কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে এ ঘটনা ঘটে।
রাত ১টা ৩৩ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করা এক ভিডিওতে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘এই পুরা অ্যাটাকে আমাদের ফুল স্টুডিও ডেস্ট্রয়েড হয়ে গেছে।…এই ভিডিওটা খুবই স্পেশালি বানানো আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের জন্য। আপনি প্লিজ কোনো টেনশন নিবেন না, দিস ইজ নরমাল ইন বাংলাদেশ। দ্যাটস হোয়াই আই অ্যাম স্মাইলিং।’
তিনি বলেন, ‘এরকম কোনো স্টুডিও বাংলাদেশে ছিল না। বাংলাদেশের আর্টস, কালচার, এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিতে এটাই ছিল একমাত্র এমন উদ্যোগ...মানে এফডিসিতেও এগুলা নাই। এখন সেটা ডেস্ট্রয়েড হয়ে গেছে।’
সালমান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ এমন একটা দেশ, যে দেশে যদি আপনি কিছু করতে চান এবং এইটা করার সময় যদি আপনি কারো তোষামোদ না করেন, আপনার যদি কোনো ব্যাকআপ না থাকে, আপনি যদি কোনো দলকে ফলো না করেন, আপনি যদি সিকিউরিটি টাকা-পয়সা দিয়ে কিনতে না পারেন, দিস ইজ হোয়াট হ্যাপেনস টু ইউ।’
হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করে সালমান বলেন, ‘বিএনপির লোকজন যারা করছে এটা, তোমাদের চাঁদাবাজি আমার স্বপ্ন কেড়ে নিতে পারবে না।’
পরে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘যারা অ্যাটাক করছে, ওরা হয়তো জানত না যে এটা আমার জায়গা। বাট আমি পড়ছি অ্যাজ এ নরমাল সিটিজেন হিসেবে।...আমাদের এখানকার যে ল্যান্ড ওনার উনি হয়তো খুব সম্ভবত আওয়ামী লীগ…উনার সাথে চাঁদাবাজি নিয়ে কোনো একটা কিছু হইছে যে— চাঁদা চেয়েছে বা সামথিং...। তো ওদের রিভেঞ্জ থেকে মাঝখানে আমাদের মানুষজন পড়ে গেছে। উনার প্রপার্টি ড্যামেজ করতে গিয়ে আমার প্রপার্টি এখানে মাঝখানে পড়ছে।’
হামলা প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আমাকে বলেছে যে, চাঁদা দেয়নি এজন্য। চাঁদা আমার কাছে চায়নি, চাইলে আমি ডেফিনেটলি দিতাম, অফকোর্স। যদি আমার পোষাতো অবশ্যই দিতাম। বাট ওনারা কেন দেয়নি, কত টাকা দেয়নি এ ব্যাপারে আমার কোনো আইডিয়া নেই। এটা মাত্র পুলিশদের কাছে থেকে শুনলাম। বাইরের লোকজনদের কাছে থেকে শুনলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাট আই ডোন্ট কেয়ার। যে কারণেই হোক না কেন, হয়েছে তো এটা বাংলাদেশে। উই হ্যাভ টু অ্যাকনলেজ, এটাই বাংলাদেশ।’
পরবর্তীতে আইনি পদক্ষেপ নেবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের আইনে বিশ্বাস করি না। বাংলাদেশের আইনের ব্যাপারে আমি অনেক নাস্তিক। কোনো পদক্ষেপ না, একটা মামলা করতে হয় ফরমালিটি।’
ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে ইসিবি চত্বরে একটি অফিসে হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে ছোরাসহ আটক করা হয়েছে।’ এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
