ইরানের দেয়া সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তেহরানে আবারও বোমা হামলা শুরু করতে পারেন তিনি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। এতে বলা হয়, তেহরান প্রস্তাব দিয়েছে যে- যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের দাবি মেনে নেয়, তাহলে কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া হবে এবং সাত দিনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করা হবে। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে যৌথ হামলা চালানোর পর থেকেই এই যুদ্ধ চলছে।
শুক্রবার জাতিসংঘে সাংবাদিকদের কাছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে সাত দিনের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দিয়েছে ইরান। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া এবং স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আরাঘচি বলেন, এখন সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের। ইরান কোনো ধরনের চাপ, হুমকি বা ভয় দেখানো মেনে নেবে না এবং চাপের মুখে তার সার্বভৌম অধিকারও ত্যাগ করবে না। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি চুক্তিতে পৌঁছানো এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার বিষয়ে আন্তরিক হয়, তাহলে সবকিছু এখন প্রস্তুত রয়েছে।
এর কয়েক ঘণ্টা পর দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান কখনোই পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না বলে বারবার অঙ্গীকার করেছেন ট্রাম্প। এ অবস্থায় তেহরান তার দাবিগুলো পূরণ করবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান তিনি। আবারও ইরানে বোমা হামলার অভিযান চালানোর সম্ভাবনা দেখছেন ট্রাম্প। এদিকে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে একটি মানচিত্রের ছবি পোস্ট করেছেন। সেখানে হরমুজ প্রণালিকে বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত করে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ লেখা হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ অবরোধ তুলে নিলে, তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে এবং লেবাননসহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে। একই সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা আবারও শুরু করবে তেহরান।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে একটি ব্যক্তিগত বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন এই প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তেহরানের নতুন প্রস্তাবটি জুনে হওয়া একটি চুক্তির মতোই ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সেই চুক্তি ভেঙে যায়।
গত ১৭ই জুন ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে ১৪ দফা একটি চুক্তিতে সই করেন। ওই চুক্তিতে লেবাননসহ সামরিক অভিযান তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার কথা বলা হয়েছিল। পাশাপাশি ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য দুই দেশকে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। তবে ৮ই জুলাই ট্রাম্প বলেন, ওই চুক্তি ‘শেষ হয়ে গেছে’। এর এক সপ্তাহ পর তেহরানও সমঝোতা স্মারকটি স্থগিত করে। ওয়াশিংটন ‘তার সব প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে’ বলে অভিযোগ করে ইরান। এরপর থেকে ট্রাম্প বারবার বলেছেন, চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তিনি কোনো তাড়াহুড়োর মধ্যে নেই। এদিকে শুক্রবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা চলছে।
