এলএনজি ও বিদ্যুতে বাড়ছে ভর্তুকির চাপ

সহযোগীদের খবর

এলএনজি ও বিদ্যুতে বাড়ছে ভর্তুকির চাপ

ফন্ট সাইজ:

কালের কণ্ঠ

‘এলএনজি ও বিদ্যুতে বাড়ছে ভর্তুকির চাপ’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর পরও কমছে না দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপ। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও এলএনজি সরবরাহে সংকটের কারণে বেশি দামে জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে।

অন্যদিকে দেশের বাজারে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি বিক্রি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে লোকসান এবং ভর্তুকির বোঝা বাড়ছে। গত সাড়ে ছয় মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর পরও ডিজেলে প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

এদিকে এলএনজি খাতেও বাড়ছে সরকারের আর্থিক চাপ। চলতি অর্থবছরের প্রথম আড়াই মাসেই এলএনজিতে ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে, যেখানে পুরো বছরের জন্য বরাদ্দ ছিল সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে গত সাড়ে ছয় মাসে পেট্রোবাংলার নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে আরো ১৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এদিকে কয়লা, ফার্নেস অয়েল ও এলএনজির দাম বৃদ্ধির কারণে চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতের লোকসান ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গত ২০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সময় বিপিসি ও জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম ও আমদানি ব্যয় বাড়তির কারণে প্রতি লিটার ডিজেল কিনতে গড়ে প্রায় ২০৫ টাকা ব্যয় হচ্ছে।

নতুন করে মূল্য সমন্বয়ের পর দেশে তা বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়। ফলে প্রতি লিটার ডিজেলে প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে। এ বিষয়ে বিপিসির চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, গত সাড়ে ছয় মাসে সংস্থাটির মাসিক গড় লোকসান প্রায় তিন হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিপিসির লোকসান প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাত। এ সময় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি জাহাজভাড়া, প্রিমিয়ামসহ আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে।

সরবরাহ পেতেও বেশি সময় লাগছে। ২০ টাকা দাম বাড়ানোর ফলে বিপিসির লোকসানের প্রায় এক-চতুর্থাংশ কাভার হতে পারে বলেও জানান তিনি।

এদিকে জ্বালানিসংকট মোকাবেলায় উচ্চমূল্যের এলএনজি আমদানির কারণে পেট্রোবাংলার ওপরও চাপ বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকায় স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে বাংলাদেশের। ফলে চলতি বছরের শুরুতে যেখানে প্রতি এমএমবিটিইউ ১০ থেকে ১২ ডলারে এলএনজি কেনা হতো, চলতি সেপ্টেম্বরে সেই দাম বেড়ে প্রায় ৩০ ডলারে উঠেছে। ফলে গত কয়েক মাসে এলএনজির দাম বেড়ে তিনগুণ হয়েছে। এতে এলএনজির আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় চলতি অর্থবছরে বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় ৯০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে সরকারের ভর্তুকির প্রয়োজনীয়তা কয়েক গুণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান গত বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যুদ্ধের প্রভাবে গত সাড়ে ছয় মাসে নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরে অতিরিক্ত ১৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এ ছাড়া গত আড়াই মাসে এলএনজির জন্য প্রায় ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি পাওয়া গেছে।’

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বছরে প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে ৪৫ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল। আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম গড়ে প্রায় ২০৫ টাকা লিটার। মূল্য সমন্বয়ের আগে দেশে ডিজেলের দাম ছিল ১১৫ টাকা। ফলে প্রতি লিটারে প্রায় ৯০ টাকা লোকসান হচ্ছিল।

প্রতিমন্ত্রী জানান, গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় না করায় বিপিসির লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। মূল্য সমন্বয় না করলে এক বছরেই শুধু ডিজেলে সরকারের লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং সব ধরনের জ্বালানি তেল মিলিয়ে তা প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াত।

এলএনজি আমদানির বিষয়ে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানিসংকট সামাল দিতে বাধ্য হয়ে বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনছে সরকার। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির সরবরাহকারীরা ফোর্স মেজর ঘোষণা করায় স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচ হলেও মানুষের দুর্ভোগ ও শিল্প-কারখানার ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই ঝুঁকি নিচ্ছে।’

বিদ্যুৎ খাতেও একই ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। গ্যাসের সংকট থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফার্নেস অয়েল ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি ফার্নেস অয়েলচালিত কেন্দ্রগুলো থেকে চার হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়লার দাম ও পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৪৫ হাজার কোটি টাকা লোকসানের যে হিসাব ধরা হয়েছিল, তা বেড়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে সরকারের ভর্তুকি ও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর লোকসানের চাপ আরো বাড়তে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, পরিবহন ও কৃষিতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো এবং সৌরবিদ্যুিভত্তিক ব্যবস্থা সম্প্রসারণের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানির চাপ কমানোর সুযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যানশিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) প্রধান বিশ্লেষক শফিকুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতির অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে জ্বালানি খাতে সরকারের ব্যয় ও ভর্তুকি দুটিই বাড়বে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেলের ব্যবহার বাড়ায় বিদ্যুৎ খাতেও ভর্তুকির চাপ বাড়তে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলে দাম বাড়ায় গত মার্চ থেকে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিপিসির লোকসানের চাপ বেড়েছে। সরকার এক পর্যায় পর্যন্ত লোকসান দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও সম্প্রতি লিটারে ২০ টাকা করে দাম বাড়াতে বাধ্য হয়। যদিও দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের সামনে খুব বেশি বিকল্প ছিল না।’

