্রমুখ। প্রায় ৩ ঘণ্টা চলে এ বৈঠক।

বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ ব্রিফিংয়ে গণভোট আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিষয় বলা ছিল। সেটা আওয়ামী লীগ পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে উঠিয়ে দেয়। অভ্যুত্থানের পর উচ্চ আদালত ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করতে আদেশ দিয়েছেন। এটা সংবিধানে আসবে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানের প্রস্তাবনা, ৮, ৪৮ ও ৫৬ অনুচ্ছেদসহ কিছু জায়গায় যদি সংসদ কোনো পরিবর্তন আনে তাহলে তা গণভোটে দিতে হবে। সংসদে বিল পাশ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি সই করার আগে সেটা গণভোটে দিতে হবে, এটা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।’ তিনি বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাসহ আরও দুটি অনুচ্ছেদ যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিল। এগুলো ভবিষ্যতে পরিবর্তন আনতে হলে গণভোট দিতে হবে সাংবিধানিকভাবে।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংবিধানের পুরো সংশোধনীর ওপর গণভোটের প্রয়োজন হবে না। সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ হওয়ার পর যে অনুচ্ছেদগুলোতে পরিবর্তন এলে গণভোটের প্রয়োজন হয়, সে অনুচ্ছেদগুলোতে পরিবর্তন আনলে তখন গণভোট করতে হবে। এবার সে ধরনের অনুচ্ছেদগুলোতে, যেমন-প্রস্তাবনায় পরিবর্তন আসবে। তাই এটা গণভোটে যাওয়ার কথা।’ কমিটি ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করতে চায় জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রিপোর্টের ভিত্তিতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি বিল আনবে। আশা করি, বছরের প্রথম অধিবেশন জানুয়ারি সেশনেই বিলটি (সংবিধান সংশোধন) আসতে পারে।’

সংবিধান সংশোধনে জুলাই সনদ; নাকি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার গুরুত্ব পাবে-এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এখানে প্রায়োরিটি হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ। তবে নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী যেসব বিষয়ে আমরা ম্যান্ডেট পেয়েছি, সেগুলোও ধারণ করব। মহান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস-এটা সংবিধানের প্রস্তাবনায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসাবে ৮ অনুচ্ছেদে ধারণ করেছিলেন। এগুলো আমাদের ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি। আজকের বিরোধী দলও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে এ বিষয়ে একমত ছিল। কোনো কারণে সর্বসম্মতভাবে না আসায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়নি। কিন্তু আমাদের প্রতিশ্রুতি আছে, বিরোধী দলও একমত।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ আমরা যেভাবে স্বাক্ষর করেছি, সেভাবেই সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করব। এর বাইরেও কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলো ঐকমত্যের আলোচনায় আসেনি বা বাদ পড়েছে। সেগুলোও আমরা ঐকমত্যের ভিত্তিতে গ্রহণ করতে চাই। আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে আরও অনেক প্রস্তাব রয়েছে, যেগুলো বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে। সেগুলোও আমরা বিবেচনায় নেব। পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বক্তব্য, মতামত ও সেন্টিমেন্ট আমরা ধারণ করতে চাই। যেসব বিষয় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন, সেগুলো এখানে বিবেচনা করা হবে। আর যেসব বিষয় আইন প্রণয়নের মাধ্যমে করা সম্ভব, সেগুলো সেভাবেই বিবেচনা করা হবে।’

কালের কণ্ঠ

‘অভিযানেও বেপরোয়া কিশোর গ্যাং’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হলেও ঢাকার কাছের নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, যশোর, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কিশোর অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। চট্টগ্রাম নগরী ও যশোরের পাড়া-মহল্লায় এখন আতঙ্কের নাম কিশোর গ্যাং।

বরিশালে রয়েছে কিশোর অপরাধীদের কমপক্ষে ৫০টি চক্র। খুলনায় রয়েছে বড় ধরনের ১০টি চক্র। সেখানে বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডে কিশোরদের সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে। অভিযানের পরও দমছে না কিশোর গ্যাং। খোদ রাজধানীতে কয়েক দিন ধরে দখলবাজি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে কিশোর গ্যাং সদস্যদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর অভিযান জোরদার: কিশোর অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর থেকে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কিশোর অপরাধীদের গ্রেপ্তারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযান আরো জোরদার করা হয়েছে। গত শনিবার কুমিল্লার ১৮টি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরো ২৫৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রতন গ্রুপ বা ‘আর স্কোয়াড’-এর চারজন সক্রিয় সদস্য রয়েছে। তাদের মধ্যে আনিসুর রহমান ওরফে আনিকও (১৯) রয়েছেন। তিনি গ্রুপটির সেকেন্ড ইন কমান্ড।

কুমিল্লায় আটক আট শতাধিক: আমাদের কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লা নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে সক্রিয় রয়েছে রতন গ্রুপসহ ১৫টি চক্র। ইমরান হোসেন রতন এই গ্রুপের প্রধান। তার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা রয়েছে।

