হাসিনার ফেরার রোডম্যাপ!

সহযোগীদের খবর

হাসিনার ফেরার রোডম্যাপ!

ফন্ট সাইজ:

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘হাসিনার ফেরার রোডম্যাপ!’। প্রতিবেদনে বলা হয়,বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর প্রশ্নটি হলো-আসছে ডিসেম্বরে কী ঘটতে চলেছে? পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ভারতের নয়াদিল্লি থেকে আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হওয়ার পরিকল্পনা করছেন- এমন আন্তর্জাতিক ও গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশের পর থেকেই দেশজুড়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠ মহল আকাশ ও স্থলপথের একাধিক বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে ছক কষছে বলে জানা গেছে। একই সাথে দেশের ভেতরের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরকার শুদ্ধি অভিযান এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন এই পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।

প্রত্যাবর্তনের প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক সংযোগ

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলনের মুখে দেড় দশকের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই তিনি মূলত ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন। তার বিরুদ্ধে দেশে একাধিক হত্যা মামলা, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারপ্রক্রিয়া ও বিচারিক রায় চলমান রয়েছে। এই নির্বাসিত অবস্থানের পর আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তিনি দাবি করেছেন, পলাতক থেকে আইনি লড়াই চালানোর চেয়ে নিজ মাটিতে ফিরে আত্মপক্ষ সমর্থন করা শ্রেয়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, এই ঘোষণা কেবল আইনি লড়াইয়ের অংশ নয়, বরং এটি ভেঙে পড়া দলীয় মনোবল চাঙ্গা করার একটি সুদূরপ্রসারী কৌশলও হতে পারে। এই সময়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কেও এক ধরনের শীতলতা বিরাজ করছে, যা এই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে আরো বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আকাশ ও স্থলপথের সম্ভাব্য রুটম্যাপসমূহ

গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ডিসেম্বরে সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের জন্য শেখ হাসিনা ও তার নীতিনির্ধারকরা একাধিক রুটম্যাপ তৈরি করেছেন। আকাশ ও স্থল-উভয় মাধ্যমকেই বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে।

আকাশপথের পরিকল্পনা : গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আকাশপথের বেশ কিছু স্পর্শকাতর রুটের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নয়াদিল্লি থেকে সরাসরি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ কিংবা সংবেদনশীল কোনো স্থানে প্রবেশের কৌশল। আরেকটি বিকল্প ম্যাপে হেলিকপ্টার ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে- যেখানে নয়াদিল্লি থেকে উড্ডয়ন করে সরাসরি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় (শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি কমপ্লেক্সের পার্শ্ববর্তী হেলিপ্যাডে) অবতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া আরেকটি ম্যাপে দিল্লি থেকে হেলিকপ্টারে প্রথমে কলকাতায় নেমে, সেখান থেকে যশোরের বিমানবন্দরে এবং পরবর্তীতে একই হেলিকপ্টারে ঢাকার সংবেদনশীল এলাকায় প্রবেশের ছক কষা হয়েছে।

স্থলপথ বা সড়কপথের রুট বিবরণী : স্থলপথে ভারত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য

গোয়েন্দা তথ্যে সাতটি প্রধান রুট চিহ্নিত করা হয়েছে :

১. প্রথম রুট : দিল্লি থেকে আগ্রা হয়ে লখনৌ, প্রয়াগরাজ, বারাণসী ও কলকাতা হয়ে পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ এবং যশোর হয়ে ঢাকা।

২. দ্বিতীয় রুট : দিল্লি থেকে আগ্রা, লখনৌ, বারাণসী ও কলকাতা হয়ে ঘোজাডাঙ্গা (ভারত) থেকে ভোমরা স্থলবন্দর (বাংলাদেশ) হয়ে খুলনা ও ঢাকা।

৩. তৃতীয় রুট : দিল্লি থেকে লখনৌ, বারাণসী, পাটনা ও মালদার মহদীপুর (ভারত) হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ ও রাজশাহী হয়ে ঢাকা।

৪. চতুর্থ রুট : দিল্লি থেকে লখনৌ, বারাণসী, পাটনা ও শিলিগুড়ির হিলি (ভারত) হয়ে দিনাজপুরের হিলি (বাংলাদেশ) ও ঢাকা।

৫. পঞ্চম রুট : দিল্লি থেকে লখনৌ, গোরখপুর, শিলিগুড়ি ও চ্যাংড়াবান্ধা (ভারত) হয়ে বুড়িমারী (বাংলাদেশ) ও রংপুর হয়ে ঢাকা।
৬. ষষ্ঠ রুট : দিল্লি থেকে লখনৌ হয়ে গুয়াহাটি, শিলং ও ডাউকি (ভারত) হয়ে তামাবিল ও সিলেট হয়ে ঢাকা।

৭. সপ্তম রুট : দিল্লি থেকে লখনৌ হয়ে গুয়াহাটি ও আগরতলা হয়ে আখাউড়া ও কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে ঢাকা প্রবেশ।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সৈয়দপুর ও বরিশালের বিমানবন্দর ব্যবহার করে সড়কপথে নিকটবর্তী শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার একটি দূরুত্বভিত্তিক কৌশলগত নকশাও গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে বলে জানা গেছে।

ডাটাবেজ তৈরি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রস্তুতি

ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে দেশের ভেতরে প্রশাসনিক ও গোয়েন্দা তৎপরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দেশের সব বিমানবন্দর কর্মকর্তা, স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা, সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি কর্মকর্তা এবং সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারদের একটি তালিকা দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাজধানীতে আওয়ামীপন্থী পুলিশ সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাদের ডাটাবেজ তৈরির কাজও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।
এই তথ্যাবলি সংগ্রহ ও সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির একটি ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের আগে মাঠপর্যায়ে জনমনে ভীতি ও কৃত্রিম অস্থিরতা তৈরির একটি সুদূরপ্রসারী চক্রান্তের অংশ। এর ফলে পুলিশ ও প্রশাসনের ভেতর ঘাপ্টি মেরে থাকা চক্রগুলোকে চিহ্নিত করতে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে।