শফিকুল আলম বলেন, ‘পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি হলে সরকারকে একদিকে ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা করতে হবে, অন্যদিকে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানির দাম সমন্বয় করতে হবে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশের আমদানি করা জ্বালানি তেলের প্রায় ৬০ শতাংশ পরিবহন খাতে ব্যবহৃত হয়। দীর্ঘপথের পরিবহনে সৌরবিদ্যুত্চালিত চার্জিং স্টেশনের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো গেলে ডিজেলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। একইভাবে সৌরচালিত সেচব্যবস্থা বাড়িয়ে কৃষিতেও ডিজেলের ব্যবহার কমানো যায়।’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভর্তুকি প্রসঙ্গে এই জ্বালানি বিশ্লেষক বলেন, ‘এ খাতে সরকারের আর্থিক চাপ কমার সম্ভাবনা নেই; বরং বাড়তে পারে। বর্তমানে সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি হয়েছে এলএনজি আমদানিতে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি ২৮ ডলারে আমদানি করলে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসে ৯০ টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য জ্বালানির দাম ও অস্থিরতা অব্যাহত থাকায় সরকারের ব্যয়ও বাড়বে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতেও ভর্তুকির চাপ বাড়তে পারে। গত দেড় থেকে দুই মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেলের ব্যবহার বেড়েছে। শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হলে তেলের ব্যবহার আরো বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের সামগ্রিক আর্থিক চাপ ক্রমে বাড়ছে।’

প্রথম আলো

‘এবার বাদ পড়া শিশুদের টিকা, হাম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংশয়’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, হাম ছড়ানো শুরু হওয়ার প্রায় সাত মাস পর বাদ পড়া শিশুদের টিকা দিতে আবার বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করছে সরকার। টিকা দেওয়া হবে ৩৪ লাখ শিশুকে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, সংক্রমণের এলাকা শনাক্ত করে সব ঝুঁকিপূর্ণ শিশুকে সুরক্ষা দেওয়া এবং রোগী থেকে সংক্রমণ ঠেকানোর উদ্যোগ ছাড়া হাম নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।

গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, আজ শনিবার রাজধানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে দেশব্যাপী বিশেষ হাম–রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬–এর উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সঙ্গে থাকবেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। এই ক্যাম্পেইন চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। এই শিশুরা ৫ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত চলা হাম–রুবেলার টিকার মূল ক্যাম্পেইন থেকে বাদ পড়েছিল। উল্লেখ্য, হামের টিকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে ভুল করেছিল স্বাস্থ্য বিভাগ।

মার্চ মাসের শুরুতে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সাত মাস পরেও হাম নিয়ন্ত্রণে আসেনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের গতকাল শুক্রবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে ১ হাজার ২০১ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে তিনজন।

সাত মাসের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এ বছর হামে ১ হাজার ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮৩ জন এবং নিশ্চিত হামে ১০১ জন মারা গেছে। এই সময় সারা দেশে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮৩৩ জন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসে। এই সময় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয় ২১ হাজার ১৫ জনের। গতকাল সারা দেশে পাঁচ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় প্রধান উপায় টিকা। আমরা ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে টিকার আওতায় আনতে চাই। ইপিআইয়ের মাধ্যমে নিয়মিত টিকাদান চলবে, পাশাপাশি ক্যাম্পেইনও চলবে।’

কোথায় ঘাটতি

পূর্ণ প্রস্তুতি ছাড়াই স্বাস্থ্য বিভাগ ৫ এপ্রিল হাম–রুবেলার জাতীয় ক্যাম্পেইন শুরু করে। প্রথমে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলা ও পৌরসভায়; ১২ এপ্রিল থেকে চারটি সিটি করপোরেশনে (ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, ময়মনসিংহ ও বরিশাল) এবং ২০ এপ্রিল সারা দেশে। তখন ওই বয়সী ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ শিশুকে হাম–রুবেলার টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়। পরে হিসাব করে দেখা গেছে, ওই বয়সী শিশুর সংখ্যা আরও ৪৪ লাখ বেশি।

ওই ক্যাম্পেইন শেষ হয় ২০ মে। ওই সময় টিকাদানের হিসাবে দেখা যায়, কোনো কোনো এলাকায় ১০০ শতাংশের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। কারণ জানতে চাইলে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, কোনো কোনো এলাকায় ৫৯ মাসের বেশি বয়সী শিশুরা টিকা নিয়েছে, তাই হিসাব বেশি দেখা গেছে। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ জরিপ করে বিভিন্ন শহরে ও গ্রামে টিকা না পাওয়া অনেক শিশুর সন্ধান পায়। ক্যাম্পেইনের পরেও বাদ পড়া শিশুদের টিকা দেওয়া চলতে থাকে। গতকাল পর্যন্ত ১ কোটি ৯৮ লাখ ৬১ হাজার ৫৩০ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ফোয়ারা তাসমীম প্রথম আলোকে বলেন, কিছু ভুল ছিল। শিশুর সংখ্যা নির্ধারণে ভুল থাকতে পারে। আবার মাঠপর্যায়ে টিকা দেওয়ার সময় কিছু ত্রুটি থাকতে পারে। আশা করা যায়, এবার সেই ভুলত্রুটি থাকবে না।