সেকেন্ড ইন কমান্ড আনিকের বিরুদ্ধে হত্যাসহ দুটি মামলা রয়েছে। ইমরান গা ঢাকা দিলেও আনিককে গত শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, জেলাজুড়ে কিশোর গ্যাং বিরোধী পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে দুই দফায় ৮৭৮ জনকে আটক করা হয়েছে। জানা গেছে, এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলায় অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, নিয়মিত মামলা, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ১৩ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কিশোর অপরাধীদের বিষয়টি আরো সামনে এসেছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা হিসেবে ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আরেকজনকে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ইত্তেফাক

‘সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর, লুটপাট’—এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাজধানীর ইসিবি চত্বরে গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিউগিনি প্রপার্টিজ নামের একটি হাউজিংয়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে একই হাউজিংয়ের অন্য একটি ফ্ল্যাটে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা। নিউগিনি প্রপার্টিজের কর্মকর্তা মো. পল্লব আলী বলেন, হামলাকারীরা পাঁচটি পিকআপে করে এসেছিল। তাদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তারা গুলি করতে করতে হাউজিংয়ের ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা সালমানের অফিসে ঢুকে ভাঙচুরের পর লুটপাট শুরু করে। প্রায় দেড় ঘণ্টা তাদের তাণ্ডব চলে। তিন ঘণ্টা পর পুলিশ সেখানে আসে। পুলিশের সঙ্গেও তাদের ধাওয়া-পালটাধাওয়া হয়। এই ঘটনায় সালমানের মামলা দায়েরের পর মূল পরিকল্পনাকারীসহ চার জনকে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শনিবার রাতে হামলা-ভাঙচুর এবং এরপর লুটপাট শুরু হয়। চলে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। তখন পুলিশ ও হামলাকারীদের মধ্যে পালটা-পালটি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে হয়। এ সময় কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। হামলাকারীরা সংখ্যায় ছিল অনেক। এ অবস্থায় পুলিশ পিছু হটে। পরে হামলাকারীরা একটি ফটক ভেঙে চলে যায়।

নিউগিনি প্রপার্টিজের কর্মকর্তা মো. পল্লব আলী বলেন, হামলাকারীরা প্রবেশমুখের একটি বাড়ির ফ্ল্যাটে ঢুকে প্রথমে লুটপাট করে। সেখান থেকে তারা মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জিনিস নিয়ে যায়। এরপর হামলাকারীরা সালমানের স্টুডিওতে গিয়ে ভাঙচুরের পর লুটপাট চালায়। নিউগিনি প্রপার্টিজের অফিসেও হামলা করা হয়। নির্মাণশ্রমিকদের মারধর করে তাদের জিনিসপত্র নিয়ে যায়।

গতকাল রবিবার দুপুরে ইসিবি চত্বর এলাকার নিউগিনি হাউজিংয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চার জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো ঘটনা জানার চেষ্টা চলছে। গ্রেফতাররা হলেন- হামলার মূল পরিকল্পনাকারী শাহরিয়ার, ভাসানটেক বস্তির মো. মামুন এবং মজুমদার মোড় এলাকার আসলাম ও মুন্না।

গতকাল সরেজমিন দেখা যায়, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওটি তছনছ হয়ে আছে। মেঝেতে পড়ে আছে কাচের টুকরা, ভাঙা সোফা, বাদ্যযন্ত্র, বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র। পুলিশ বলছে, নিউগিনি প্রপার্টিজে দুই পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এক পক্ষ তাদের জমিতে যেতে পারছিল না। পরে এই পক্ষের লোকজন সেখানে যায়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ সময় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা হয়।

সালমান মুক্তাদির রাতেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে স্টুডিও দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘একটু আগে এখানে অ্যাটাক হয়েছিল, এই পুরা অ্যাটাকে আমাদের স্টুডিও ডেস্ট্রয়েড হয়ে গেছে।’ ভিডিওতে দেখা যায়, স্টুডিওর বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করা হয়েছে। চেয়ার, টেবিল, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন আসবাব ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্টুডিওর কর্মীদের কয়েক জনকে কাঁদতে দেখা যায়। ভিডিওতে সালমান বলেন, স্টুডিওতে ক্লায়েন্টদের অনেক ফুটেজ ও শুটিংয়ের উপকরণ ছিল। সেগুলো হারিয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। এই হামলার পর কাজ বন্ধ করবেন না জানিয়ে তিনি বলেন, তারা কাজ চালিয়ে যাবেন।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর ‘গ্যাসসঙ্কটে ভারী শিল্পে উৎপাদন হ্রাস ৫০%’। প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্যাসসঙ্কটে দেশের শিল্প খাতে নেমে এসেছে স্থবিরতা। গ্যাসের চাপ ও সরবরাহের অনিশ্চয়তায় ইতোমধ্যে প্রায় ৪০০ গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একই সাথে গ্যাসনির্ভর ভারী শিল্পে উৎপাদন সক্ষমতা নেমে এসেছে প্রায় ৫০ শতাংশে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় একদিকে যেমন উদ্যোক্তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে রফতানি আদেশ, শ্রমিকের কর্মসংস্থান এবং সরবরাহব্যবস্থায় তৈরি হচ্ছে নতুন চাপ। দীর্ঘস্থায়ী এই জ্বালানি সঙ্কট অব্যাহত থাকলে শিল্পের ক্ষতির পরিধি আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার সঙ্কট এখন আর শুধু জ্বালানি খাতের সমস্যা নয়; এর অভিঘাত ছড়িয়ে পড়েছে উৎপাদন, কর্মসংস্থান, রফতানি এবং শিল্পের সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার-আশুলিয়া, নরসিংদী, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে একদিকে কারখানার উৎপাদন কমেছে, অন্যদিকে অনেক ইউনিট আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঙ্কটের শুরুতে ২১ জুলাই একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি সমস্যার পর জাতীয় গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট বা ১৭ শতাংশ কমে যায়। পরবর্তী সময়ে এলএনজি সরবরাহে আরো বিঘœ তৈরি হওয়ায় শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ অনেক ক্ষেত্রে শূন্য থেকে ২-৩ পিএসআইয়ে নেমে আসে। অথচ ভারী শিল্পের বয়লার ও বিভিন্ন উৎপাদনযন্ত্র সচল রাখতে সাধারণত ১০ পিএসআই বা তার বেশি চাপ প্রয়োজন। কিন্তু অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ পাচ্ছে না।