আইনি লড়াই বনাম আত্মসমর্পণের কৌশল

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের নেপথ্যে আইনি মারপ্যাঁচ এবং রাজনৈতিক টিকে থাকার লড়াই কাজ করছে। পলাতক থেকে আন্তর্জাতিক ও আইনি চাপে থাকার চেয়ে আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে আইনি মোকাবেলা করাকে কেউ কেউ কৌশলগত পথ হিসেবে দেখছেন। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক সহানুভূতি অর্জন ও দলকে উজ্জীবিত করার সুযোগ থাকে।

তবে দেশের বর্তমান আইনি কাঠামো এবং ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রেক্ষাপটে এই আত্মসমর্পণ বেশ জটিল। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাজাপ্রাপ্ত বা গুরুতর মামলার পলাতক আসামি হিসেবে দেশে ফিরলে তাৎক্ষণিক আইনি প্রক্রিয়া মোকাবেলা করা একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ হবে। জামিন পাওয়া বা আইনি প্রক্রিয়ায় স্বস্তি পাওয়া তখন সহজ নাও হতে পারে। তা ছাড়া, বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে দীর্ঘমেয়াদি আইনি লড়াইয়ের আইনি ও রাজনৈতিক পরিণতি কী দাঁড়াবে, তা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক ও মতভেদ রয়ে গেছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন ও রক্তপাতের আশঙ্কা

ডিসেম্বরের এই প্রত্যাবর্তন পরিকল্পনা দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলন-পরবর্তী রাজনৈতিক ক্ষত এবং জনমনে জমে থাকা ক্ষোভ এখনো পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। এই অবস্থায় হঠাৎ করে এ ধরনের কোনো প্রচেষ্টা বাস্তবায়িত হলে সীমান্ত এলাকা ও রাজধানীজুড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।
প্রখ্যাত নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব:) ফজলে এলাহী আকবর এ বিষয়ে নয়া দিগন্তকে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বুঝতে হবে। সেনাবাহিনী বা অন্য কোনো বাহিনী যদি সাবেক সরকারপ্রধানকে ফিরিয়ে আনতে চায়, সাধারণ মানুষ তা কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না। এ ধরনের গুজব কেবল সেনাবাহিনীর মনোবল দুর্বল করার অপচেষ্টা মাত্র।’

রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (রাওয়া) প্রেসিডেন্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) মোহাম্মদ আবদুল হক মন্তব্য করেছেন, ‘তিনি যদি অপরাধী না হন এবং সাহস থাকে, তবে দলবল নিয়ে আইনগতভাবে দেশে ফিরে আসুন। দেশের মানুষ তাকে স্বাগত জানালে প্রচলিত আইন ও আদালতের মাধ্যমেই তার বিচার হবে।’

অন্য দিকে, পুলিশ সদরদফতরের অতিরিক্ত আইজিপি মো: সাইদুর রহমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেকোনো নাগরিকের দেশে ফেরার সাংবিধানিক অধিকার থাকলেও তাকে অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইনের মধ্য দিয়েই আসতে হবে। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে বাড়তি কোনো অহেতুক বিশৃঙ্খলা তৈরির সুযোগ দেয়া হবে না। কিশোর গ্যাং ও মাদকের মতো অভ্যন্তরীণ অপরাধ দমনের পাশাপাশি দেশবাসীর নিরাপত্তায় পুলিশ সর্বদা সতর্ক রয়েছে।

পরিশেষ

ডিসেম্বরের এই সম্ভাব্য রুটম্যাপ এবং প্রত্যাবর্তনের আলোচনা কেবল একটি রাজনৈতিক গুঞ্জন নয়, বরং এটি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, কূটনীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর এক গভীর ছায়া ফেলেছে। একদিকে সরকারের কঠোর আইনি অবস্থান ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি এবং অন্য দিকে সাবেক ক্ষমতাসীন দলের মাঠ পুনর্গঠনের কৌশল- সব মিলিয়ে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের রাজনীতি এক সংবেদনশীল ও টার্নিং পয়েন্টের মুখোমুখি দাঁড়াতে যাচ্ছে।

প্রথম আলো

‘সরকারি চাকরি: গোয়েন্দা দিয়ে যাচাই বন্ধ হয়নি’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদের চাকরির পরীক্ষায় ভালোভাবেই উত্তীর্ণ হয়েছিলেন পিরোজপুরের মো. জাহিদ হাসান। জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলায় সুপারিশপ্রাপ্ত ৮৩ জনের মধ্যে জাহিদের মেধাক্রম ছিল ৫৪তম। নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশও পেয়েছিলেন তিনি।

অবশ্য অন্য অনেকে নিয়োগপত্র পেলেও জাহিদ পাননি। তাঁর সন্দেহ, যাচাই বা ভেরিফিকেশনের নামে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী জাহিদের কোটাও ছিল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নিয়োগপত্র না পাওয়ার খবরটি শোনার পর মা কাঁদতে শুরু করেন। বাবা ভেঙে পড়েছেন।

শুধু জাহিদ নন, তাঁর মতো শত শত চাকরিপ্রার্থীকে যাচাইয়ের নামে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সূত্র বলছে, পুলিশের পাশাপাশি একটি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাইয়ের কাজটি করানো হয়েছে।

এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের মোর্চা বলছে, তারা ৬১ জেলার মধ্যে ৫৫টি জেলার নিয়োগ হওয়ার তথ্য পেয়েছে। বাদ পড়ার সংখ্যা ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি। উল্লেখ্য, পার্বত্য তিন জেলায় নিয়োগ হয় জেলা পরিষদের মাধ্যমে। আর ছয়টি জেলায় নিয়োগের তালিকা গতকাল শনিবার রাত নয়টা পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার দাবি সঠিক কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রথম আলো ১১টি জেলার প্রাথমিক

শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে জানতে পেরেছে, এসব জেলায় বাদ পড়ার সংখ্যা ৫৫৪। জেলাগুলো হলো ময়মনসিংহ, রংপুর, দিনাজপুর, ঝালকাঠি, নীলফামারী, কুষ্টিয়া, জামালপুর, মৌলভীবাজার, চাঁদপুর, নড়াইল ও সুনামগঞ্জ।

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে ৬১টি জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। তাঁদের ১ অক্টোবর যোগ দেওয়ার কথা। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। তখন সেই তালিকায় নাম না থাকা ব্যক্তিদের তথ্য বেরিয়ে আসে। মোট কতজনের কাছে নিয়োগপত্র পাঠানো হয়েছে, সে তথ্য পাওয়া যায়নি।