গতকাল ইপিআইয়ের নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিটি উপজেলা থেকে শিশুদের হিসাব নেওয়া হয়েছে। তার ভিত্তিতেই টিকা কার্যক্রম চলবে।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, টিকা নেওয়ার বয়সই হয়নি অর্থাৎ ছয় মাস বয়সের কম—এমন শিশুদেরও হাম হয়েছে। আবার ৫৯ মাস বয়সের বেশি অনেক মানুষের হাম হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ছয় মাসের কম বয়সীদের টিকা দিয়ে লাভ নেই। অন্যদিকে ৫৯ মাসের বেশি বয়সীদের টিকা দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। কিন্তু এই বয়সীরা হামে আক্রান্ত হচ্ছে, হাম ছড়াচ্ছে।

জনস্বাস্থ্যবিদেরা প্রাদুর্ভাবের প্রায় শুরু থেকে সচেতনতা বৃদ্ধি, রোগীদের আইসোলেশনে রাখা, দরিদ্র রোগীদের আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা—এ ধরনের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। কেউ কেউ ৬ মাস বয়স থেকে ১৫ বছর বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন। কিন্তু সেসব পরামর্শকে স্বাস্থ্য বিভাগ গুরুত্ব দেয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘দরিদ্র পরিবারে কারও হাম হলে তাকে আইসোলেশনে নেওয়া কঠিন। কারণ, ঘর ছোট, এক ঘরেই একাধিক মানুষকে থাকতে হয়। তবে আমরা আশা করছি, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সব শিশুকে টিকার আওতায় আনলে হাম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলেন, হাম নিয়ন্ত্রণের মূল লক্ষ্য হতে হবে হাম পরিস্থিতি প্রাদুর্ভাবের আগের অবস্থায় নিয়ে যাওয়া। প্রাদুর্ভাবের আগের বছর হামে কোনো মৃত্যু ছিল না, এক বছরে আক্রান্ত ছিল মাত্র ১৩২ জন। অনেকে মনে করছেন, বাংলাদেশের জন্য ওই পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এপ্রিলে ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার পর একটি পর্যায়ে সংক্রমণ কমে এসেছিল। এরপর আবার বেড়েছে। এখন উচিত ‘হটস্পট’ শনাক্ত করা। সেসব স্পটের কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে। আর ৬ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা দরকার। মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো জরুরি।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘রোহিঙ্গা ইস্যু মানবিক সংকট ডেকে আনবে’। খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ। দলমত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের লক্ষ্য। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সাধারণ বিতর্কে বাংলায় দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেছেন। জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসাবে তারেক রহমান প্রথমবারের মতো বাংলায় ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ মেরামতে সরকার রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন অর্থাৎ থ্রি-আর কৌশল অনুসরণ করছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বিশ্বকে সতর্ক করে বলেছেন, বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা ৯ বছরের বেশি সময় ধরে অবস্থান করছে। তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বিশ্ব ব্যর্থ হলে অদূর ভবিষ্যতে এটি মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে।

শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগকারীদের স্মরণ করেন তিনি। পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান। এ সময় নিজের পারিবারিক ইতিহাস টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের এই মঞ্চে দাঁড়িয়েই তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের পক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন। আজ একই মঞ্চে তিনিও দেশের স্বার্থের কথা তুলে ধরলেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে শান্তিময় বিশ্ব প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা। যেখানে জাতিসংঘকে বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে দেখতে চায় বাংলাদেশ এবং একে অপরের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে সব রাষ্ট্র।

তারেক রহমান তার বহুল প্রতীক্ষিত ভাষণে বলেছেন, রাষ্ট্রের নাগরিকদের ক্ষমতাহীন রেখে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মধ্য দিয়েই উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ গুম-খুন, দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থ পাচারের অভিশাপ থেকে বের হয়ে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। বাংলাদেশের সামনে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ হিসাবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্য সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, স্টার্টআপ উদ্যোগে সহায়তার জন্য চলতি অর্থবছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চান: প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। এতে দেশের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ‘রোহিঙ্গা সংকটের উৎস ও উৎপত্তি মিয়ানমারে; তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত’ উল্লেখ করে তিনি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়াকে সংকটের একমাত্র সমাধান হিসাবে তুলে ধরেন। জাতিসংঘ ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের কার্যকর সমর্থন কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত তাদের জীবন রক্ষাকারী সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিশ্ব ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে এটি মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে। এর আগে বুধবার জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫টি জরুরি পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান সংলাপ-কূটনীতিতে: বিশ্বায়নের এই সময়ে পৃথিবীর এক প্রান্তে যা ঘটে, তার প্রভাব অন্য প্রান্তেও পড়ে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি, বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকট তৈরি হচ্ছে। যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে উল্লেখ করে জ্বালানি নিরাপত্তা সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং মূল্যস্ফীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যে কোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির অন্তরায় হিসাবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে অঙ্গীকারবদ্ধ। পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকারের প্রতি সমর্থন জানান।

অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে জোর: প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও নিশ্চিত করতে চায়, যাতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সুফল প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছায়। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী। তাই নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিকে সরকারের পরিকল্পনার অগ্রভাগে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে নগদ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হয়েছে এবং স্নাতক পর্যন্ত নারীদের বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ উন্মুক্ত করা হয়েছে।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘মধ্যরাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো গরিবের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র’। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বরে একটি বেসরকারি সংস্থার স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে লুটপাটের পর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মুখোশ পরা ২০০ থেকে ২৫০ ব্যক্তি দেশি অস্ত্র নিয়ে এই হামলা চালায়। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের বেঁধে রেখে একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবন ভেঙে ফেলে।

প্রতিষ্ঠানটির নাম রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার। প্রধানত নিম্নবিত্তের মানুষজন এখানে টিকাসহ বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা নিত। ১০ কাঠা জমির ওপর অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির ১৬টি কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয়। সেখানে থাকা এসি, ফ্রিজ, ওষুধ, টিকা, টাকা, আসবাবসহ যাবতীয় মালপত্র কয়েকটি ট্রাকে ভরে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। তারা সেখানে 'সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড' নামের সাইনবোর্ড ও ব্যানার লাগিয়ে দেয়।

টিকাদান, অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের চিকিৎসা, মাতৃ স্বাস্থ্যসেবার জন্য ১৯৭৪ সাল থেকে রাড্ডা মিরপুরবাসীর কাছে ভরসাস্থল হিসেবে পরিচিতি পায়। সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দরিদ্র, অসহায় নারী ও শিশুদের বিনা মূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রস্তুতি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির যাবতীয় মালপত্র লুটের পেছনে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির জমি দখলের চেষ্টা আছে বলে মনে করছেন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা।

গতকাল শুক্রবার ঘটনাস্থলে রাড্ডার নিরাপত্তারক্ষী জাকির হোসেনের সঙ্গে কথা হলো। ১৯ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করছেন তিনি।

৬০ বছর বয়সের জাকির বলেন, 'আমার মা-বাবা এখানে এনে আমাদের ভাইবোনদের টিকা দিয়েছেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর মিরপুরের প্রথম টিকাদান কেন্দ্র এটি। সুইডিশ অর্থায়নের এটি পরিচালিত হতো। তারা চলে যাওয়ার পর এটি পরিচালনার জন্য বোর্ড হয়। আমার তিন সন্তানকে এখানে টিকা দিয়েছি।

বুধবার আমার ৯ মাসের নাতি ইরহামকে এখানে টিকা দিই। টিকাদান ঘিরে রাড্ডার সঙ্গে আমার তিন প্রজন্মের সম্পর্ক। একই চিত্র এই এলাকার আরও অনেক বাসিন্দার। কীভাবে এমন একটি প্রতিষ্ঠান কেউ দখল করতে পারে।'

ইত্তেফাক

‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ধাক্কা নিত্যপণ্যের বাজারে’—এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ধাক্কা এবার পড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের বাজারে। রাজধানীর বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাছের দামও বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা। উত্পাদনস্থল থেকে পাইকারি বাজার এবং সেখান থেকে খুচরা বাজারে পণ্য পরিবহনে বাড়তি ব্যয় যুক্ত হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। তবে একই সময়ে ডিম, ব্রয়লার মুরগি ও চালের দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শান্তিনগর, তুরাগ এলাকার নতুনবাজার ও কাওরানবাজারসহ বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, লম্বা বেগুন বাজারভেদে ১০০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে এ ধরনের বেগুনের দাম ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা। করলার দামও কিছুদিন আগে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় নেমেছিল। এখন মানভেদে তা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটোল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে কেজি প্রতি ৭০ থেকে ৯০ টাকা হয়েছে। এক সপ্তাহ আগেও এসব সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। ঝিঙা, ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দামও ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় উত্পাদনস্থল থেকে পাইকারি বাজার এবং পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজার—প্রতিটি ধাপেই পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। সেই বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে যুক্ত হচ্ছে। আর তা ক্রেতার ঘাড়ে যাচ্ছে। শান্তিনগর বাজারের সবজি বিক্রেতা আমজাদ বলেন, জ্বালানী তেলের দাম বাড়ার পর পরিবহন খরচ বেড়েছে। এর প্রভাবে পাইকারি বাজারে সবজির দাম বেড়েছে। বেশি দামে সবজি কেনায় বেশিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। তুরাগ এলাকার নতুন বাজারের আরেক সবজি বিক্রেতা রহমান বলেন, আগে উত্তরা ১০ নম্বরের আড়ত থেকে বেগুন ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে পাইকারি কিনতেন। এখন কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে গেছে। তাই খুচরা বাজারে দামতো বাড়বেই। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আগে সবজি নিয়ে নরসিংদী থেকে ঢাকায় আসতে মাঝারি আকারের একটি ট্রাকের ভাড়া ছিল ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। এখন অন্তত ২ হাজার টাকা বেড়ে গেছে।

