শ্রেষ্ঠ শিক্ষক থেকে এবার গুণী শিক্ষক হলেন সিলেটের সেই ভাইরাল শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল। ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানের তালে নেচে গত জুলাই মাসে ভাইরাল হয়েছিলেন ওই শিক্ষিকা। বিউটি রানী পাল সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিঠাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। ২০২৩ সালে তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স, মাস্টার্স পাস করা ওই শিক্ষিকার ক্লাসে পাঠদান কার্যক্রম ভিন্ন। শিক্ষার্থীরা তার পাঠদানে মুগ্ধ থাকেন।
গত জুলাইয়ে বিউটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় শুরু হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে একটি গোষ্ঠীর তোপের মুখে পড়েন তিনি। ফেসবুকে তাকে নিয়ে ট্রল-হেনস্তার শিকার হন। এই পরিস্থিতিতে বিউটি পালের পাশে দাঁড়ান তার সহকর্মীসহ নানা পেশার মানুষজন। বিউটি পালের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশ করেন অনেকেই। এবার সিলেট জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচন করে জেলা ও বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়। এতে বিউটি পাল ছাড়াও আরও সাতজন শিক্ষক এ সম্মাননা পাচ্ছেন। সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বাছাইকৃত শিক্ষকদের মধ্য থেকে চারজনকে জেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। নির্বাচিতরা হলেন— সিলেট সদর উপজেলার জহিরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন লস্কর, ওসমানীনগর উপজেলার আদমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাম্মত নুরজাহান বেগম, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিঠাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি রানী পাল এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর চৌধুরীবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আদরী রানী দাস।
এ বিষয়ে ২১শে সেপ্টেম্বর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখাওয়াত এরশেদ স্বাক্ষরিত এক স্মারকে নির্বাচিত শিক্ষকদের তথ্য বিভাগীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়। শিক্ষা অফিসার সাখাওয়াত এরশেদ মানবজমিনকে জানিয়েছেন, বিউটি রানী পাল এবার জেলার গুণী শিক্ষকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এই তালিকা ইতিমধ্যে তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করেছেন।
‘প্রান্তশালা-মেঘনা নদীর উপর সেতু নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর পা ধরতে হলেও কাজটি বাস্তবায়ন করতে হবে’
নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীর রায়পুরার প্রান্তশালা এলাকায় মেঘনা নদীর উপর বহুল প্রত্যাশিত সেতু নির্মাণের জন্য এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি করে আসছে। এবার এই সেতু নির্মাণের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদেরকে আহ্বান জানিয়েছেন নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য জননন্দিত নেতা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল। তিনি বলেছেন, প্রান্তশালা-মেঘনা নদীর উপর সেতুটি নির্মাণ করতে প্রধানমন্ত্রীর পা ধরে হলেও এ কাজ বাস্তবায়ন করাতে হবে। গতকাল নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার যোশর বাজারে আয়োজিত নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খানের উপস্থিতিতে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন। এমপি বকুল আরও বলেন, সেতুটি রায়পুরাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের মানুষ সেতুটি নির্মাণের প্রত্যাশায় রয়েছে। সেতুটি নির্মাণ করা হলে রায়পুরার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। তিনি বলেন, এই সেতু শুধু একটি যোগাযোগ অবকাঠামো নয়; এটি রায়পুরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের নতুন দ্বার খুলে দিতে পারে। সেতুটি নির্মাণ হলে শিল্পকারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা বাড়বে, পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রান্তশালা-মেঘনা সেতু নির্মাণ হলে রায়পুরার সঙ্গে আশপাশের এলাকার যোগাযোগ আরও সহজ ও নিরাপদ হবে। কৃষকরা দ্রুত তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে পারবেন, শিক্ষার্থী ও রোগীদের যাতায়াত সহজ হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধিও বিস্তৃত হবে। রায়পুরাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই সেতু বাস্তবায়নে সরকারের উচ্চপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে—এমন প্রত্যাশাই এখন স্থানীয়দের।