চাকরি না পাওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে নিয়োগপত্র না পাওয়ার কথা জানান।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ নিয়ম হলো, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকলে এবং অপরাধে জড়ানোর তথ্য থাকলে তাঁকে নিয়োগের জন্য অনুপযুক্ত বিবেচনা করা যায়; কিন্তু বাস্তবে যাচাইয়ের নামে প্রার্থী বা তাঁর পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা খোঁজা হয় এবং তা দেখে নিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক/নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়। এই চর্চা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তা বন্ধ হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলেও তা দেখা যাচ্ছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের প্রথম আলোকে বলেন, এমন অন্যায়ের বিরুদ্ধেই গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। তিনি বলেন, প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের মতো জায়গায়ও রাজনৈতিক বিবেচনা অশনিসংকেত।

দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী এক কোটির বেশি। শিক্ষক রয়েছেন পৌনে চার লাখের মতো। এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ৩৬ হাজারের বেশি পদ শূন্য। সহকারী শিক্ষকের কয়েক হাজার পদও শূন্য রয়েছে।

বর্তমান নিয়োগবিধি অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে ৮০ শতাংশ নিয়োগ হয় সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে। সরাসরি নিয়োগ হয় ২০ শতাংশ। তবে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়ে একটি মামলা চলছিল। গত বছরের জুলাইয়ে উচ্চ আদালতের রায়ে সেই জটিলতা কেটে যায়। এরপর প্রধান শিক্ষকের পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই সহকারী শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়। ওই সরকারের একেবারে শেষ পর্যায়ে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

উত্তীর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নথিপত্র জমা না দেওয়ায় নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। যেমন ময়মনসিংহ জেলায় নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পেয়েছিলেন ২৫৯ জন। তাঁদের মধ্যে নিয়োগপত্র বা নিয়োগের তালিকায় আছেন ২১৭ জন। অর্থাৎ ৪২ জন নিয়োগপত্র পাননি। ময়মনসিংহের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ১৮ জন নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। তাঁরা হয়তো চাকরিতে যোগ দেবেন না। এর বাইরে আরও ২৪ জন নিয়োগপত্র পাননি।

সূত্র বলছে, সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে একটি বড় অংশ নিয়োগপত্র পায়নি গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক (বিরূপ) মন্তব্যের কারণে।

এ বিষয়ে গতকাল বিকেলে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, নিয়োগপত্র প্রাপ্তি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে ১ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকলে তা পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন/ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।

যাচাই কীভাবে হয়

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাইয়ের চর্চাটি পুরোনো। এটি চালু হয়েছিল ব্রিটিশ আমলে। ওই সময় মূলত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন দমন করতে চাকরিপ্রার্থীদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হতো।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও এই চর্চা বাদ দেওয়া হয়নি। সূত্র জানিয়েছে, পুলিশি যাচাইয়ে মূলত নির্ধারিত ফরমে উল্লেখিত বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ফৌজদারি, রাজনৈতিক বা অন্য কোনো মামলায় গ্রেপ্তার, অভিযুক্ত বা দণ্ডিত হওয়ার ইতিহাস আছে কি না, নজরবন্দী বা বহিষ্কৃত হলে তার তারিখসহ পূর্ণ বিবরণ ইত্যাদি। তবে পুলিশি যাচাইয়ের বাইরে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমেও প্রার্থী সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

দলীয় সরকারগুলো সাধারণত গোয়েন্দা সংস্থার যাচাইয়ের মাধ্যমে বিরোধী দল ও মতের অনুসারী, তাঁদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করে এবং নিজেদের লোকদের নিয়োগ নিশ্চিত করে। জনপ্রশাসনের দলীয়করণও করা হয় এই যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন পদোন্নতির ক্ষেত্রে পুলিশ বা কোনো গোয়েন্দা বিভাগের কাছে রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাওয়ার প্রথা বাতিল করার সুপারিশ করে। কারণ হিসেবে কমিশন বলেছে, এ স্তর থেকেই জনপ্রশাসনে রাজনীতিকরণ শুরু হয়। এ ছাড়া কমিশন লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফল ঘোষিত হওয়ার আগে কোনো প্রার্থীর পুলিশি যাচাই বাতিল করার সুপারিশ করে।

কমিশন প্রতিবেদনে বলেছিল, বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত নিয়োগের আগে পুলিশ বিভাগের কাছে শুধু সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা আছে কি না, সে সম্পর্কে প্রতিবেদন চাইবে। প্রয়োজনে মন্ত্রণালয় দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রতিবেদন চাইতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জানানো হয়েছিল, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২৮তম বিসিএস থেকে ৪২তম বিসিএস পর্যন্ত সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশ করা অনেক প্রার্থী নিয়োগবঞ্চিত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্য থেকে ২৫৯ জনকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়।

কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও অভিযোগ ওঠে যে তারাও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করে অনেককে বাদ দিয়েছে। যেমন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৪৩তম বিসিএসের ১ হাজার ৮৯৬ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই নিয়োগে পিএসসির সুপারিশ পাওয়া ২৬৭ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

তখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ২২৭ জন প্রার্থীর বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার বিরূপ মন্তব্য ছিল। এ কারণে তাঁদের সাময়িকভাবে নিয়োগের অনুপযুক্ত বিবেচনা করা হয়। বাকি ৪০ জন স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেননি। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। তখন মন্ত্রণালয় বলেছিল, নিয়োগের জন্য অনুপযুক্ত ২২৭ জনের যে কেউ পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে তা গ্রহণ করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে সরকারি চাকরিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, চাকরিতে নিয়োগ-পদোন্নতির ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন দেওয়ার আইনগত কোনো সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে পুলিশ যাচাই করতে পারে। পুলিশ যদি কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ, দাগি অপরাধী হওয়া বা এ ধরনের কোনো অপরাধের তথ্য পায়, কেবল সে ক্ষেত্রে ওই প্রার্থীকে বাদ দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু দুঃখজনক হলো, অতীতেও নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে।