এদিকে গ্যাসের অভাবে নরসিংদীর মোমিন টেক্সটাইল মিল সঙ্কটে। কারখানাটির ১০টি ইউনিটের মধ্যে সাতটি বন্ধ হয়ে গেছে। দৈনিক ২২-২৩ হাজার ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে ৮-১০ হাজার ঘনফুট। দৈনিক কয়েক লাখ গজ কাপড় উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও উৎপাদন নেমে এসেছে মাত্র ২০ হাজার গজে। কারখানাটির ২,৫০০ শ্রমিকের মধ্যে প্রায় ১,৫০০ জন বর্তমানে কাজের বাইরে। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২০ লাখ গজের বিদেশী অর্ডার থাকলেও তা সময়মতো উৎপাদন করা যাচ্ছে না।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান নয়া দিগন্তকে বলেন, গ্যাসসঙ্কটে পোশাক খাতের ডাইং, ওয়াশিং ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, অনেক কারখানা উৎপাদন চালু রাখতে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করছে। এতে উৎপাদন ঘাটতি কিছুটা সামাল দেয়া গেলেও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এতে সময়মতো রফতানি নিশ্চিত করতে অনেক কারখানাকে অতিরিক্ত সময় জেনারেটরে উৎপাদন চালাতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, হক টেক্সটাইল ও ইউনিফিল টেক্সটাইল বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়াচ্ছে। নরসিংদীর চাওলা শিল্প এলাকায় অন্তত ৫০টি কারখানা গ্যাসের বিকল্প হিসেবে কাঠ ব্যবহার করছে এবং প্রতিটি কারখানায় দিনে ১০ হাজার টাকার বেশি অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। স্থানীয় শিল্প মালিকদের হিসাবে শুধু চাওলা এলাকার কারখানাগুলোর উৎপাদন বন্ধ বা কমে যাওয়ায় দৈনিক ক্ষতি প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।

এদিকে আবেদ টেক্সটাইল মিলের উৎপাদন টানা ২০ দিন বন্ধ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। কারখানাটির ব্যবস্থাপনা উৎপাদনের বদলে শ্রমিকদের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে রাখার চেষ্টা করেছে, যাতে কর্মীদের মধ্যে চাকরি হারানোর আতঙ্ক না বাড়ে।

তিথি টেক্সটাইলের ক্ষেত্রে গ্যাসের চাপ শূন্যে নেমে যাওয়ায় প্রায় আড়াই লাখ গজ রাসায়নিকভাবে প্রক্রিয়াজাত কাপড় নষ্ট হয়েছে। কারখানাটির উৎপাদন ও জেনারেটর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদেশী ক্রেতাদের অর্ডার বাতিলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ নিয়েও চাপ তৈরি হয়েছে।
বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফাজলে শামিম এহসান নয়া দিগন্তকে বলেন, প্রায় ৭৮ শতাংশ নিটওয়্যার কারখানায় আংশিক উৎপাদন বন্ধ হয়েছে এবং ৮৭ শতাংশ কারখানায় শিপমেন্ট বিলম্ব হয়েছে। তিনি বলেন, সঙ্কট কত দিন চলবে- এ বিষয়ে অনিশ্চয়তাই ব্যবসার জন্য বড় সমস্যা। নির্দিষ্ট সময়ের বিলম্ব জানা থাকলে উদ্যোক্তারা পরিকল্পনা করতে পারেন; কিন্তু অনিশ্চয়তা থাকলে উৎপাদন ও রফতানি পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানান।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের সৈকত টেক্সটাইলের ডাইং কার্যক্রমও গ্যাসের অভাবে বন্ধ ছিল। কারখানায় উৎপাদনের পরিবর্তে ওয়েল্ডিং ও মেরামতের কাজ চলছিল। একই এলাকার ফতুল্লা ডাইং অ্যান্ড ক্যালেন্ডারিং কারখানাতেও স্বাভাবিক উৎপাদনের বদলে নীরবতা নেমে আসে।

