মালয়েশিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ইতিবাচক বাংলাদেশ

ফিফা আসিয়ান কাপ

মালয়েশিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ইতিবাচক বাংলাদেশ

ফন্ট সাইজ:

অচেনা কন্ডিশন, শক্তিশালী প্রতিপক্ষ আর র‌্যাঙ্কিংয়ের পার্থক্য— বাংলাদেশ আন্ডারডগ হিসেবেই খেলতে নামছে আসিয়ান কাপে। তবে আশাবাদী হেড কোচ টমাস ডুলি। ফিফা আসিয়ান কাপে অভিষেক হচ্ছে বাংলাদেশের। ৭৭ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার গেলোরো বুং কার্নো স্টেডিয়ামে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মিশন শুরু করবে জামাল ভূঁইয়ার দল। খেলা শুরু বিকাল ৩টায়। সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস।

ফিফার বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিংয়ে মালয়েশিয়ার অবস্থান ১৩৬তম। তাদের থেকে ৪৫ ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ। ফিফা আসিয়ান কাপে খেলতে আসার আগে আসিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বে মিয়ানমার ও লাওসকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে। তবে শেষ চারে ভিয়েতনামের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়। সেই মালয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বাস্তববাদী ডুলি। তবে শক্তিমত্তায় পিছিয়ে থাকলেও লড়াইয়ে আশা তার কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘যখন আপনি মাঠে নামেন, আপনি আপনার সর্বোচ্চটা দিতে চান। কিন্তু আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমি জানি বাংলাদেশের অনেক ভক্ত ভাবেন যে আমরা এখানে এসে সবাইকে হারিয়ে দেবো। কিন্তু এটা অনেক কঠিন। র‍্যাঙ্কিংয়ে মালয়েশিয়া আমাদের চেয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ পয়েন্ট এগিয়ে। এটি বেশ বড় ব্যবধান। তবে মালয়েশিয়ার সঙ্গে একটি ভালো ম্যাচ হলে, ড্র করতে পারলে বা জয় পেলে দারুণ হবে। স্বপ্ন দেখার অধিকার তো সবারই আছে, তাই না?’ আসিয়ান কাপকে আগামী নভেম্বরে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবে ভাবছেন ডুলি। তার মতে, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচগুলো বাংলাদেশকে নিজেদের প্রকৃত অবস্থান বুঝতে সাহায্য করবে। ফুটবলে রাতারাতি উন্নতির কোনো পথ নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় বিষয় হলো বর্তমানে আমাদের অবস্থান কোথায় তা জানা। ১-০ গোলে হারা বা ড্র করতে পারাটাও আমাদের জন্য সাফল্য হবে। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই আমাদের উন্নতির পথ।’ একই সুর অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার কণ্ঠে। ৩৬ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘সফল হতে হলে আপনি প্রতিযোগিতা করতে চাইবেন, ভালো ম্যাচ খেলতে চাইবেন।

কোচ যেমন বলেছেন, এটি আমাদের জন্য একটি প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্ট, কারণ এক মাসের মধ্যে আমাদের সাফ টুর্নামেন্ট রয়েছে, যা আমাদের মূল লক্ষ্য। তবে অবশ্যই, একটি দল হিসেবে আমরা প্রতিযোগিতা করতে চাই। আর যদি আমরা কয়েকটি পয়েন্ট পেতে পারি বা এক-দুটি ম্যাচ জিততে পারি, তবে তা আমাদের জন্য খুবই সফল একটি সফর হবে।’ গত জুনে প্রীতি ম্যাচে সান মেরিনোর বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে টুর্নামেন্টে যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশ। অভিজ্ঞ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও শেফিল্ড ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী, কানাডা প্রবাসী শতি সোমের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী মিডফিল্ড দলের মূল শক্তি। মালয়েশিয়াও আসিয়ান কাপ খেলতে শক্তিশালী দল নিয়ে এসেছে। সম্প্রতি দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়া ব্র্যাড ট্যাপ, ম্যানুয়েল হিদালগো ও বার্গসন দলে যোগ দিয়েছেন। আগে থেকেই আছেন আক্রমণভাগে ক্ষুরধার আরিফ আইমান। মাঝমাঠে বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও মালয়েশিয়ার নবাগত মিডফিল্ডার ব্র্যাড ট্যাপের দ্বৈরথ রোমাঞ্চের জন্ম দিতে পারে। জাতীয় দলের হয়ে শতক পূর্ণ করার দ্বারপ্রান্তে থাকা অভিজ্ঞ জামালের (৯৪) বিপরীতে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকবেন সদ্য নাগরিকত্ব পাওয়া ট্যাপ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে শেষ পাঁচ ম্যাচের দুটিতে জয়, দুটিতে হার ও একটি ম্যাচে ড্র করে বাংলাদেশ। অন্যদিকে মালয়েশিয়া দুই জয়ের বিপরীতে তিনটি ম্যাচে হার দেখে।