ফিরোজ মিয়া বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় চাকরিপ্রার্থীকে বাদ দেওয়ার সংস্কৃতি পুরো জনপ্রশাসনকেই বিশৃঙ্খল করে তোলে। এখনো যদি এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে, তাহলে সেটি কোনোভাবেই ভালো লক্ষণ নয়।

দুশ্চিন্তায় তাঁরা

দেশে এখন কর্মসংস্থানের সুযোগ কম। সরকারি নিয়োগ বেশি নয়, বেসরকারি খাতে মন্দাভাব চলছে। এ সময় একটি সরকারি চাকরির সুপারিশ পেয়েও নিয়োগ না পাওয়ায় হতাশ অনেকে।

সহকারী শিক্ষকদের পদটি সরকারি বেতনকাঠামোর ১৩তম ধাপের (গ্রেড)। নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী এই পদে শুরুতে ভাতাসহ মোট বেতন হবে সর্বনিম্ন প্রায় ৩৬ হাজার টাকা। ফলে চাকরিটি আকর্ষণীয়।

চাকরিপ্রার্থীদের কেউ কেউ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাদ পড়ায় উদ্বিগ্ন। তাঁরা মনে করছেন, একই কারণে তাঁদের হয়তো আর কোনো সরকারি চাকরি পাওয়া হবে না। সেটা জানানোও হচ্ছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দিনাজপুরের একজন চাকরিপ্রার্থী প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ও তাঁর পরিবারের কেউ কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। তারপরও কেন তাঁকে বাদ দেওয়া হলো, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি শঙ্কিত। অন্য চাকরিতেও তাঁকে সমস্যায় ফেলা হতে পারে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ছোট পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি, জায়গা খুঁজছে চীন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ছোট আকারে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বসাতে আগ্রহী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। দুই দেশই প্রাথমিকভাবে ৩০০ থেকে ১ হাজার মেগাওয়াটের স্মল মডিউলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর) বসাতে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা করছে। এ নিয়ে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৫ বছর মেয়াদি একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ চুক্তিতে সই করেন। অন্যদিকে চীনের একটি প্রতিনিধিদল সম্ভাব্য স্থান হিসাবে জামালপুরের মাদারগঞ্জ পরিদর্শন করেছে। তবে এলাকাটি অত্যন্ত জনবসতিপূর্ণ হওয়ায় সেটি এসএমআরের জন্য উপযুক্ত নয় বলে জানায় পিডিবি।

এ বিষয়ে পিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত এসএমআর প্রযুক্তিতে ৯০০ থেকে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র বসাতে সরকার আগ্রহী। কিন্তু এসএমআর বা ছোট পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্পর্শকাতর। যেখানে-সেখানে বসানো যাবে না। সব প্রযুক্তি গ্রহণও করা যাবে না। তাই দেখে শুনে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

দেশের রূপপুরে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বসানো হয়েছে। রাশিয়ার রোসাটম প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এই কেন্দ্র বসিয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর কথা ছিল। কিন্তু এখনো রূপপুর থেকে নানা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়নি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য এখনো অনেকটা সাশ্রয়ী পরমাণু প্রযুক্তির বিদ্যুৎ। কিন্তু সমস্যা হলো, নিরাপত্তা। বিশেষ করে, অতি ঘনবসতিপূর্ণ দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বসানো সহজ নয়। তবে দেশে ব্যাপক বিদ্যুতের চাহিদা দেখে সম্প্রতি সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এসএমআর বসানোর ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা চালাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে বিশ্বে এসএমআর এখন একটি ভালো প্রযুক্তি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে যা আছে: প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেন তারা। পাঁচ পাতার ওই স্মারকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিয়ম মেনে কেবল শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উন্নয়নে এই চুক্তি করা হচ্ছে। ১৯৮১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ধারাবাহিকতায় এই সমঝোতা। চুক্তির আওতায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ, প্রযুক্তি, জনবল প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র।

স্মারকে বলা হয়, দুদেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের কৌশল, নিরাপত্তা ও যৌথ রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরালো করা হবে। বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ, প্রযুক্তি, জনবলকে প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া বাংলাদেশে পরমাণু শক্তি উন্নয়ন, নিরাপত্তাসহ সব বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে। এই সমঝোতায় কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক বা স্থানীয় আইনের বাধ্যবাধকতা থাকবে না। কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে দুপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে সমাধান করে নেবে। সমঝোতার মেয়াদ থাকবে ৫ বছর। এরপর কোনো পক্ষ বাতিল না করলে আরও ৫ বছরের মেয়াদ থাকতে পারে।

এর আগে ২৬ আগস্ট ওয়াশিংটনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রীর বৈঠক হয়। সেখানেও পারমাণবিক প্রযুক্তি ও জ্বালানি খাতে যৌথভাবে কাজের আগ্রহ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র।

সংশ্লিষ্টরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের জিই এবং ভারনোভা হিটাচি কোম্পানি যৌথভাবে কানাডার অন্টারিওতে ৩০০ মেগাওয়াটের একটি এসএমআর বসাচ্ছে। বাংলাদেশ ওই জিই-র মাধ্যমেই এসএমআর বসাতে আগ্রহী।

কালের কণ্ঠ

‘পুলিশকে কড়া হুঁশিয়ারি’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, কোনো পুলিশ কর্মকর্তা জনপ্রত্যাশা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হলে তাঁর পরিণতি ভালো হবে না বলে সতর্ক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল শনিবার ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশ লাইন অডিটরিয়ামে ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’-এর পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তৃণমূল পর্যায় থেকে আইজিপি পর্যন্ত সবার কাছে একটাই মেসেজ দিতে চাচ্ছি—সমাজের প্রয়োজনে, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে, শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য, জনপ্রত্যাশা পূরণের জন্য আমরা কঠোর হতে বাধ্য হব।’