বণিক বার্তা

‘অর্থবছরের শুরুতেই বাজেটের অর্থ জোগান নিয়ে দুশ্চিন্তায় সরকার’—এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে অর্থাৎ জুলাই ও আগস্টে সংস্থাটি রাজস্ব আহরণ করেছে ৫১ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা, যেখানে এ সময়ের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮১ হাজার ৫৩ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের শুরুতেই বাজেট বাস্তবায়নে অর্থ জোগান নিয়ে চাপে পড়েছে সরকার। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড বাজেটের বিপরীতে ৭ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধীরগতিতে কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আসছে না। চাপ বাড়ছে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে। এর সঙ্গে জ্বালানি আমদানির অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি ও ভর্তুকি, সরকারি কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন-ভাতা এবং বড় প্রকল্পে সরকারি অর্থায়নের দায় ব্যয় বাড়াচ্ছে। ফলে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকেই বাজেট অর্থায়নে টানাপড়েন দেখা দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাতে সৃষ্ট ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। এতে সরকারকে জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। গত সাড়ে ছয় মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। এ সময়ে স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বেড়েছে তিন গুণ এবং অর্থবছরের শুরুর আড়াই মাসে এ খাতে ভর্তুকি দিতে হয়েছে ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। অথচ পুরো অর্থবছরে এলএনজিতে ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার কোটি টাকা। বর্তমান দাম বজায় থাকলে চলতি অর্থবছরে এলএনজি আমদানির ব্যয় ৯০ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। বিদ্যুৎ খাতে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৬০ হাজার কোটি টাকা। এরই মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে বাড়তি ব্যয় সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে সরকার। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে পণ্য-সেবার দাম বাড়বে এবং এতে মূল্যস্ফীতি আরো বাড়বে। ফলে ভোক্তার ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি ভোগ ব্যয় কমে গিয়ে অর্থনীতির ধীরগতি আরো দীর্ঘায়িত হবে।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বাড়তি ব্যয়ের পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টিও সরকারের ব্যয়ে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। কয়েক ধাপে বর্ধিত বেতন-ভাতা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও এর আর্থিক চাপ শুরু হচ্ছে চলতি অর্থবছরেই। বর্ধিত বেতন-ভাতার পুরোটা কার্যকর হলে সরকারের ব্যয় বাড়বে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি। এর সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন বাবদ আরো বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হবে সরকারকে।

বাড়তি এসব ব্যয়ের সঙ্গে যোগ হয়েছে অতীতের সরকারের নেয়া বিভিন্ন ঋণ পরিশোধের দায়ও। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে অর্থাৎ জুলাই ও আগস্টে বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ছাড়ের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি ঋণ পরিশোধ করেছে সরকার। গত দুই মাসে বিদেশী ঋণ ছাড় হয়েছে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার। বিপরীতে পরিশোধ করতে হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। অর্থবছর শেষে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ আরো বাড়বে। একই সময়ে ঋণের সুদ বাবদও বড় অংকের অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

আজকের পত্রিকা
​

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি: একের পর এক দখলবাজি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, খোদ রাজধানীতে দু-তিন দিনের ব্যবধানে ঘটে গেছে কয়েকটি দখলবাজি ও দখলচেষ্টার ঘটনা। এসব ঘটনায় ঘুরে-ফিরে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নেতা- কর্মীদের নাম আসছে। এতে ক্ষমতায় আসার সাত মাসের মাথায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে দলটিকে।

এই পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের বিরুদ্ধে দখলদারি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে তাদের রাজনৈতিক বিরোধীরা। সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘কর্তৃত্বশালীরা নিজেদের চাঁদাবাজদের কি সামলাবেন? একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে।’

আরেক বিরোধী দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, খোদ রাজধানীর বুকে চর দখলের মতো একটি হাসপাতাল গুঁড়িয়ে দিয়ে দখল করে নেওয়ার ঘটনায় দেশে আদৌ কোনো সরকারের অস্তিত্ব আছে কি না, তা নিয়েই জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের একাংশের এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ ও সদিচ্ছাকে ম্লান করছে।

তবে এসব ঘটনা বিব্রতকর মানলেও বিষয়টিকে দুরভিসন্ধি হিসেবে দেখছে বিএনপি। দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বিএনপিকে জড়িয়ে মিথ্যা প্রচারের অভিযোগ তুলে বলেছেন, ‘দুটি ঘটনাতেই (মিরপুরে স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা) বিএনপি ক্ষুব্ধ ও বিব্রত। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে বিএনপি জড়িত নয়। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণের আগে বিএনপিকে দায়ী করা দুরভিসন্ধিমূলক।’

রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে। হামলা-কারীরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একটি পাকা ভবন ও তিনটি আধা পাকা স্থাপনা ভাঙচুর করে। মেডিকেল সরঞ্জাম, এসি, ফ্যান, দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন সামগ্রী খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা করেছেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন। মামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মো. হানিফ মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

দেশ রূপান্তর

‘ডিগ্রির বন্যা, চাকরির খরা’—এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে একদিকে বাড়ছে ডিগ্রিধারীর সংখ্যা, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ সেই হারে বাড়ছে না। প্রতি বছর ৬ লাখের বেশি তরুণ উচ্চশিক্ষা শেষ করে শ্রমবাজারে প্রবেশ করছেন। এরই মধ্যে দেশে বেকার গ্র্যাজুয়েটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ লাখ ৮৫ হাজারে। সর্বশেষ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষিতদের বেকারত্বের হার ছিল ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ, যা দেশের সব শিক্ষাগত স্তরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে দেশের সামগ্রিক বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

অথচ দেশে সরকারি চাকরিতেই ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি শূন্য পদ রয়েছে। গত ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের অনুমোদিত মোট ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৭২টি পদের মধ্যে ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০টি পদে কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। বাকি ৫ লক্ষাধিক পদ বছরের পর বছর শূন্য থাকায় একদিকে সরকারি সেবা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে লাখ লাখ তরুণ বেকার ঘুরছেন। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর বা মন্ত্রণালয়ে কোথাও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পরীক্ষা হচ্ছে না, কোথাও পরীক্ষা হলেও নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে না, আবার কোথাও অনুমোদিত পদ থাকলেও নিয়োগের উদ্যোগ নিতে দীর্ঘ সময় লাগছে। ফলে চাকরির বাজারে প্রবেশের অপেক্ষাও দীর্ঘ হচ্ছে তরুণদের।

আবার শুধু ‘চাকরি কম’ বিষয়টি এত সরল নয়। সমস্যা হলো, একদিকে দ্রুত বাড়ছে উচ্চশিক্ষিত মানুষের সংখ্যা, অন্যদিকে পর্যাপ্ত নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না; আবার যে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, তার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতার সঙ্গেও অনেক গ্র্যাজুয়েটের যোগ্যতার মিল থাকছে না। ফলে ৪ বছর বা তার বেশি সময় পড়াশোনা শেষে পাওয়া সনদ কাউকে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা দেয় না। বিপরীতে নিয়োগদাতারাও প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়েন।

বেকার গ্র্যাজুয়েট ৮ লাখ ৮৫ হাজার: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের শ্রমশক্তির জরিপ অনুসারে, ২০২৪ সালে দেশে মোট বেকারের সংখ্যা ছিল ২৬ লাখ ২৪ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ৮ লাখ ৮৫ হাজার ছিলেন গ্র্যাজুয়েট। অর্থাৎ, মোট বেকারের বড় একটি অংশই উচ্চশিক্ষিত। শিক্ষাগত যোগ্যতা যত বাড়ছে, বেকারত্বের হারও তত বাড়ছে শ্রমবাজারের এই বৈপরীত্যই এখন বড় উদ্বেগের কারণ। ২০২৪ সালে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই এমন জনগোষ্ঠীর বেকারত্বের হার ছিল ১ দশমিক ২৫ শতাংশ। প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্নকারী ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ, মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্নকারী ২ দশমিক ৯১ শতাংশ, উচ্চমাধ্যমিকে ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষিতদের ক্ষেত্রে ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। অর্থাৎ, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করলেও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা মিলছে না; বরং শিক্ষিতদের একটি বড় অংশের জন্য ডিগ্রি শেষ হওয়ার পর শুরু হচ্ছে দীর্ঘ চাকরির অপেক্ষা। বিবিএসের একই জরিপে দেখা যায়, ২০২৪ সালে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ গ্র্যাজুয়েট ২ বছর পর্যন্ত বেকার ছিলেন। আবার এক-ষষ্ঠাংশের বেশি গ্র্যাজুয়েট ২ বছরেরও বেশি সময় চাকরির বাইরে ছিলেন।

