টানা সপ্তম বছরের মতো লোকসানের মুখে ইউনাইটেড

টানা সপ্তম বছরের মতো লোকসানের মুখে ইউনাইটেড

ফন্ট সাইজ:

আর্থিক জটিলতা কাটছেই না ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্লাবটি তাদের ইতিহাসের টানা সপ্তম বার বার্ষিক লোকসানের ঘোষণা দিয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ক্লাবটির মোট লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৪৫৫ মিলিয়ন পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা।

গত ২০২৫-২৬ ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ মৌসুমে টেবিলের ১৫তম স্থান থেকে কামব্যাক করে লীগে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ইউনাইটেড। কোচ মাইকেল ক্যারিকের অধীনে মাঠের এই সাফল্যের ছোঁয়া লেগেছে ক্লাবের অর্থনীতিতেও। গত ছয় বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কম, অর্থাৎ ৩০২ মিলিয়ন পাউন্ড বেতন দিয়েছে ক্লাবটি, যা আগের বছরের তুলনায় ১১.৩ মিলিয়ন পাউন্ড কম। খেলোয়াড় বিক্রির সুবাদে ক্লাবটি কিছু মুনাফাও দেখেছে। চেলসির কাছে আলেহান্দ্রো গারনাচোকে ৪০ মিলিয়ন পাউন্ডে বিক্রি করায় খেলোয়াড় বিক্রির মাধ্যমে মোট ৪৬.৯ মিলিয়ন পাউন্ড লাভ হয়েছে। এর ফলে মহামারির পর এই প্রথম সুদমুক্ত পরিচালন মুনাফা বা ইবিট ২২.৬ মিলিয়ন পাউন্ড ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। তবে মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্লাবের পাহাড়সম ঋণ এবং সুদের উচ্চ হার। গত এক বছরে ক্লাবটিকে প্রায় ৬৯.৬ মিলিয়ন পাউন্ড নিট ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে।

এর ফলে সমস্ত মুনাফা ম্লান হয়ে শেষ পর্যন্ত ৪৩ মিলিয়ন পাউন্ডের সামগ্রিক লোকসান গুণতে হয়েছে। চলতি বছরের জুনে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ পুনর্গঠন করায় ক্লাবটির মোট আর্থিক ঋণ ৫২ মিলিয়ন পাউন্ড বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮৯ মিলিয়ন পাউন্ডে। মাঠে দলের ফর্ম ফিরে আসায় এবং খরচ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় সমর্থকদের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে ক্লাবকে স্থায়ীভাবে লাভজনক করতে হলে বড় অংকের এই ঋণ ও সুদের বোঝা কমানোই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।