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পরে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী সমাজ গঠনের জন্য অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও পুলিশ সদস্যদের সংশোধনে গুরুত্বারোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা সুযোগ দিয়েছি সবাইকে সংশোধনের জন্য, জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আজকের দিনে এসে লোয়ার লেভেলে, মাঠ পর্যায়ে কর্তব্য পালনে অবহেলা করার এবং ক্ষেত্রবিশেষে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে কেউ কেউ গোপনে সংবাদ দিয়ে অথবা অন্যভাবে সহযোগিতা করার ইনফরমেশন আমাদের কাছে আছে। আমি গ্র্যাজুয়ালি যাচ্ছি, কিন্তু খুব নম্রভাবে সংশোধন হওয়ার সুযোগও দিয়েছি।’ পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ছাব্বিশের ৩১ ডিসেম্বর আসার আগে আপনাদের সেই পরিবর্তনটা দেখাতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ ও সেবামূলক কাজের জন্য ৯৮ জনকে বিপিএম ও পিপিএম পদক দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, ‘পুলিশের কারো কারো বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে গোপনে সহযোগিতার তথ্য আছে।

এই সময়ের মধ্যে যদি তাঁরা শোধরাতে না পারেন তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ব্যাপকভাবে শর্ট কোর্সের মাধ্যমে পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, ডিজিটাল জালিয়াতি, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ এবং আন্তর্দেশীয় অপরাধ আজ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি প্রযুক্তি তথ্য ও আধুনিক তদন্ত কৌশলের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ পুলিশকে আরো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।

সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় স্বতন্ত্র সাইবার ইউনিট চালু করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, প্রযুক্তি যতই আধুনিক হোক পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মানুষের আস্থা অর্জন। জনগণের আস্থা ছাড়া কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। জন-আস্থা কিভাবে পুলিশের ওপর থেকে উঠে গিয়েছিল আপনারা নিজেরা নিশ্চয়ই অনুধাবন করেছেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মনে রাখবেন, আমরা পানিশমেন্ট অ্যান্ড রিওয়ার্ডে যেমন বিশ্বাস করি, প্রতিনিয়ত শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন করে যাচ্ছি। হয়তো শতভাগ ন্যায়বিচার আমরা প্রত্যেকের ক্ষেত্রে পালন করতে পারছি না, কিন্তু সময় ফুরিয়ে যায়নি। মেসেজ একটিই, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযুক্ত করতেও আমরা পিছপা হব না। যদি ইনডিসিপ্লিন কেউ করে থাকেন, আশা করি মেসেজটা পেয়েছেন। আপনাদের সামনে অবারিত সুযোগ। নিজেদের সংশোধন করুন।’

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে’। খবরে বলা হয়, ৯ আগস্ট, ২০২৬। কমলাপুর রেলস্টেশন। কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস। ছাড়ার সময় রাত ৮টা। ছেড়েছে রাত সাড়ে ১১টায়। লালমনিরহাট এক্সপ্রেস। ছাড়ার নির্ধারিত সময় রাত পৌনে ১০টা। ছেড়ে যায় রাত পৌনে ২টায়।

যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেনের সময়সূচির এমন বিপর্যয় নিয়মিত ঘটনা। রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, ইঞ্জিন কম থাকায় মাঝে মাঝে সময়সূচি ঠিক রাখতে সমস্যা হয়।

যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে ২০২২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে প্রায় ১ হাজার ১৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০টি ইঞ্জিন কেনা হয়। এর ২৩টি এখন অকেজো! এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন ফান্ড থেকে ঋণ নিয়ে এসব ইঞ্জিন কেনা হয়েছিল।

ঋণ নিয়ে করা অনেক প্রকল্পের এমন অবস্থা। প্রকল্প থেকে মানুষের যেসব সুবিধা পাওয়ার কথা, বাস্তবে তা পাওয়া যায় না। এর মূল কারণ দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা। আবার বিদেশি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতির ওপর এর চাপ তৈরি হচ্ছে। আর ঋণ পরিশোধে বাজেটের বড় একটি অংশ ব্যয় হচ্ছে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) এক বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিডি) অধীন কিছু প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উচ্চ সুদহার এবং প্রকল্পের অকার্যকর ফলাফলের উদাহরণ তুলে ধরেন ইআরডির কর্মকর্তারা।

বৈঠকে এমন মত আসে, গত ২৫ বছরে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে একের পর এক বিদেশি ঋণনির্ভর প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। বরং বৈদেশিক ঋণের বোঝা বেড়েছে। ক্রমবর্ধমান সুদের কারণে স্থানীয় সরকার বিভাগের ওপর বিদেশি ঋণের দীর্ঘস্থায়ী নির্ভরতা তৈরি হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ ঋণ বুলেটিন অনুযায়ী, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশি-বিদেশি মিলিয়ে সরকারের মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৬ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক উৎস থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ৯ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ১২ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা।

আইএমএফের সর্বশেষ মূল্যায়নে বাংলাদেশের ঋণঝুঁকি নিম্ন থেকে মধ্যম পর্যায়ে গেছে বলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিপুল অঙ্কের ঋণের আসল ও উচ্চ সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে সরকারের রাজস্ব বাজেটের ওপর চাপ বাড়ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আরেকটি অভ্যন্তরীণ নথিতে বলা হয়েছে, সরকারের মোট ঋণের তুলনায় বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বিনিময় হারজনিত ঝুঁকি আরও তীব্র হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবর্তনশীল সুদহারের ঋণের অংশ বাড়ায় সুদ পরিশোধের ঝুঁকিও বাড়ছে।

এ অবস্থায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের নতুন বিদেশি ঋণ গ্রহণের সীমা-সংক্রান্ত শর্ত আরোপ করে আইএমএফ। সংস্থার ঋণ কর্মসূচির আওতায় দেওয়া শর্ত অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নতুন বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা ৮৪৩ কোটি ৭৩ লাখ ডলার নির্ধারণ করে দেয়।

ইত্তেফাক

‘এবার মোহাম্মদপুরে লুটপাটের পর গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো অফিস’—এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, মিরপুরের পর এবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সাতমসজিদ হাউজিং এলাকার একটি অফিসে ঢুকে গতকাল শনিবার লুটপাটের পর ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ঐ অফিসের জমি দখল করতে এই হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অফিসের মালিক জয়নাল আবেদীন। এ বিষয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