বছরে ৬ লাখের বেশি নতুন গ্র্যাজুয়েট: শ্রমবাজারের এই সংকট আরও প্রকট হওয়ার কারণ প্রতি বছর উচ্চশিক্ষা শেষ করে বিপুলসংখ্যক তরুণের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ। বিশ্বব্যাংকের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে বাংলাদেশে প্রতি বছর সাড়ে ৬ লাখের বেশি উচ্চশিক্ষিত গ্র্যাজুয়েট শ্রমবাজারে প্রবেশ করেন। ২০১৯ সালের গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, গ্র্যাজুয়েশনের এক থেকে দুই বছর পরও অর্ধেকের কম গ্র্যাজুয়েট কর্মসংস্থানে যেতে পারে। ফলে প্রতি বছর নতুন করে চাকরিপ্রত্যাশীর সারিতে যুক্ত হচ্ছে লাখ লাখ তরুণ। বিদ্যমান বেকারদের বড় অংশের কর্মসংস্থান না হওয়ার আগেই নতুন চাকারিপ্রার্থীরা সেই সারি আরও দীর্ঘ করছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতার খবর ‘গ্যাস দিতে প্রস্তুত ৩২ কূপ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানিসংকট মোকাবিলা ও নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বর্তমান সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে স্থলভাগের যে ১৫০টি গ্যাস কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তার মধ্যে ৩২টি কূপের ড্রিলিং ও ওয়ার্কওভার কাজ শেষ হয়েছে। অর্থাৎ এই কূপগুলো এখন গ্যাস দিতে প্রস্তুত। তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) কাছ থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই ৩২ কূপের মধ্যে ১৬টির ড্রিলিং (অনুসন্ধান ও উন্নয়ন) কাজ শেষ হয়েছে। ওয়ার্কওভার কাজ শেষ হয়েছে আরও ১৬টির। এ ছাড়া বর্তমানে কাজ চলছে আরও ৬টি কূপের। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদিত হয়েছে ১৭টি কূপের, আর ডিপিপি অনুমোদনাধীন পর্যায়ে আছে ১৭টি। বাকি কূপগুলোর মধ্যে বেশ কিছু কূপ নির্ভরশীল কূপ, কিছু কূপের পরিস্থিতি অনুযায়ী কাজের পরিধি পরিবর্তন করা হবে, কিছু কূপের উৎপাদন ও কারিগরি অবস্থা বিবেচনা করে ওয়ার্কওভার কার্যক্রম শেষ করা হবে। এ ছাড়া কিছু কূপের অঙ্গভিত্তিক ব্যয় প্রাক্কলন চলছে। কিছু কূপের সামারি চূড়ান্ত পর্যায়ে। ওয়ার্কওভারের লক্ষ্যে কিছু কূপের ব্যাপারে প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, স্থলভাগে ১৫০টি কূপ খননকাজের গতি আরও বৃদ্ধি করা হচ্ছে। কূপগুলো খননে ডিপিপি অনুমোদন পেলে কাজের গতি বাড়বে। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জানিয়েছিলেন, ‘দেশীয় গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে মোট ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনা করা হচ্ছে।’ এ ছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ২ সেপ্টেম্বর সংসদে জানিয়েছিলেন, নতুন কূপ খননের লোকেশন চিহ্নিত করতে ব্লক-৭ ও ৯-এ প্রায় ৪ হাজার ৫০০ লাইস কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক ডেটা আহরণ করে উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের কাজ চলছে। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) মাধ্যমে হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনার ১ হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৩ডি সাইসমিক ডেটা আহরণের কাজ শুরু হয়েছে। মাঠপর্যায়ে আনুমানিক ১২৫ বর্গকিলোমিটার এলাকার সাইমমিক তথ্য আহরণ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া বাপেক্সের মাধ্যমে ভোলার চরফ্যাশনের ৬৬০ বর্গকিলোমিটার এলাকায়, ছাতক দোয়ারাবাজার ও জামালপুরে ৮৬০ বর্গকিলোমিটার এলাকায়, বিজিএফসিএলের মাধ্যমে তিতাস, হবিগঞ্জ এবং নরসিংদীসংলগ্ন ৬৩২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৩ডি, ২৫৫ লাইন কিলোমিটার এলাকায় ৩ডি সাইসমিক জরিপ এবং সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লি. (এসজিএফএল) কর্তৃক লাইয়াগাঁও, লালাবাজার, গোয়াইনঘাট, কৈলাশটিলা সাউথ এবং ফেঞ্চুগঞ্জ ওয়েস্ট স্ট্রাকচার-এ ৮৮২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৩ডি সাইসমিক জরিপ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। ১৫০টি কূপ খনন সম্পন্ন হলে এসব কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭৬২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে।

৩২ কূপের খনন শেষ : যে ৩২ কূপের খননকাজ শেষ হয়েছে সেগুলোর মধ্যে এসজিএফএলের আওতায় রয়েছে ১৪টি কূপ। এগুলো হচ্ছে বিয়ানীবাজার-১ (ওয়ার্কওভার), কৈলাশটিলা-২ (ওয়ার্কওভার), রশিদপুর-২ (ওয়ার্কওভার), কৈলাশটিলা-৮ (অনুসন্ধান), সিলেট-৭ (ওয়ার্কওভার), সিলেট-১০ (অনুসন্ধান), রশিদপুর-৫ (ওয়ার্কওভার), কৈলাশটিলা-৭ (ওয়ার্কওভার), রশিদপুর-৩ (ওয়ার্কওভার), কৈলাশটিলা-১ (ওয়ার্কওভার), বিয়ানীবাজার-২ (ওয়ার্কওভার), রশিদপুর-১১ (অনুসন্ধান), সিলেট-১১ (উন্নয়ন), সিলেট-১০ এক্স (অনুসন্ধান)।

