যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দুই শতাব্দীরও বেশি সময় পর প্রথম কোনো নারী কয়েদির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে। আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বর বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে ক্রিস্টা পাইক নামের ৫০ বছর বয়সী ওই নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দিন ধার্য রয়েছে। ১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে নির্মমভাবে নির্যাতনের পর হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন তিনি। তবে দীর্ঘদিনের শৈশব নির্যাতন ও মানসিক ভারসাম্যহীনতার যুক্তি তুলে ধরে তার প্রাণভিক্ষার আবেদন জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
ঘটনার সময় ক্রিস্টা পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর। প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে তিনি ও তার তৎকালীন বয়ফ্রেন্ড মিলে কলিন স্লেমার নামের এক কিশোরীকে হত্যা করেন। নিহতের বুকে শয়তানের প্রতীক কেটে বিকৃত উপায়ে লাশ ফেলে রাখা হয়েছিল, যা সে সময় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। বিচারিক আদালত পাইককে মৃত্যুদণ্ড দিলেও তার সঙ্গীকে প্যারোলে মুক্তির সুযোগসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। সব ধরনের আপিল খারিজ হওয়ার পর টেনেসি সুপ্রিম কোর্ট তার মৃত্যুদণ্ডের দিন চূড়ান্ত করেছে। ১৯৭০ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৬৬৩ জন পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলেও নারী কয়েদির ক্ষেত্রে এই সংখ্যা মাত্র ১৮।
আইনজীবীদের দাবি, শৈশবে চরম যৌন নির্যাতন, অবহেলা এবং ধর্ষণজনিত তীব্র মানসিক আঘাতে আক্রান্ত ছিলেন পাইক। পরবর্তী সময়ে কারাগারে তার বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) ধরা পড়ে। সাবেক আইনজীবী বিচারের সময় এসব মনস্তাত্ত্বিক তথ্য জুরিবোর্ডের সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এই সাজা স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে নিহত তরুণীর মা মে মার্টিনেজ অবিলম্বে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানিয়ে বলেছেন, মেয়ের আত্মার শান্তির জন্য এই বিচার দেখা তার জন্য জরুরি। অঙ্গরাজ্যের গভর্নর বিল লি শেষ মুহূর্তে ক্ষমা না করলে নির্ধারিত দিনেই এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।
