পরমাণু অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়নি সৌদি আরব

মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন

পরমাণু অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়নি সৌদি আরব

ফন্ট সাইজ:

পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়নি সৌদি আরব। মার্কিন এক গোপন গোয়েন্দা মূল্যায়নে এ কথা বলা হয়েছে। এই মূল্যায়নকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সৌদি আরবের সঙ্গে পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে উদ্বেগ বেড়েছে। শুক্রবার এ খবর দিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

মার্কিন কর্মকর্তারা পত্রিকাটিকে বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে করা এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি পর্যালোচনার সময় আইনপ্রণেতাদের দেয়া গোপন নথির মধ্যে ওই গোয়েন্দা মূল্যায়নটি ছিল। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে একটি মূল্যায়ন দিয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে সৌদি আরবের দেয়া আশ্বাস এবং চুক্তিতে থাকা সুরক্ষা ব্যবস্থার ওপর তুলনামূলক বেশি আস্থা প্রকাশ করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আরটি।

জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত তথাকথিত সেকশন ১২৩ চুক্তি সৌদি আরবে বেসামরিক পরমাণু প্রকল্পে কয়েক হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগে মার্কিন কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণের আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হলো, এই চুক্তি পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধের মানদণ্ড আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে পরমাণু সহযোগিতার জন্য সৌদি আরব যাতে রাশিয়া বা চীনের দিকে না ঝোঁকে, সেটিও নিশ্চিত করবে।

তবে চুক্তিটি সৌদি আরবের জন্য দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সম্ভাব্য পথ তৈরি করেছে। শুরুতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৫ শতাংশের নিচে রাখার কথা রয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত গবেষণা এবং ওয়াশিংটন ও রিয়াদের লিখিত অনুমোদনের পর তা সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। ২০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অস্ত্র তৈরির উপযোগী মাত্রার নিচে থাকে। তবে এর ফলে অস্ত্র তৈরির উপযোগী মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পরবর্তী সময়ে যে অতিরিক্ত কাজ প্রয়োজন, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এ ছাড়া চুক্তিতে সৌদি আরবকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ‘অ্যাডিশনাল প্রটোকল’ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। এই প্রটোকলের আওতায় পরিদর্শকরা আরও বিস্তৃতভাবে পরমাণু স্থাপনায় প্রবেশ করতে পারেন এবং ঘোষণার বাইরে কোনো পরমাণু কার্যক্রম চলছে কি না, তা শনাক্তের জন্য অতিরিক্ত সুযোগ পান।
এর পরিবর্তে ওয়াশিংটন ও রিয়াদ পৃথক একটি দ্বিপক্ষীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছে।

শুক্রবার এড মার্কি ও জেফ মার্কির নেতৃত্বে একদল ডেমোক্রেট সিনেটর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে সতর্ক করে বলেছেন, এই চুক্তি শেষ পর্যন্ত রিয়াদকে ‘ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার এবং সম্ভবত পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা’ দিতে পারে। মার্কি ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, সৌদি আরবের দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ ধরে রাখার ওপর জোর দেয়ায় তাদের পরমাণু কর্মসূচির উদ্দেশ্য পুরোপুরি বেসামরিক কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ওয়াশিংটন কোনো সামরিক পরমাণু কর্মসূচি এগিয়ে নিতে সহায়তা করছে এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা জানিয়েছে, সৌদি পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচিকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না।

সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী আবদুল আজিজ বিন সালমানও জোর দিয়ে বলেন, রিয়াদের পরমাণু কর্মসূচি ‘শান্তিপূর্ণ’ হবে এবং ‘সর্বোচ্চ মাত্রার দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতার’ সঙ্গে এটি পরিচালিত হবে। নতুন গোয়েন্দা মূল্যায়নটি সৌদি আরবের পরমাণু উচ্চাকাক্সক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ২০১৮ সালে দেয়া এক বক্তব্যে বলেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করলে রিয়াদও তা তৈরির চেষ্টা করবে। সে সময় তিনি বলেন, কোনো সন্দেহ নেই, ইরান যদি পরমাণু বোমা তৈরি করে, আমরাও যত দ্রুত সম্ভব একই পথে এগোব।

আইনপ্রণেতারা সৌদি আরবের এই চুক্তির সঙ্গে ২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তির তুলনাও করেছেন। ওই চুক্তিতে ১৫ বছরের জন্য ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। তার দাবি ছিল, ইরানকে পরমাণু বোমা তৈরি থেকে বিরত রাখার জন্য চুক্তিটির শর্ত যথেষ্ট কঠোর ছিল না। সৌদি আরবের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে গত ২৪শে আগস্ট কংগ্রেসে জমা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে এটি ৯০ দিনের পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। মার্কিন আইনপ্রণেতারা চাইলে চুক্তিটি আটকে দেয়ার উদ্যোগ নিতে পারেন। তবে প্রেসিডেন্টের ভেটো অতিক্রম করতে হলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে।