শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক শক্তি কাজে লাগানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। গত শুক্রবার নিউ ইয়র্কে দুই দেশের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। বলা হচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির উৎস সমপ্রসারণ ও বহুমুখীকরণের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই চুক্তি করা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন- প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ। পক্ষান্তরে যুক্তরাষ্ট্রের তরফে স্বাক্ষর করেন দেশটির অর্থনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ।
বিএনপি’র মিডিয়া সেল জানায়, ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার-সংক্রান্ত সহযোগিতার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশ। সরকারের আশা, চুক্তির মাধ্যমে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ আরও জোরদার হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরের মধ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও একধাপ এগিয়ে নিলো সরকার। বাংলাদেশ রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও এগিয়ে নিচ্ছে। নতুন এই চুক্তির মাধ্যমে বেসামরিক পারমাণবিক খাতে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বৃহত্তর জ্বালানি খাতে কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়ে একটি চুক্তি সই হয়। বহুমুখী জ্বালানি উৎসের মাধ্যমে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারই ছিল ওই সমঝোতার লক্ষ্য।