শুধু সবজি নয়, মাছের বাজারেও বাড়তি পরিবহন ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে। মাছ উত্পাদনে দেশের অন্যতম শীর্ষ জেলা ময়মনসিংহ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই জেলায় ৪ লাখ ১৮ হাজার ৬৪৫ টন মাছ উত্পাদিত হয়েছে। প্রতি কেজি মাছের গড় মূল্য ৩০০ টাকা হিসাবে এর বাজারমূল্য প্রায় ১২ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন ট্রাকে করে মাছ যাচ্ছে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, কাওরান বাজার, রামপুরা, আব্দুল্লাপুর ও গাবতলীসহ বিভিন্ন আড়তে।

জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণার পর মাছ পরিবহনের ট্রাকভাড়াও বেড়েছে। ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় প্রতিটি মাছবাহী ট্রিপে জ্বালানি খরচ বেড়েছে দেড় থেকে ২ হাজার টাকা। গতকাল আব্দুল্লাহপুর আড়তের সামনে কথা হয় ট্রাকচালক বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ময়মনসিংহ থেকে রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর আড়তে মাছ নিতে আগে ৯ থেকে ১১ হাজার টাকা ভাড়া লাগত। এখন আগের ভাড়ার সাথে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা হাজার টাকা বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর ট্রাক মালিকেরা নতুন করে ভাড়া বাড়িয়েছেন।

ইতিমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব মাছের বাজারেও পড়েছে। রুই, কাতলা শিং, কই, পাবদা, চিংড়ি, তেলাপিয়া ও পাঙাশ সব ধরনের মাছের কেজিতেই ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

তবে সব পণ্যের দাম বাড়েনি। ফার্মের মুরগির ডিম গত সপ্তাহের মতোই প্রতি ডজন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগিও বাজারভেদে ১৮৫ থেকে ১৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চালের দামেও এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বড় কোনো প্রভাব দেখা যায়নি।

এদিকে পাস্তুরিত তরল দুধের দাম বেড়েছে। সম্প্রতি কয়েকটি বেসরকারি বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা বাড়িয়েছিল। এরপর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও দাম বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।

আটা ও ময়দার দামও আগের তুলনায় বেশি। দুই সপ্তাহ আগে সরবরাহকারী করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো আটা-ময়দার দাম বাড়িয়েছে। এক মাসের মধ্যে খোলা আটার দাম কেজিতে ৫ টাকা এবং ময়দা ১০ টাকা বেড়েছে। মূল্যবৃদ্ধির পর প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকা এবং খোলা ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খুচরা পর্যায়ে পণ্যের দাম বাড়ার বিষয়ে ক্রেতাদের অভিযোগও রয়েছে। শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে আসা আমিনুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেলের দাম যতটা বেড়েছে ব্যবসায়ীরা তার চেয়ে বেশি হারে পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। এ ব্যাপারে সরকারের নজরদারি দরকার। যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে অজুহাত বানিয়ে অতিরিক্ত দাম বাড়াতে না পারে।

উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দাম গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘সরকারি দলের ডিসেম্বরের ডেডলাইন বনাম বিরোধী শিবিরে বর্জন নীতি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্ট সংসদে উত্থাপন করা হবে। এরপর আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সংবাদ ১৮তম সংশোধনী বিল আনা হবে।’ সম্প্রতি কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটিই জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত খসড়া বিল প্রস্তুত করার যে সময়সীমা কমিটি নির্ধারণ করেছে, তা অত্যন্ত টাইট বা সংক্ষিপ্ত। বিরোধী দলগুলোর বড় একটি অংশকে আলোচনার বাইরে রেখে এত কম সময়ে একটি টেকসই ও সর্বজনগ্রাহ্য সংবিধান প্রণয়ন করা কমিটির জন্য সবচেয়ে বড় মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হবে। অতীতে পঞ্চম, সপ্তম বা ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের আদালতের রায়গুলোর উদাহরণ টেনে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের জন্য এই সংস্কারে জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট বা একটি ব্যাপক রাজনৈতিক ঐকমত্য অপরিহার্য। রাজনৈতিক ভাঙন রেখে সংবিধান সংশোধন করলে ভবিষ্যতে তা আবার বাতিলের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