বাপেক্সের আওতায় শেষ হয়েছে ১১টি কূপ খননের কাজ। এগুলো হচ্ছে ভোলা নর্থ-২ (উন্নয়ন), টবগি-১ (অনুসন্ধান), ইলিশা-১ (অনুসন্ধান), শ্রীকাইল নর্থ-১ (অনুসন্ধান), শরীয়তপুর-১ অনুসন্ধান, সুন্দলপুর-৩ (উন্নয়ন), বেগমগঞ্জ-৪ ওয়েস্ট (উন্নয়ন), জামালপুর-১ (অনুসন্ধান), শ্রীকাইল-৫ (উন্নয়ন), সেমুতাং-৬ (ওয়ার্কওভার), রূপগঞ্জ-১ (ওয়ার্কওভার)।

বিজিএফসিএলের আওতায় শেষ হয়েছে ৭টি গ্যাস কূপ খননের কাজ। এগুলো হচ্ছে তিতাস-২৪ (ওয়ার্কওভার), তিতাস-১৪ (ওয়ার্কওভার), তিতাস-১৬ (ওয়ার্কওভার), হবিগঞ্জ-৫ (ওয়ার্কওভার), বাখরাবাদ-৭ (ওয়ার্কওভার), তিতাস-২৮ (উন্নয়ন) এবং কামতা-২ উন্নয়ন।

খননকাজ চলছে ৬টিতে : বর্তমানে যে ৬টি কূপে খননকাজ চলছে সেগুলো হলো, এসজিএফএলের রশিদপুর-৩-এর অনুসন্ধানকাজ, বাপেক্সের সুন্দলপুর-৪-এর উন্নয়নকাজ, সুন্দলপুর সাউথ-১-এর অনুসন্ধানকাজ এবং ভোলা নর্থ-৩-এর উন্নয়নকাজ, বিজিএফসিএলের তিতাস-৩১ ডিপ অনুসন্ধান এবং তিতাস-২৯-এর উন্নয়নকাজ।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার: প্রভাবশালীরা ধরা পড়েনি, চুনোপুঁটিরা কারাগারে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে বেসরকারি সংস্থা রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির নেতারা। এ ঘটনায় সমিতির সম্পাদক শাহ আলম গাজীকে গ্রেপ্তার করা হলেও প্রভাবশালী সদস্যরা ধরা পড়েনি। গত দুদিনে পুলিশ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করলেও তাদের অনেকেই শাহ আলী এলাকার ভাড়াটে।

গতকাল রোববার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, মিরপুর-১ এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের ধ্বংসস্তূপের সামনে বসে দ্বিতীয় দিনেও প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন। তবে সেটি সীমিত পরিসরে।

জুলিয়া বেগম নামে এক নারী জানান, তিনি তাঁর ছয় মাস বয়সী মেয়েকে টিকা দিতে নিয়ে এসেছেন। বাসার কাছে হওয়ায় এখান থেকে টিকা দেন তিনি।

প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ হামলায় যারা জড়িত, তাদের উপযুক্ত বিচারের দাবি জানাই। প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, আগে এই কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ জনকে সেবা দেওয়া হতো। গতকাল সেবা নিয়েছেন ৪৭ জন।

ডিএমপির মিরপুর বিভাগের সহকারী কমিশনার জাকির হোসেন সমকালকে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও মামলার তদন্তে তাদের জড়িত থাকার তথ্যের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে যাদেরই নাম আসবে, গ্রেপ্তার করা হবে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে কয়েকশ লোক জড়ো হয়ে লুটপাট ও ভাঙচুর চালায়। পরে হামলাকারীরা সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় পরদিন শাহ আলী থানায় একটি মামলা করেন রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার। মামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য হানিফ মিয়াসহ ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়।

সমবায় অফিস সূত্রে জানা গেছে, সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি সরকারের রেজিস্টার্ড। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এতে সভাপতি মিজানুর রহমান হাজরা, সহসভাপতি কামাল উদ্দিন আহম্মদ, সম্পাদক মজিবুর রহমান গাজী, কোষাধ্যক্ষ কামাল হোসেন, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, মোহাম্মদ ছাকাওয়াত উল্ল্যাহ, আল-আমিন, কবির হোসেন গাজী ও আবু বকর ছিদ্দিক। তবে সমবায় অফিসের কাছে জমা দেওয়া এই ব্যবস্থাপনা কমিটিতে সহসভাপতি পদে ‘কো-অপ্ট’ করা হয় কাজী মকবুল হোসেন এবং সম্পাদক পদে শাহ আলম গাজীকে।

সমিতির একাধিক সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির বর্তমান সদস্য ৯১ জন। এর মধ্যে সদস্য রয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিএনপি নেত্রী ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য হানিফ মিয়া, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব ‎মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেল, আব্দুর রহমান হাজরা, মাহবুবুর রহমান শান্ত ও মনির হোসেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থনেই রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয় যুবদল, ছাত্রদলের নেতারা নানা ভূমিকায় ছিলেন। ভাঙচুরে অংশ নেওয়া অধিকাংশ মুখোশ পরা ছিল। এ ছাড়া শাহ স্মৃতি মার্কেটের নুরুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী ভাঙচুরে জড়িত ছিলেন।

এ ঘটনায় পুলিশ সমিতির সম্পাদক শাহ আলম গাজীসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যরা হলেন– শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন, আতিকুর রহমান, কামরুল ইসলাম, শাকিল, সোহেল, জুয়েল, জিহাদ হাসান ও রাব্বি। তাদের সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

