‘সাকিব’ খুঁজছেন মুশতাক

‘সাকিব’ খুঁজছেন মুশতাক

ফন্ট সাইজ:

সাকিব আল হাসানের বিকল্প একদিনে তৈরি হওয়া সম্ভব নয়, এই বাস্তবতা সবারই জানা। ২০২৪-এর সেপ্টেম্বরে ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টে দেশের জার্সিতে সবশেষ ম্যাচ খেলেন সাকিব। এরপর দেশের জার্সিতে দেখা যায়নি এক সময়ের বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারকে। তার এই দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে দলের ভারসাম্য রক্ষার জন্য শুধু বিশেষজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার নয়, বরং ব্যাটিংয়েও কার্যকর অবদান রাখতে সক্ষম— এমন ক্রিকেটারের প্রয়োজনীয়তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে দল। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একাডেমি ও পাইপলাইন থেকে ক্রিকেটার তৈরির পরিকল্পনা এগিয়ে যাচ্ছে।

রবি বোলার হান্ট থেকে আসা বোলারদের নিয়ে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। পাইপলাইনে থাকা স্পিনারদের নিয়ে প্রতি তিন মাস পর এই ধরনের ক্যাম্প আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। বোলারদের পাশাপাশি কোচদের ট্যাকটিক্যাল দিক শেখার সুযোগ তৈরির কথা বলা হচ্ছে। সাকিব আল হাসান, তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসানের পাশাপাশি স্পিনার তৈরির প্রক্রিয়ায় ধৈর্য রাখার পরামর্শ দেন জাতীয় দলের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ। এই প্রক্রিয়া ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে স্পিন লিজেন্ড বলেন, ‘আমি সবসময় একটা কথাই বলি— একদিনে গাছ বড় করা যায় না। তাই আমাদেরও ধৈর্য ধরে কাজ করে যেতে হবে। আমাদের স্কিল আছে, সামর্থ্যবান খেলোয়াড়রা আছে; এখন প্রয়োজন নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখা। এখন আমাদের নাহিদ রানা আছে, যে নিয়মিত ১৫০ কিমি গতিতে বোলিং করে। আরও বেশ কয়েকজন আছে, যারা অনায়াসেই ১৪০-এর বেশি গতিতে বল ছুড়তে পারে। তাই এই মুহূর্তে আমাদের এমন একজন বাঁহাতি স্পিনার প্রয়োজন, যে মিডল ওভারে ব্যাটের দায়িত্বও সামলাতে পারবে। আশা করছি নির্বাচক এবং সংশ্লিষ্ট সবাই মিলে কাঙ্ক্ষিত সেই ক্রিকেটারকে খুঁজে পাবেন। দ্রুত হোক বা কিছুটা সময় নিয়ে, আমরা তাকে পেয়ে যাবো।’

টেস্ট সিরিজের আগে মিরপুরে স্পিনারদের নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। বিসিবি এই অনুশীলনের আয়োজন করেছে। হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের অধীনে স্পিনারদের বোলিং ভিডিও করা হচ্ছে। সামনে, পেছনে এবং পাশ থেকে তিনটি ক্যামেরায় খেলোয়াড়দের হাত, পা ও শরীরের ভারসাম্য পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উইকেটে বোলিং করার সময় অ্যাকশন ও বায়োমেকানিক্সের ওপর জোর দিচ্ছেন কোচ। ক্যাম্পে চার থেকে পাঁচজন কোচ খেলোয়াড় তৈরির প্রক্রিয়া রপ্ত করছেন। স্পিন বিভাগের এই বোলিং অ্যাকশন ও তিনটি ক্যামেরা নিয়ে মুশতাক বলেন, ‘বিসিবির দারুণ এক সিদ্ধান্ত। আমরা এখানে স্পিনারদের অ্যাকশন ভালোভাবে দেখতে পারছি। ৩ ক্যামেরা আছে, ফ্রন্ট, ব্যাক, সাইড। কার অ্যাকশন কেমন স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। রিপিটেবল অ্যাকশন থাকলে চাপের মুখেও ভালো বল করা সম্ভব।’

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের স্বপ্ন
অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে টেস্ট ম্যাচ জয়ের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দলের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ জানান তাদের একই স্বপ্নের কথা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর দল টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় চার নম্বরে অবস্থান করছে। বাংলাদেশ দল টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই চক্রে ছয়টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে তিনটি টেস্টে জয়। পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড। ফাইনালে ওঠার সমীকরণে সামনে রয়েছে আফগানিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এরপর দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চারটি টেস্ট রয়েছে। এই ম্যাচগুলোর মধ্যে পাঁচটি টেস্টে জয় পেলে সরাসরি ফাইনালে খেলার সুযোগ মিলবে। তিন বা চার টেস্টে জয় পেলেও সুযোগ থাকবে। এটা কি সম্ভব? মুশতাক বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, কেন নয়? আমরা এখন একটি দুর্দান্ত অবস্থানে আছি। আমরা যদি ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি এবং নিজেদের ওপর বিশ্বাস বজায় রাখতে পারি, ইনশাআল্লাহ পুরো পথ পাড়ি দেয়ার এটাই সঠিক সময়।’

ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের মনস্তত্ত্ব বদলানোর ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। পাকিস্তান সফরে ঘাসের উইকেটে দুটি টেস্ট ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। দেশের মাটিতেও স্পিনাররা ঘাসের উইকেটে বল ঘোরানোর কৌশল রপ্ত করছেন। মুশতাক বলেন, ‘আমাদের দক্ষতা আছে, খেলোয়াড়ও আছে; এখন প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস। যখন আপনি বিশ্বাস করতে শুরু করবেন, তখন আপনি অস্ট্রেলিয়াকে অস্ট্রেলিয়ায় হারাতে পারবেন, ইংল্যান্ডকে ইংল্যান্ডে হারাতে পারবেন, দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাদের মাটিতে হারাতে পারবেন।’
পাকিস্তানি লিজেন্ড বলেন, ‘আমি মনে করি, খেলাধুলার শতকরা ৫০ ভাগই হলো মাইন্ড গেম। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুরো ব্যাপারটাই মানসিকতার ওপর নির্ভর করে। নিজে দীর্ঘদিন এই খেলাটি খেলেছি বলেই জানি, মানসিকভাবে শক্ত থাকা এবং মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর বিশ্বাস রাখা কতটা বড় ভূমিকা পালন করে।’