যুবদল নেতার নেতৃত্বে ৬৭ টন মুরগির বিষ্ঠা লুট

ফন্ট সাইজ:

মিরসরাইয়ে যুবদল নেতার নেতৃত্বে চারটি পণ্যবাহী ট্রাকের গতিরোধ করে চালকদের ভীতি প্রদর্শন করে ৬৭ হাজার ২০০ কেজি মুরগির বিষ্ঠা (জৈব সার) লুটের অভিযোগে ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। লুট হওয়া জৈব সারের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার আরাফাত হোটেলের পাশে একটি খালি জায়গা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মজল হক (৩০) ও মো. শাকিল (২৪)কে । তারা উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা। করেরহাট ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির ১ নং সদস্য শাখাওয়াত হোসেন শাখার নেতৃত্বে এ লুটের ঘটনা ঘটেছে।

জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১শে সেপ্টেম্বর করেরহাট ইউনিয়নের হাবিলদারবাসা এলাকায় ৪টি ট্রাকের গতিরোধ করে চালকদের নামিয়ে দেয়া হয়। এ সময় ভীতি প্রদর্শন করে তাদের মুঠোফোন কেড়ে নেয়া এবং ৪টি ট্রাক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে ট্রাকগুলো মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার আরাফাত হোটেলের পাশে নিয়ে ৪ ট্রাকে থাকা ১ হাজার ৬৮০ বস্তা মুরগির বিষ্ঠা নামিয়ে নেয়া হয়। অভিযোগকারী ব্যবসায়ী রিপন হোসেন জানান, মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ অলিনগর এলাকার নাহার এগো ফিড লিমিটেডের প্রকাশ্য নিলামে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে এসব মুরগির বিষ্ঠা কিনেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী ২০ থেকে ৩০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোম্পানির শেড থেকে মালামাল সরিয়ে নেয়ার কথা ছিল। এর অংশ হিসেবে ২১শে সেপ্টেম্বর চারটি ট্রাকে করে জৈব সারগুলো ঠাকুরগাঁওয়ে নেয়া হচ্ছিল।

পথে ট্রাকগুলো হাবিলদারবাসা এলাকায় পৌঁছালে একদল লোক সেগুলোর গতিরোধ করে চালকদের নামিয়ে দেয়। পরে চালকদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে ট্রাকগুলো মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকায় নিয়ে গিয়ে শ্রমিকদের মাধ্যমে জৈব সার নামিয়ে নেয়া হয়। এ ঘটনায় রিপন হোসেন চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে জোরারগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এজাহারে নাম উল্লেখ করা ব্যক্তিরা হলেন নোয়াখালীর সুধারাম থানার জালিয়াল এলাকার আবির (২৮) ও কবির (৫০), মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নের জয়পুর পূর্ব জোয়ার এলাকার বাসিন্দা ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য শাখাওয়াত হোসেন প্রকাশ সাখা এবং নাজিম উদ্দিন রানা (৩৪)।

এ বিষয়ে শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমার নেতৃত্বে মুরগির বিষ্ঠা লুটের অভিযোগ সম্পন্ন মিথ্যা। আল্লাহ আমাকে অনেক দিয়েছে, আমি কেন এসব ছোট বিষয়ে নজর দেবো? ব্যবসায়ী রিপন নিজ থেকে মাঝে মধ্যে খরচের টাকা দিতো।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধ্যম মজল হক ও মো. শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ৬৭ হাজার ২০০ কেজি মুরগির বিষ্ঠা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। ২ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।