গতকাল সকাল ১০টার দিকে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকার চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ে এ ঘটনা ঘটে। জয়নাল আবেদিন বলেন, সকাল ১০টার দিকে ১০০ থেকে ১৫০ জন অজ্ঞাত সন্ত্রাসী মোহাম্মদপুর টুইন টাওয়ারের দ্বিতীয় তলায় অফিসে প্রবেশ করে অফিসের দরজা, তালা, অফিসের আসবাপত্র, জানালা ভাঙচুর করে। এরপর তারা অফিসের বিভিন্ন কক্ষ-স্টোররুম তল্লাশি করে নগদ ১৫ লাখ টাকা, ৫টি ল্যাপটপ, দুটি এসি, তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরাসহ অফিসের বিভিন্ন আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম ট্রাকে করে তুলে নিয়ে যায়।

অভিযোগে তিনি আরো বলেন, কিছুদিন ধরে মো. মোস্তাকের রহমান খোকন চৌধুরী (৬২), মহিন, প্রিন্স ও আলামিন স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় আমাদের অফিস দখল করার পাঁয়তারা করছে। এতে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অফিসিয়াল কাগজপত্র ও তথ্য হারানোর আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার কারণে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি ও মালামাল লুট করে নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারী আরো দাবি করেন, যে ব্যক্তি ঐ প্লটের মালিকানা দাবি করে দখলের চেষ্টা করছেন, তিনি এর আগে জমিটি বিক্রি করে দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত কারো সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ৩৫ কাঠার এই জায়গাটি আগে চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ের চেয়ারম্যান মো. আলম হোসেনের কাছ থেকে ২০০৪ সালে কিনে নেয় হুমায়ুন নামে একজন। এরপর তিনি প্লট আকারে আরো ২৯ জনের কাছে শেয়ার বিক্রি করেন। জায়গাটিতে বর্তমানে শপিংমল তৈরির কাজ চলছিল। এরই মধ্যে এই হামলা।

হামলাকারীদের মধ্যে অনেক রাজনৈতিক কর্মীরাও ছিল। সাজেদা নামে ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী নারী বলেন, আমাদের বাড়ি এই জমির পাশেই। আমরা দাঁড়িয়ে ঘটনাটি দেখছিলাম। আমাদেরকেও মারধর করা হয়েছে। বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে জহির নামে একজন ফোনে কথা বলছিল। তাকে তার ঘরে ঢুকে মারধর করা হয়েছে। ৩২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সোহেল মোল্লাও এ সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন বলে জানা গেছে।

তেজগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা জানান, বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশে চাঁদ উদ্যানস্থ ‘রোজ ভিলা’ সংলগ্ন জমিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে আলম ঐ জমির দখলে ছিলেন। ঘটনার সময় জনি ও রেজাউলের নেতৃত্বে আনুমানিক ১৫০-২০০ জন লোক বেআইনিভাবে জমিতে প্রবেশ করে টিনের বেড়া ভেঙে ফেলে। তারা ভেতরে প্রবেশ করে অফিসে ভাঙচুর চালায় এবং সীমানায় নতুন করে টিনের বেড়া দিয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা করে। ঐ জমির মালিকানা নিয়ে উভয়পক্ষই নিজ নিজ কাগজপত্র রয়েছে বলে দাবি করছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে খোঁজখবর করা হচ্ছে।

বণিক বার্তা

‘বাংলাদেশের আইসিটি খাতে ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব’—এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, এ জায়গাতেই এখন চীনা কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতায় নামছে। তারা শুধু ব্যাংকিং সফটওয়্যার নয়, সার্ভার, তথ্য সংরক্ষণ, ডেটা সেন্টার, বেসরকারি ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামোয়ও নিজেদের উপস্থিতি বাড়াতে চাইছে।

দেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংকিং, আর্থিক সেবা, টেলিযোগাযোগ, শিল্প উৎপাদন থেকে সরকারি সেবা—প্রায় সব খাতেই বাড়ছে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার। এর সঙ্গে বাড়ছে ক্লাউড, ডেটা সেন্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বড় পরিসরে তথ্য বিশ্লেষণের চাহিদা। ফলে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাছে বাংলাদেশ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ বাজারে পরিণত হচ্ছে। দেশে তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন খাতে মার্কিন, ইউরোপীয় ও ভারতীয় প্রযুক্তি কোম্পানির শক্ত অবস্থান রয়েছে। তবে টেলিযোগাযোগে দীর্ঘদিন কাজ করা চীনা কোম্পানিগুলো এখন সফটওয়্যার, ডেটা সেন্টার, ক্লাউড ও আর্থিক প্রযুক্তির মতো নতুন ক্ষেত্রে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। এ বাস্তবতায় বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বাজারকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতাও নতুন মাত্রা পাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বৈশ্বিক বাজার গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ভেরিফায়েড মার্কেট রিসার্চের হিসাবে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বাজারের আকার ছিল প্রায় ৮০০ কোটি ডলার। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস, ২০৩২ সাল নাগাদ এ বাজারের আকার বেড়ে ২ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে। ২০২৬ থেকে ২০৩২ সাল সময়কালে বাজারটির বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ১২ দশমিক ১ শতাংশ।

দেশের আইসিটি বাজার মূলত হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, টেলিযোগাযোগ ও ক্লাউড প্রযুক্তির। এর মধ্যে টেলিযোগাযোগ খাতের অংশগ্রহণ সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ। ২০২৪ সালে তথ্যপ্রযুক্তি সেবার অংশ ছিল প্রায় ৩৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। একই বছরে ব্যাংক, আর্থিক সেবা ও বীমা খাত দেশের তথ্যপ্রযুক্তি বাজারের প্রায় ২১ দশমিক ৬৯ শতাংশ চাহিদা তৈরি করেছে। ডিজিটাল ব্যাংকিং, মোবাইল আর্থিক সেবা, সাইবার নিরাপত্তা, আর্থিক প্রযুক্তি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা আধুনিকায়নের কারণে এ খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও ব্যয় বাড়ছে। আর্থিক খাতে ডিজিটাল রূপান্তর যত বাড়ছে, প্রযুক্তির ব্যবহারও তত বিস্তৃত হচ্ছে। ফলে টেলিযোগাযোগ সবচেয়ে বড় খাত হলেও ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা খাত তথ্যপ্রযুক্তি বাজারের অন্যতম প্রধান প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।

