সিলেটে বাণিজ্যমেলা নিয়ে বিতর্ক

সিলেটে বাণিজ্যমেলা নিয়ে বিতর্ক

ফন্ট সাইজ:

সিলেট উইমেন চেম্বারের আয়োজনে মাসব্যাপী বাণিজ্যমেলার আয়োজন নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মেলা চান না নগরের দোকান মালিকরা। ইতিমধ্যে তারা মেলা বন্ধের দাবিতে কর্মসূচি পালন করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

অন্যদিকে বাণিজ্যমেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বাণিজ্যমন্ত্রীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতনদের সহযোগিতা চেয়েছেন উইমেন চেম্বারের ব্যবসায়ীরা। নগরের শাহী ঈদগাহ মাঠে আগামী ১০ই অক্টোবর থেকে মেলা শুরু হওয়ার কথা। চলছে প্রস্তুতিও। মাঠে প্যান্ডেল নির্মাণসহ মেলা আয়োজনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ‘সৃজনশীল পণ্য প্রদর্শনী, শিল্প-পণ্য ও বাণিজ্যমেলা ২০২৬’ নামে আয়োজিত মেলার স্টল বরাদ্দসহ নানা কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। এই অবস্থায় সিলেট দোকান মালিক সমিতি ও বিভিন্ন মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ এ মেলা চান না। এতে তাদের ব্যবসার ক্ষতি হবে বলে দাবি করা হয়েছে। বুধবার রাতে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা এবং সিলেট জেলা ও মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে এ নিয়ে যৌথ সভা হয়েছে।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব, সিলেট জেলা শাখার মহাসচিব ও সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন মানবজমিনকে জানিয়েছেন— কর্মচারীদের বেতন ও দোকান ভাড়াসহ আনুষঙ্গিক পরিচালনা খরচ তুলতেই ব্যবসায়ীরা হিমশিম খাচ্ছেন, সেখানে পৃথক একাধিক মেলা স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে। তিনি বলেন— ব্যবসায়ীরা মেলার বিরোধী নন। প্রচলিত বাণিজ্য নীতি অনুযায়ী জেলায় বছরে একটি আন্তর্জাতিক মেলা অনুষ্ঠিত হলে সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে ও চলমান লোডশেডিংয়ের মেলার আয়োজন সবদিক দিয়েই ভোগান্তি বাড়াবে বলে জানান তিনি। এদিকে সভায় নেতৃবৃন্দ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, জেলা প্রশাসক এবং এসএমপি কমিশনারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

একইসঙ্গে দ্রুত মেলা বন্ধের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না এলে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা। বাণিজ্যমেলা আয়োজনে নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতা চেয়ে বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন উইমেন চেম্বারের নেতারা। এতে তারা মেলা শুরুর আগে থেকে শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, মেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি না হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একইসঙ্গে বিশৃঙ্খলা বা জোরপূর্বক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে তা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, দর্শনার্থী ও আয়োজকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সিলেট উইমেন চেম্বারের নেতারা জানিয়েছেন- শাহী ঈদগাহ মাঠে মাসব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সিলেটের স্থানীয় ও নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য, সৃজনশীলতা ও ব্যবসার সম্ভাবনাকে বৃহত্তর ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। একইসঙ্গে স্থানীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক সংযোগ বৃদ্ধি এবং সিলেটের স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করাও মেলার লক্ষ্য। মেলা আয়োজনের বিষয়ে সিলেট উইমেন চেম্বারের সভাপতি লুবানা ইয়াসমীন শম্পাসহ সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন— মেলার প্রশাসনিক অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমতি যথাযথভাবে নেয়া হয়েছে।

মেলার সার্বিক প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন। মেলা আয়োজনের বিষয়টি সামনে আসার পর সিলেটের কিছু ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট কিছু মহল থেকে আপত্তি, অভিযোগ এবং মেলা বন্ধের দাবি ওঠার বিষয়টিও জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। তারা বলেন— সংগঠনটি কোনো পক্ষের সঙ্গে বিরোধে যেতে চায় না। আইন, বিধি-বিধান, পারস্পরিক সম্মান ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তিতে মেলাটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে চায়। এজন্য আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাতে স্বাভাবিক থাকে সেদিকে তারা নজর দিচ্ছেন।