মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহৃত বৃটেনের একটি বিমানঘাঁটির কাছে কয়েকটি বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় বিস্ফোরক সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। গ্লুচেস্টারশায়ার পুলিশ বলেছে, সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দল কয়েকটি যানবাহন পরীক্ষা করছে। এ ঘটনায় বড় ধরনের জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের হুইলফোর্ড এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়ির বাসিন্দাদেরকে কাছের একটি অবসরকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরক আইনের আওতায় অপরাধের সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হুইলফোর্ড শহরটি আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের কাছে অবস্থিত। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধে হামলা চালানোর সময় মার্কিন বাহিনী এই বিমানঘাঁটি ব্যবহার করেছে। ঘটনাস্থলে থাকা রয়টার্সের এক প্রতিবেদক জানিয়েছেন, সশস্ত্র পুলিশ ঘাঁটির প্রধান ফটকে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। প্রবেশপথগুলোতেও বিভিন্ন সরঞ্জাম রাখা হয়েছে। কাছের ফেয়ারফোর্ড শহরে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও দমকলের গাড়িসহ প্রায় ৩০টি জরুরি সেবার যান মোতায়েন করা হয়েছে। গ্লুচেস্টারশায়ার পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি। এ কথা জানিয়ে তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করতে চায়। তবে কী কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বিস্ফোরক পাওয়া গেছে কি না কিংবা সন্দেহভাজন অপরাধের সঙ্গে বিমানঘাঁটির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মার্কিন বিমানবাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে তারা অবগত। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করতে তারা রাজি হয়নি। মার্কিন বিমানবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বৃটেনে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহিনীর ইউনিট ‘ফাইভ-জিরো-ওয়ানস্ট কমব্যাট সাপোর্ট উইং’ এবং অন্যান্য মার্কিন ইউনিট সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। সামরিক সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। মার্চে তিনটি মার্কিন বি-১বি ল্যান্সার বোমারু বিমান আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে অবতরণ করে। ধারণা করা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রথম হামলা অভিযান পরিচালিত হয়েছিল বৃটেনের একটি ঘাঁটি থেকে।
ইরান যুদ্ধের সময় এই অভিযান চালানো হয়। ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) দেশটির নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি কাজ করা একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী। জুলাইয়ে তারা সতর্ক করে, ইরানে হামলা চালানোর জন্য যেসব ঘাঁটি ব্যবহার করা হয়, সেগুলোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। তবে রোববারের গ্রেপ্তারের সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি। একইভাবে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, এমন কথাও তারা বলেনি।