দেশের ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন, ইউরোপীয়, ভারতীয় ও দেশীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ‘সলিউশন’ ব্যবহার হচ্ছে। কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারের মধ্যে রয়েছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক টেমেনোসের টি২৪, মার্কিন ওরাকলের ফ্লেক্সকিউব, ভারতের ইনফোসিসের ফিনাকলের বিভিন্ন সলিউশন। পাশাপাশি দেশীয় সফটওয়্যারও ব্যবহার হচ্ছে। তবে ব্যাংকের প্রযুক্তি শুধু কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে থাকে তথ্যভাণ্ডার, সার্ভার, প্রসেসর, তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নেটওয়ার্ক এবং দুর্যোগের সময় বিকল্পভাবে সেবা চালু রাখার অবকাঠামো। এসব ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন ধরে বিদেশী প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। ওরাকল, আইবিএম, ইনটেল, ডেল, এইচপিই ও সিসকোর মতো প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি দেশের ব্যাংকিং অবকাঠামোর বিভিন্ন স্তরে ব্যবহার হচ্ছে। ফলে ব্যাংকের পুরো প্রযুক্তি ব্যবস্থা সাধারণত একক কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে না। কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার এক প্রতিষ্ঠানের হলেও সার্ভার, প্রসেসর, তথ্যভাণ্ডার, নেটওয়ার্ক বা তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা অন্য প্রতিষ্ঠানের হতে পারে।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘এলপিজিতেও সংকট, দাম আরও বাড়তি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, আমদানির পরিমাণ ঠিক থাকলেও দেশে সিলিন্ডারজাত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) হঠাৎ সংকট দেখা দিয়েছে। এই সুযোগে সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে স্থানভেদে ১২ কেজির সিলিন্ডারেই ৬০০ টাকা অতিরিক্ত নিচ্ছেন খুচরা বিক্রেতারা। সিলিন্ডারের আকার অনুযায়ী দাম বেড়েছে। দাম বাড়ার হার অন্তত ৩৮ শতাংশ। ফলে পাইপলাইনের গ্যাসের গ্রাহকদের সংকট কিছু কমতেই বিপাকে পড়েছেন সিলিন্ডারের এলপি গ্যাসের গ্রাহকেরা।

দাম নির্ধারণকারী সংস্থা বিইআরসি বলছে, দেশে এখন এলপি গ্যাসের কোনো সংকট নেই। কারা সরবরাহ কমিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।

কোম্পানিগুলোর দাবি, তারা সরকারনির্ধারিত দামে সরবরাহ করলেও ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মজুত করে এই সুযোগে বাড়তি মুনাফা করছে। আর ডিলাররা বলছেন, আগামী মাসে (অক্টোবর) দাম বাড়ার আশায় কোম্পানিগুলোই সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। এ কারণে দাম বেড়েছে।

গ্রাহকেরা বলছেন, এই সংকট তৈরির জন্য যে পক্ষই দায়ী বা বড় মুনাফাভোগী হোক, একমাত্র ভুক্তভোগী গ্রাহক। তাঁরা এ জন্য দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দুর্বল নজরদারি ও তদারকিকে।

পাইপলাইনের গ্যাস-সংযোগ বন্ধ থাকায় এবং ওই গ্যাসের সংকটের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ রান্নার জন্য সিলিন্ডারের এলপি গ্যাস ব্যবহার করছেন। রেস্তোরাঁ থেকে ছোট চায়ের দোকানও সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর সংকট পুঁজি করে সিলিন্ডারের এলপিজির দাম নিয়ে নৈরাজ্য শুরু হয়। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) দাম নির্ধারণ করে দিলেও তা মানছেন না বিভিন্ন পর্যায়ের বিক্রেতারা। জিম্মি হয়ে পড়া নিরুপায় গ্রাহকেরা বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে গ্যাস কিনে ব্যবসায়ীদের পকেট ভারী করছেন। বিভিন্ন সূত্র বলছে, এবারের সংকট কৃত্রিম এবং এর উদ্দেশ্য দুর্বল নজরদারির সুযোগে অতি মুনাফা।

গতকাল শনিবার রামপুরার এক চা-দোকানি মনির হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, বাজারে হঠাৎ এলপি গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে। চলতি মাসের শুরুতে তিনি ১২ কেজি গ্যাসের সিলিন্ডার কিনেছিলেন ১ হাজার ৬০০ টাকায়। গতকাল ওই সিলিন্ডার কিনতে হলো ২ হাজার ২০০ টাকায়। এত দামি গ্যাস জ্বালিয়ে দীর্ঘ সময় চায়ের পানি গরম রাখতে গেলে লোকসান হবে। বাধ্য হয়ে তিনি বাসা থেকে পানি গরম করে ফ্লাক্সে ভরে নিয়ে এসেছেন।

বিইআরসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। প্রতি কেজির দাম ১২১.৩২ টাকা।

যাত্রাবাড়ীর দনিয়াতেও ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ২০০ টাকা। দনিয়ার রসুলপুরের এক বাসিন্দা জানান, গতকাল তিনি ৩৫ কেজির সিলিন্ডার না পেয়ে ৩৩ কেজি গ্যাসের সিলিন্ডার কিনেছেন সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায়। গত আগস্টে ৩৫ কেজির সিলিন্ডার কিনেছিলেন ৫ হাজার ৪০০ টাকায়। বিইআরসির সেপ্টেম্বরের জন্য নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ৩৩ কেজি গ্যাসের দাম ৪ হাজার ৩৬০ টাকা।

ওই ক্রেতা বলেন, বাড়তি দামের বিষয়ে জানতে চাইলে দোকানি বলেছেন, সরবরাহ নেই। তাই দাম বেশি। তাঁর দোকানে ৩৩ কেজির সিলিন্ডারও নেই। অন্য জায়গা থেকে জোগাড় করে দেবেন।

দেশ রূপান্তর

‘মধ্যপ্রাচ্যের ৩ দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গভীরে জোর’—এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের (ইউএনজিএ) সময় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল চার দিনে সব মিলিয়ে ৮০টি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে।

এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজে ইউএনজিএতে ভাষণ দেওয়াসহ প্রায় ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন; বৈঠক করেছেন ১১ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী, ভাইস প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন গতকাল শনিবার জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে (ইউএনপিএম) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়গুলো জানান।