অপর দিকে, দেশে প্রথমবারের মতো প্রবর্তিত হতে যাওয়া দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার উচ্চ পরিষদ আইনি প্রক্রিয়ার আলোকেই চূড়ান্তভাবে বাস্তবের মুখ দেখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান ও জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামো ও শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের যে আকাক্সক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে এখন সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে সংবিধান সংশোধন। এই বিশাল সাংবিধানিক রূপান্তর প্রক্রিয়াটি কিভাবে এগোচ্ছে, এর কার্যপরিধি কতটুকু, কত সময়ের মধ্যে এটি সম্পন্ন হবে এবং উচ্চ পরিষদ চালুর নির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে রাজনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে বহুমুখী আলোচনা, বিতর্ক ও রাজনৈতিক সমীকরণ। সংসদের প্রধান দল বিএনপি এবং তাদের সমমনা দলগুলো এই সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংশোধন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার পক্ষে। অপর দিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১-দলীয় ঐক্য এই বিশেষ সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগকে সম্পূর্ণ ‘প্রত্যাখ্যান’ করেছে।

জানা গেছে, ডিসেম্বরের মধ্যে সংবিধান সংশোধনের খসড়া রিপোর্ট চূড়ান্ত করতে খুব দ্রুতগতিতে এগোতে চায় সরকারি দল বিএনপি। এজন্য কমিটি প্রতি সপ্তাহে একটি করে বৈঠকের আয়োজন করবে। এরপর সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিল আকারে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে আসবে।

বণিক বার্তা

‘বিদেশগামীদের ৯.৯% প্রশিক্ষণ নেন টিটিসিতে, দুই-তৃতীয়াংশই যাচ্ছেন দক্ষতা ছাড়া’—এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সিপিডির জরিপ অনুযায়ী, টিটিসিতে প্রশিক্ষণ নেয়া ব্যক্তিদের ৫০ দশমিক ৯ শতাংশই শিক্ষার্থী। বেকার ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ, চাকরিজীবী ৮ দশমিক ৭, ব্যবসায়ী ৫ এবং গৃহিণী ৫ শতাংশ।

কুয়েতের একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করছেন ফেনীর রিয়াজুল ইসলাম। একই পদে তার সঙ্গে কাজ করেন মিসরের এক নাগরিক। দায়িত্ব ও শ্রমে খুব একটা পার্থক্য না থাকলেও রিয়াজুলের চেয়ে তার মিসরীয় সহকর্মীর বেতন প্রায় দ্বিগুণ। এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার সনদ।

দেশ থেকে কোনো স্বীকৃত প্রশিক্ষণ বা ইলেকট্রিশিয়ান সার্টিফিকেট নিয়ে কুয়েতে যাননি রিয়াজুল। সাধারণ বা অদক্ষ শ্রমিক হিসেবে বিদেশে গিয়ে কর্মক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরে ইলেকট্রিশিয়ান পদে উন্নীত হন। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক সনদ না থাকায় একই কাজ করেও দক্ষতার স্বীকৃতি ও পারিশ্রমিকে পিছিয়ে রয়েছেন তিনি।

রিয়াজুলের মতো এমন অভিজ্ঞতা বিদেশগামী বাংলাদেশী কর্মীদের বড় একটি অংশেরই। অথচ বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য কর্মী তৈরি ও প্রেরণের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭৬ সালে যাত্রা শুরু করেছিল জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)। সংস্থাটির অধীনে বর্তমানে দেশে ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে আরো ৫০টি কেন্দ্র স্থাপনের কাজও চলমান। বিদেশে যাওয়ার আগে এসব কেন্দ্র থেকে যদিও প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন মাত্র ৯ দশমিক ৯ শতাংশ কর্মী।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ‘রিইনটিগ্রেশন অব মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স’ জরিপে দেখা গেছে, বিদেশ যাওয়ার আগে বাধ্যতামূলক প্রাক-বহির্গমন ওরিয়েন্টেশন (পিডিও) নিতে আসা কর্মীদের ৭১ দশমিক ৩ শতাংশ কোনো দক্ষতা প্রশিক্ষণ ছাড়াই বিদেশে যাচ্ছেন। টিটিসি থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন মাত্র ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। আর টিটিসির বাইরে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ কর্মী।

অর্থাৎ বিদেশগামীদের দুই-তৃতীয়াংশই দক্ষতা প্রশিক্ষণ ছাড়াই বিদেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করছেন। জরিপে অংশ নেয়া কর্মীদের ৬৬ শতাংশ যাচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যে। তাদের ১৩ শতাংশ এরই মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো বিদেশে যাচ্ছেন বলে জানান।

বিদেশগামী কর্মীদের জন্য টিটিসির সঙ্গে বাস্তব শ্রমবাজারের সংযোগ কতটা দুর্বল, তা উঠে এসেছে প্রশিক্ষণার্থীদের পরিচয়েও। সিপিডির জরিপ অনুযায়ী, টিটিসিতে প্রশিক্ষণ নেয়া ব্যক্তিদের ৫০ দশমিক ৯ শতাংশই শিক্ষার্থী। বেকার ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ, চাকরিজীবী ৮ দশমিক ৭, ব্যবসায়ী ৫ এবং গৃহিণী ৫ শতাংশ। অর্থাৎ বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে টিটিসিতে প্রশিক্ষণ নেয়ার চেয়ে বিকল্প কর্মসংস্থান বা সাধারণ দক্ষতা অর্জনের উদ্দেশ্যে আসছেন বেশি মানুষ। ফলে বিদেশে যাওয়ার জন্য কর্মী তৈরি এবং প্রশিক্ষণ দেয়ার মধ্যে যে সরাসরি সংযোগ থাকার কথা বাস্তবে তা গড়ে ওঠেনি।

