আওয়ামী দোসরদের গ্রেপ্তারে ভূমিকা রাখলে পুরস্কার

আওয়ামী দোসরদের গ্রেপ্তারে ভূমিকা রাখলে পুরস্কার

ফন্ট সাইজ:

দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্তদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে গোয়েন্দা সক্ষমতা কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে এ ধরনের ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। গতকাল সকাল ১১টায় পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর ‘পদক প্রদান অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা ফ্যাসিবাদ ও আওয়ামী শক্তির দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পারবে- তাদের আমরা পুরস্কৃত করবো।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রকে অফিসিয়ালি রিকোয়েস্ট করেছি- আপনারা সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাসহ পলাতক অন্যান্য আসামিদের ফেরত দিন। তারা যদি স্বেচ্ছায় আসেন, আইনের মুখোমুখি হন- তাহলে তো ভালো। আইন নিজস্ব গতিতে চলবে। কিন্তু মাঝেমধ্যে ফিরে আসবো বলে আওয়াজ দিয়ে তাদের লুকায়িত নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণের সঞ্চার করার চেষ্টা তারা করছেন, সেটা আমরা জানি।’ তিনি বলেন, ‘যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চান, যারা এ দেশে ১৪০০ নাগরিককে হত্যা করেছেন এক মাসের মধ্যে; ১৫ বছরের হিসাব নাইবা দিলাম, ৭ হাজারের ওপরে ছিল বিচারবহির্ভূত কিলিং, যেটা পারসিকিউশন হয়েছে, এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স হয়েছে, কাস্টোডিয়াল ডেথ হয়েছে- সেই হিসাব নাইবা দিলাম। যারা এক মাসে ১৪০০ মানুষকে হত্যা করতে পারেন, আসমান থেকেই গুলি করে যাদের, দেশের নাগরিককে হত্যা করতে পারেন, বাংলাদেশের সমস্ত ইনস্টিটিউশনকে ধূলিসাৎ করে এ দেশকে গণতন্ত্রহীন একটা রাষ্ট্র বানিয়ে ফেলতে পেরেছিল, সেই শক্তিকে বাংলাদেশের মানুষ কি কখনো আহ্বান জানাবে? এ দেশের মানুষ কখনো চাইতে পারে তারা বাংলাদেশের রাজনীতি করুক!’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যারা সেই বর্বর হত্যাকাণ্ডের পরেও কোনোদিন দুঃখপ্রকাশ করেননি, অনুশোচনা নেই, ক্ষমা প্রার্থনা করেননি তারা বাংলাদেশের বাইরে থেকে আওয়াজ দিচ্ছেন। বাংলাদেশের মানুষ নাকি তাদের রাজনীতির জন্য আহ্বান জানাচ্ছে! মাঝেমধ্যেই আওয়াজ দিচ্ছেন, তারা নাকি এ দেশে আবার ফিরে আসতে চান। আমরা তো তাদের বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’ পুলিশে স্পেশাল সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে একটা আলাদা সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট রেইজ করা হবে। যার জন্য হেডকোয়ার্টারে একজন এডিশনাল আইজিপি’র পোস্ট যদি ক্রিয়েটেড থাকে ভালো, না হলে আমরা ক্রিয়েট করবো। সমস্ত মেট্রো, ডিস্ট্রিক্ট, ডিভিশন পর্যায়ে তার শাখা থাকবে। সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটের আধুনিক প্রযুক্তির সমস্ত যন্ত্রপাতি থাকবে। থানা পর্যায়ে, জেলা পর্যায়ে থেকে বড় আকারের ফরেনসিক ল্যাবসহ অন্যান্য যেসব সাপোর্ট দরকার, সেটা হেডকোয়ার্টার এবং ডিভিশন পর্যায়ে থাকবে। সেটা প্রকল্প প্রণয়নের জন্য আমি গত কয়েক সপ্তাহ আগেই নির্দেশ দিয়েছি। যেগুলো জটিল হবে সেগুলো কেন্দ্রে আসবে। কিন্তু যেগুলো থানা, জেলা পর্যায়ে, বিভাগীয় পর্যায়ে অ্যানালাইসিস করা সম্ভব হবে, সেগুলো সেখানেই হবে।’

সাহস ও বীরত্ব প্রদর্শন, সেবায় অনন্য নজির স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত এবং অন্যান্য উদ্ভাবনীমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ৯২ জন সদস্যকে পুলিশ পদক দেয়া হচ্ছে। পদক প্রদান অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল মো. আলী হোসেন ফকির।