মাহ্দী আমিন বলেন, জাতিসংঘকেন্দ্রিক প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রমকে মূলত কয়েকটি ভাগে দেখা যায়। প্রথমত, সাধারণ পরিষদের মূল ধারার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত আটটি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য প্রদান, জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রাতরাশ অনুষ্ঠান ও ইউএনজিএর উদ্বোধনী অধিবেশন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি সস্ত্রীক অংশ নেন।

ইউএনজিএর পাশে রোহিঙ্গা ও জলবায়ুর ক্ষয়ক্ষতিসহ চারটি বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে একটি এবং উন্নয়ন সহযোগীদের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য রাখেন। মাহ্দী আমিন বলেন, জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী কেবল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখাই তুলে ধরেননি, বরং সারা বিশ্বে কীভাবে শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবতা প্রতিষ্ঠা করা যায়, তার একটি বলিষ্ঠ বৈশ্বিক দর্শন উপস্থাপন করেছেন।

তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, হাইতির প্রধানমন্ত্রী অ্যালিক্স দিদিয়ের ফিস-আইমে, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রে প্লেনকোভিচ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহমেদ লতিফ, কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহ, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সল বিন ফারহান বিন আবদুল্লাহ আল সউদ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন। দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে বৈঠকের মধ্যে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক আলাদাভাবে শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কুয়েত, সৌদি আরব এবং ইউএইর সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গভীর করে জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ব্যবসা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।

দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত সব বৈঠকে দেশগুলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ জানায়।

সফরের শেষ দিন তারেক রহমান গতকাল বিশ্বখ্যাত জেপি মর্গান চেস আয়োজিত ‘ব্রেকফাস্ট মিটিং উইথ ্ওয়াল স্ট্রিট’ কর্মসূচিতে যোগ দেন। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রথম সারির প্রায় ২০টি প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের তার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাত আয়োজিত এই খোলামেলা আলোচনায় বাংলাদেশের বিশেষ করে আর্থিক খাতে কীভাবে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনার, বোয়িং গ্লোবাল, গেট্স ফাউন্ডেশন, ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারী, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটির সঙ্গে বৈঠক করেন।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘নদী তালিকায় আছে, বাস্তবে নেই’। প্রতিবেদনে বলা হয়, কাগজে নদী বাড়ছে, বাস্তবে হারিয়ে যাচ্ছে। সরকারি তালিকায় দেশের নদনদীর সংখ্যা এখন ১ হাজার ৪১৫টি। অথচ এসব নদীর অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের অস্তিত্ব বাস্তবে খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোনোটি দখলে, কোনোটি দূষণে, কোনোটি ভরাট হয়ে পরিণত হয়েছে খাল, ড্রেন কিংবা চাষের জমিতে। যেগুলো এখনো টিকে আছে, সেগুলোও দখল, দূষণ ও পানির সংকটে ধুঁকছে। নদী রক্ষায় বছরের পর বছর সভা, পরিকল্পনা ও প্রকল্প হলেও নদীর মৃত্যু ঠেকানো যাচ্ছে না। আজ বিশ্ব নদী দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য-‘বন নেই, নদী নেই, পানি নেই, জীবন নেই’। ১৯৮০ সালে কানাডায় শুরু হওয়া দিবসটি ২০০৫ সালে জাতিসংঘের সমর্থনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়। বাংলাদেশে ২০১০ সাল থেকে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

তবে দিবস পালনের আয়োজন যতটা দৃশ্যমান, নদী উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ ততটাই অনুপস্থিত।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২০১১ সালের বাংলাদেশের নদনদী বইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ৪০৫টি নদী তালিকাভুক্ত ছিল। ২০২৩ সালে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ১ হাজার ৮টি নদীর তালিকা প্রকাশ করে। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪১৫টিতে। কিন্তু তালিকাভুক্ত নদীগুলোর কতটি বাস্তবে প্রবহমান, কতটি মৃত বা মৃতপ্রায়-তার নির্ভরযোগ্য হিসাব নেই। বরং নতুন তালিকা তৈরির পরও মৃতপ্রায় নদীগুলো উদ্ধারে দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে পরিবেশ রক্ষায় বেশ তৎপরতা দেখায়। নদনদীর আগের তালিকা বাতিল করে নতুন তালিকা তৈরি করে। কাগজে-কলমে নদীর সংখ্যা কয়েক শ বাড়ে। তখন ৬৪ জেলায় ৬৪টি নদী উদ্ধারের কথা জোরেশোরে বলা হলেও একটি নদীও উদ্ধার হয়নি। ফলে কাগুজে বাঘের মতো কাগুজে নদী হিসেবেই রয়ে গেছে দেশের ধমনিগুলো।

নদীর দৈর্ঘ্য নিয়েও সরকারি সংস্থাগুলোর তথ্যে বড় ধরনের অসংগতি রয়েছে। পাউবোর ২০০৫ সালের দলিলে বুড়িগঙ্গার দৈর্ঘ্য ৪৫ কিলোমিটার হলেও ২০১১ সালের হিসাবে তা ২৯ কিলোমিটার। অর্থাৎ সরকারি হিসাবেই ১৬ কিলোমিটার নদী অদৃশ্য হয়ে গেছে। ঢাকা জেলা প্রশাসনের তথ্যে শীতলক্ষ্যার দৈর্ঘ্য ১০৮ কিলোমিটার, নদী কমিশনের হিসাবে ১০৯ কিলোমিটার। ধলেশ্বরীর ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের হিসাবে ২৯২ কিলোমিটার, নদী কমিশনের হিসাবে ৩৩০ কিলোমিটার। তুরাগের দৈর্ঘ্যও দুই সংস্থার হিসাবে ৬২ ও ৬৫ কিলোমিটার।

নদী গবেষক শেখ রোকন বলেন, ‘কাগজে-কলমে নদীর দৈর্ঘ্য কমিয়ে দেওয়ার অর্থ দখল পাকাপোক্ত করা।’ তাঁর মতে, ওয়াশপুর থেকে হযরতপুর পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার বুড়িগঙ্গা সরকারি খাতা থেকেই বাদ দেওয়া হয়েছে। গত দুই দশকে বুড়িগঙ্গা রক্ষায় অন্তত ৩ হাজার ২৯৪ কোটি টাকার ৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও দৃশ্যমান সুফল মেলেনি।