সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আনসারের হাতে আটক ৫, একজনের মৃত্যু

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আনসারের হাতে আটক ৫, একজনের মৃত্যু

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শুক্রবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত পৃথক তিনটি ঘটনায় ৫ জনকে আটক করে দায়িত্বরত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। আনসারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটককৃতদের সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। পরে তাদের মধ্যে একজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মারা যাওয়া ওই ব্যক্তির নাম মো. জনি হোসেন (৩০)। তিনি মোবাইল চুরির অভিযোগে আটক তিনজনের মধ্যে একজন ছিলেন।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা জানান, শুক্রবার পৃথক ঘটনায় এই ৫ জনকে আটক করা হয়। প্রথম ঘটনাটি ঘটে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে। হাসপাতালের ৬৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাদে এসির পাইপ কাটার সময় শাহাদত (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে। ৪২০ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তিনজনকে মোবাইল চুরির অভিযোগে আটক করেন রোগীর স্বজনরা। পরে তারা ওই তিনজনকে আনসার সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন। আটক তিনজন হলেন—মো. জনি হোসেন (৩০), জিহান (১২) ও নাদিম (১১)। তৃতীয় ঘটনাটি ঘটে সকাল ৬টার দিকে। হাসপাতালের তৃতীয় তলায় আইসিইউর সামনে এক রোগীর স্বজনকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে আনিসুর (৩২) নামে আরেক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

আনসারের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দায়িত্বরত এপিসি মো. শফিকুল ইসলাম, এপিসি মো. আব্দুর রাজ্জাক, আনসার মো. হাবিব খান ও আনসার মো. হাসান আলী সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে আটক ৫ জনকে হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মো. রেজাউলের কাছে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় হস্তান্তর করেন।
হস্তান্তরের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসির পাইপ কাটার অভিযোগে আটক শাহাদত এবং উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে আটক আনিসুরকে ছেড়ে দেয়।
তবে মোবাইল চুরির ঘটনায় অভিযোগকারীর মোবাইল ফোন ফেরত না পাওয়ায় আটক তিনজনকে হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার ও সুপারভাইজার সুমন একটি কক্ষে আটকে রাখেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর আনুমানিক বিকাল ৩টার দিকে আটক মো. জনি হোসেন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনুমানিক বিকেল ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব বলেন, ‘জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ প্রতিরোধ এবং দায়িত্ব পালনকালে আইনানুগ ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখতে বাহিনী সর্বদা সচেষ্ট। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সদস্যরা নিষ্ঠা ও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।’