নাটোর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে গত বছর তিন মাসের ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স কোর্স করেন নলডাঙ্গা উপজেলার নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম টুটুল। তার সঙ্গে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ প্রশিক্ষণার্থীও শিক্ষার্থী। টিটিসিতে বর্তমানে ছয়টি ট্রেড চালু আছে। এর মধ্যে ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স, সুইং মেশিন অপারেশন, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং এবং কম্পিউটার কোর্সে প্রশিক্ষণ শেষে ৯ হাজার ৬০০ টাকা করে বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা না থাকলেও বৃত্তির অর্থের জন্য অনেক শিক্ষার্থী এসব কোর্সে ভর্তি হচ্ছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘সরকারি মেডিকেল কলেজ: হাসপাতাল নেই ১২টিতে, ব্যবহারিক শিক্ষায় বাধা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি মেডিকেল কলেজের পূর্ণাঙ্গতার অন্যতম বড় শর্ত নিজস্ব হাসপাতাল থাকা। চিকিৎসা শিক্ষায় ‘ল্যাবরেটরি’ হিসেবে কাজ করে এই হাসপাতাল। পাঠ্যবইয়ের তথ্য ও তত্ত্বের বাইরে সত্যিকারের রোগীর সংস্পর্শ ও তৃতীয় পর্যায়ের হাসপাতালে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ ছাড়া এ শিক্ষা পূর্ণতা পায় না। কিন্তু দেশের ১২টি সরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদে:র সেই ব্যবহারিক শিক্ষার প্রধান ক্ষেত্র, অর্থাৎ নিজস্ব হাসপাতাল নেই।

ডাক্তার হতে যাওয়া একজন মেডিকেল শিক্ষার্থীকে রোগীর ইতিহাস নেওয়া, শারীরিক পরীক্ষা, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার বিভিন্ন ধাপ হাতে-কলমে শিখতে হয়।

সেটা যথাযথভাবে সম্ভব শুধু রোগী ভর্তি থাকা নিজস্ব হাসপাতালেই। কিন্তু স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজের মধ্যে ১২টির শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল শিক্ষার জন্য জেলা সদর বা জেনারেল হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কোনো কোনো কলেজ থেকে এসব হাসপাতালের দূরত্ব কয়েক কিলোমিটার। এছাড়া জেলা সদর বা জেনারেল হাসপাতালের মতো মাধ্যমিক পর্যায়ের চিকিৎসালয়ে যথেষ্টসংখ্যক জটিল রোগী, শয্যা, অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা, বিশেষায়িত বিভাগ, শিক্ষক ও অন্যান্য সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। চিকিৎসা শিক্ষাবিদরা মনে করেন, এতে ওই ১২টি কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল শিক্ষা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

নেই হাসপাতাল কিংবা একাডেমিক ভবন

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, পাবনা, নোয়াখালী ও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালে। প্রতিটিতে ২৫০ থেকে ৫০০ শয্যার হাসপাতালের অনুমোদন রয়েছে। ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত যশোর মেডিকেল কলেজ এবং ২০১৪ সালের জামালপুর মেডিকেল কলেজে যথাক্রমে ২৭৮ এবং ২৫০ শয্যার হাসপাতালের অনুমোদন রয়েছে। এই পাঁচটি কলেজের নিজস্ব একাডেমিক ভবন থাকলেও নিজস্ব হাসপাতাল নেই।

রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৪ সালে, হবিগঞ্জ ২০১৭ সালে এবং নীলফামারী, নেত্রকোনা, নওগাঁ, মাগুরা ও চাঁদপুর ২০১৮ সালে। এসব কলেজের স্বতন্ত্র একাডেমিক ভবন বা নিজস্ব হাসপাতাল কোনোটিই নেই। রাঙামাটি, হবিগঞ্জ, নীলফামারী, নওগাঁ, মাগুরা ও চাঁদপুরের জন্য ২৫০ শয্যার এবং নেত্রকোনার জন্য ২২২ শয্যার হাসপাতালের অনুমোদন রয়েছে।

১২ কলেজের কয়েকটিতে নিজস্ব হাসপাতাল নির্মাণকাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ কাজও শেষ হয়নি। যদিও শিক্ষার্থী ভর্তির কয়েক বছর পরই ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হবে, তা আগে থেকেই জানা ছিল।

বেগমগঞ্জে ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ ১৭ বছর পরও নিজস্ব হাসপাতাল পায়নি। ক্লিনিক্যাল ও ব্যবহারিক শিক্ষা এবং ইন্টার্নশিপ হচ্ছে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার মাইজদীকোর্টে অবস্থিত ২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে।

নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘নিজস্ব হাসপাতালের নির্মাণকাজ এখনো শুরু হয়নি। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালকে কলেজের অস্থায়ী হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমাদের যাতায়াতে প্রতিদিন এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল বা জেলা হাসপাতালের মধ্যে রোগীর ধরন, জটিল রোগী ব্যবস্থাপনা ও ক্লিনিক্যাল কেসের বৈচিত্র্যে পার্থক্য রয়েছে।’

সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে কলেজের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। ফলে শিক্ষার্থীরা ক্লিনিক্যাল শিক্ষা থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন নয়। তবে নিজস্ব হাসপাতাল থাকলে শিক্ষা কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব। নিজস্ব হাসপাতালের জন্য ৫০০ শয্যার পরিকল্পনা রয়েছে।’

রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. প্রীতি প্রসূন বড়ুয়া বলেন, ‘কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল শিক্ষা ও ইন্টার্নশিপ হচ্ছে ২৫০ শয্যার রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে। এ পর্যন্ত সাতটি ব্যাচ এমবিবিএস শেষ করেছে। কলেজের নিজস্ব ভবন ও হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরুর পর্যায়ে রয়েছে।’

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘নজরদারিতে অর্থদাতারা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশকে আবার অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে গণ অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ। ভারতে পালানো শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পরই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নতুন করে অপতৎপরতা শুরু করেন। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি রাজধানীর কূটনৈতিক জোন গুলশানে মিছিল বের করে নতুন কর্মসূচির নামে নাশকতায় অর্থ বিনিয়োগ করতে থাকেন। দেশে ঘাপটি মেরে থাকা কর্মীদের দিয়ে পুলিশি কঠোর নজরদারির মধ্যেই অন্তত ১২ স্পটে ৩২টি ককটেল বিস্ফোরণ ও কয়েকটি বাসে অগ্নিসংযোগ ঘটান। এসব ঘটনার কয়েকটিতে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ জানতে পারে ককটেল ও অগ্নিসংযোগে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা লেনদেন হচ্ছে। লোকেশন ও টার্গেট নির্ধারণ করে বেশির ভাগ হুকুম বিদেশি নম্বর থেকে এলেও সমন্বয় করছে দেশের কিছু ব্যক্তি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব অপতৎপরতা মূলত রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার কৌশল। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থদাতারা নজরদারির মধ্যে রয়েছে।

এদিকে নাশকতা ঠেকাতে অর্থদাতা ও সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইতোমধ্যে বেশ কিছু নাম পাঠানো হয়েছে ডিবির বিভিন্ন বিভাগে। নিরাপত্তা নিশ্চিতের স্বার্থে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ওই ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের সময় লুটপাট ও দুর্নীতি করে অঢেল সম্পদের মালিক যারা হয়েছেন তারাই বিদেশে বসে দেশকে অস্থিতিশীল বানানোর চেষ্টা করছেন। এই কাজের নেতৃত্ব দিচ্ছে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পলাতক নিষিদ্ধ দলটির শীর্ষ নেতারা। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অনেক নেতা এখনো ঢাকাতেই ঘাপটি মেরে আছেন। তারা আত্মগোপন থাকা অবস্থাতেই নিজেদের বিশ্বস্ত কর্মীদের দিয়ে নাশকতামূলক কাজ পরিচালনা করছেন।

নতুন করে নাশকতা ঘটাতে ঢাকার বাইরের অন্য মহানগর ও থানা পর্যায়ের নেতাদের কাজে লাগানো হতে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যারা ককটেল বা অগ্নিসংযোগের পর সহজেই পলাতক থাকতে পারে। এজন্য এখনো পলাতক আওয়ামী লীগের এমপি ও ঢাকার আশপাশের শীর্ষ নেতাদের নাম রাখা হয়েছে অর্থদাতা ও নাশকতার নেতৃত্বদানকারীর তালিকায়।

সূত্র বলছে, চলতি মাসের ১৮, ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে ককটেল ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ। সুপ্রিম কোর্টের ফটকের সামনে, শিল্পকলা একাডেমি, যাত্রাবাড়ী থানার সামনে, মালিবাগ, আগারগাঁও, মহাখালী, নিউমার্কেট, বাবুবাজার, কমলাপুর স্টেশন, মগবাজার, মৎস্য ভবন মোড় ও রামপুরায় বিটিভি ভবনের সামনে ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এ ছাড়াও কাফরুল থানার সামনে, মিরপুর-১১, মিরপুর-১, মধ্য বাড্ডা, পল্লবী ও আজিমপুরে ছয়টি বাসে আগুনের ঘটনা ঘটে ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করা হয়। কমলাপুর রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেনে করা হয় অগ্নিসংযোগ। কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি, ৩ শতাধিক চেকপোস্ট, পেট্রোলিংসহ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পরেও এসব হামলা ঠেকাতে না পারায় নতুন পরিকল্পনা হাতে নেয় পুলিশ। হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে অর্থদাতাদের গ্রেপ্তারে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে অর্থদাতাদের নতুন তালিকা তৈরি শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারদের ডিভাইস ফরেনসিক করে মিলেছে বেশ কয়েকজন অর্থদাতার নাম। ডিবির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিটি বিভাগেই ১০-১২ জন অর্থদাতার নামের তালিকা দেওয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তালিকা সম্পন্ন হলে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। প্রাথমিক তালিকা ধরে সংশ্লিষ্ট টিম অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রেখেছেন।