পটুয়াখালীর গলাচিপায় মারামারি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার করতে গিয়ে মবের বাধার মুখে পড়েছে পুলিশ। এসময় পুলিশের কাছ থেকে আসামিকে ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের চরকপালবেড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে চরকপালবেড়া বাজার এলাকায় মারামারি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ফোরকান খানকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালায় চরকাজল পুলিশ ক্যাম্পের একটি দল। এসআই কামাল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের দলটি সেখানে গেলে শতাধিক লোক জড়ো হয়ে আসামি গ্রেপ্তারে বাধা দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলার বাদীপক্ষের অভিযোগ, চরশিবা সাংগঠনিক ইউনিট যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাতেম মাতুব্বর, সাবেক সদস্য খলিল হাওলাদার ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি লিটু খানের নেতৃত্বে লোকজন পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে পুলিশকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয় এবং আসামিকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। তাদের দাবি, এসময় ফোরকান খানকে পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। মামলার বাদী হেনা বেগমের দেবর তুহিন খান বলেন, পুলিশ ফোরকান খানকে গ্রেপ্তার করার পর স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী মব সৃষ্টি করে। পরে তারা পুলিশের কাছ থেকে আসামিকে ছিনিয়ে নেয়।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাতেম মাতুব্বর বলেন, ঘটনার সময় তারা ঘটনাস্থলে ছিলেন না। ফোরকান খান ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না দাবি করে তিনি বলেন, এলাকার লোকজন তাকে গ্রেপ্তার না করার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেছে।
চরকাজল পুলিশ ক্যাম্পের এসআই কামাল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে চরশিবা বাজার এলাকায় আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ যায়। তবে পুলিশের যাওয়ার খবর পেয়ে আসামি ওই এলাকা থেকে চলে যায়। তিনি পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার রাতে স্থানীয় দোকানদার মো. ফিরোজ খানের কাছে ফেরদৌস খান, মকবুল খান ও ফোরকান খান বাকিতে সিগারেট চান। পূর্বের টাকা পরিশোধ না করায় দোকানদার বাকিতে সিগারেট দিতে অস্বীকৃতি জানালে এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মকবুল খান ও ফেরদৌস খান দোকানদার ফিরোজ খানকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এসময় ফোরকান খান সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
মারামারি থামাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. দুলাল খান এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ইউপি সদস্য দুলাল খানের স্ত্রী হেনা বেগম বাদী হয়ে বুধবার গলাচিপা থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলায় ফোরকান খান এজাহারভুক্ত আসামি। গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। মব সৃষ্টির কারণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
