স্ত্রী’কে কুপিয়ে হত্যা, পরে স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা

ফন্ট সাইজ:

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে নিলুফা আক্তার মিলু (৪০) নামের এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। স্ত্রীকে হত্যার পর গলায় ও পেটে ছুরিকাঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে স্বামী হযরত আলী। এ সময় ঘটনাস্থলে শাশুড়ি এগিয়ে আসলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। বুধবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার ধুবড়িয়া ইউনিয়নের বাদে কাকনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাগরপুর থানার ওসি মো. জহুরুল ইসলাম। পারিবারিক কলহে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে পুলিশের ধারণা। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, প্রায় ৬ বছর আগে ধুবড়িয়া গ্রামের দহর পাচুরিয়া গ্রামের হযরতের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বাদে কাকনা গ্রামের নিলুফার বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। এরই জের ধরে নিলুফা ১ সপ্তাহ আগে হযরতকে তালাক দেয়। তালাকের খবর পেয়ে হযরত ক্ষিপ্ত হয়ে ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় নিলুফার মা চেনবানু এলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। এ সময় হযরত তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে নিজের পেটে ও গলায় ছুরিকাঘাত করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে স্থানীরা মুমূর্ষু অবস্থায় হযরত ও শাশুড়িকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মৌসুমী ভৌমিক বলেন, গুরুতর জখম অবস্থায় তাদের নিয়ে আসা হয়।

প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের ২ জনকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ও অপর আহত শাশুড়ি চেনবানুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। নিহত নিলুফার পিতা ছইনুদ্দিন বলেন, আমি বাজারে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি যাই। বাড়ি গিয়ে দেখি মেঝেতে মেয়ে ও জামাতার রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে। নাগরপুর থানার ওসি জহুরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহতের পিতা বাদী হয়ে হত্যা মামলা রুজু করেছেন। ঘাতক স্বামী পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।