১৪ জন দুই অংশেরই সদস্য

মিরপুর-১ নম্বরে ১০ কাঠা জমির ওপর স্থাপিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ৫০ বছর ধরে গরিব, অসহায় মা ও শিশুদের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিয়ে নব্বইয়ের দশকে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড গঠন করা হয়। ২০০১ সালের দিকে সমিতিটি ভাগ হয়ে যায়। একই রেজিস্ট্রেশন থাকলেও দুটি কমিটি করা হয়। একটিতে বর্তমানে সদস্য ৫৬ জন। তবে বর্তমানে এই অংশের কোনো কমিটি নেই। সমিতির অন্য অংশের সভাপতি মিজানুর রহমান হাজরা। এ কমিটির অধীনে সমিতির সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিসহ ৯১ জন। এর মধ্যে ১৪ জন দুই অংশেই রয়েছেন বলে জানা যায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে এই সমিতি জমিটি বরাদ্দ পায়। তৎকালীন স্থানীয় কাউন্সিলর ও সমিতির সদস্য মিষ্টি সেটি বরাদ্দের টাকাও জমা দেন। ২০২১ সালের দিকে সমিতির নামে জমিটি রেজিস্ট্রেশন হয়। কিন্তু দখল হয়নি। এরই মধ্যে সমিতির অন্য অংশ আদালতে একটি মামলা করে। সে মামলা চলমান।

মালপত্রের একটি অংশ বিক্রি হয় ভাঙাড়ির দোকানে

মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ঘরে থাকা আসবাব ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হয়। আলট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রী, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ, এসি ও স্টিলের আলমারি নিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লুট হওয়া মালপত্রের কিছু অংশ স্থানীয় কয়েকটি ভাঙাড়ি দোকানে পাওয়া যায়। ভাঙচুরের সময় ব্যবহার করা এক্সক্যাভেটরটি স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতা নিয়ে এসেছিলেন। আর ঘটনার সময় একটি গাড়িতে করে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতারা আশপাশে অবস্থান করেছে। ঘটনার সময়ের একটি সিসিটিভি ফুটেজে সাদা রঙের মাইক্রোবাসও দেখা গেছে।

দায়িত্বে গাফিলতি, ওসি প্রত্যাহার

রাড্ডা সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় গত শনিবার পুলিশ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এ কমিটিকে শনিবারই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে শাহ আলী থানার ওসির দায়িত্বে গাফিলতি পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

তদন্ত কমিটির সূত্রে জানা যায়, দখলের বিষয়টি শাহ আলী থানার সদ্য সাবেক ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানতেন। কিন্তু তিনি আইনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। সিনিয়র কর্মকর্তাদেরও যথাসময়ে বিষয়টি অবহিত করেননি। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ঘটনাটি জানার বেশ কিছু সময় পর তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তিনি নীরব দর্শকের মতো ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার সুপারিশও করা হবে।

এদিকে ঘটনার দুই দিন পর গতকাল ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তাঁকে কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।

ধ্বংসযজ্ঞ দেখে মর্মাহত প্রতিমন্ত্রী

প্রয়োজনীয় সংস্কার করে সোমবার থেকেই রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। রোববার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে তিনি বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সেবা দিয়ে আসা এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কোনোভাবেই ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না। আগামীকাল (আজ) থেকেই আমরা কেন্দ্রটি সংস্কারের কাজ শুরু করব।

আইনি দাবি থাকলে আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা উত্থাপন করতে পারে। রাতের অন্ধকারে বুলডোজার দিয়ে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে ফেলার অধিকার কারও নেই বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

এমপির নেতৃত্বে ধ্বংসযজ্ঞ–আসিফ মাহমুদ

‎দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, বিএনপির একজন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপির নেতৃত্বে আমরা দেখলাম ধ্বংসযজ্ঞ, লুটতরাজ, একটা মবতন্ত্র কায়েম করা হলো। গরিব মানুষের গরিব বাচ্চাদের এই যে টিকা লুট করে আপনারা কী প্রমাণ করতে চান? আপনারা ধনীদের থেকে চাঁদাবাজি করেন, ব্যবসায়ীদের থেকে চাঁদাবাজি করেন। ইসিবিতে আমরা দেখলাম, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে আপনারা ভয়ানক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন।

রোববার দুপুর ১২টার পর আসিফ মাহমুদের নেতৃত্বে এনসিপির একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসে। এ সময় সেখানে লাগানো ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’-এর একটি সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেন এনসিপির কর্মীরা। আরেকটি সাইনবোর্ড কালো কালি দিয়ে মুছে দেন এবং ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন।

দুপুরে রাড্ডা সেন্টার পরিদর্শন শেষে চিকিৎসক ও রাজনীতিক তাসনিম জারা বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর চলার পরও পুলিশ কেন তা ঠেকাতে পারেনি? এমন পরিস্থিতি থাকলে মানুষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর কীভাবে আস্থা রাখবে? পুরো ঘটনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।