সেতু আছে। নেই সংযোগ সড়ক। ফেনীতে এ রকম সেতু আছে ৪টি। দাগনভূঞা, সোনাগাজী ও ছাগলনাইয়ায় এগুলোর অবস্থান। সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ের সেতুগুলো কাজে আসছে না। অথচ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সময় ক’বছর আগেই শেষ হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর অবশ্য সংযোগ সড়ক তৈরি গৎবাঁধা নিয়েমে আশ্বাসবাণী শুনিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘদিন। এ কারণে কোনো কাজেই আসছে না এসব সেতু। উল্টো অবকাঠামো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে জনদুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে যোগাযোগব্যবস্থায়। এরমধ্যে দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা থেকে বেকের বাজার সড়ক ও ছোট ফেনী নদীর উপর ৬০ মিটার ব্রিজ ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করে এলজিইডি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুর কাজ শেষ করলেও সংযোগ সড়কসহ ৩০ ভাগ কাজ বাকি। ফলে সেতু ব্যবহার করা যাচ্ছে না। যান চলাচল তো দূরের কথা সড়ক আর সেতুর উচ্চতার ফারাকে মানুষ পারাপারও সম্ভব হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগ লাঘবে মানুষ যেন পায়ে হেঁটে সেতু পার হতে পারে তার উদ্যোগ নেন আমরাই জুলাইযোদ্ধা ফেনী জেলা শাখার সেক্রেটারি দাগনভূঞা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন। তিনি জানান, আশ্রাফপুর মোমারিজপুর সংযোগ সেতুর রাস্তা নির্মাণের কাজ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যেতে দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ। যার ফলে স্থানীয় স্কুল-মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রী এবং এলাকাবাসীর যাতায়াতের সুবিধার্থে সেতুতে ওঠার জন্য দু’পাশে দুটি সিঁড়ি স্থাপন করা হয়। তিনি জানান, ২৩ ফুট উঁচু ও আড়াই ফুট চওড়া লোহার সিঁড়ি স্থাপনে এক লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। যার অর্থ ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রদান করেন। এর ফলে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে জানান মোমারিজপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুল কালাম ধনা মিয়া।
সোনাগাজীর নবাবপুর ইউনিয়নের নূর হোসেন জানান, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। তবে এলাকাবাসী ব্যবহার করতে পারছে না। মোমারিজপুর গ্রামের ফাতেমা খাতুন ও রহিমা বেগম জানান, সেতুর কাজের সময় নদীতে বাঁধ দেয়া হয়। বন্যার সময় সেই বাঁধ দিয়ে পানি যেতে পারেনি। আমাদের বাড়ির উপর দিয়ে পানি গড়িয়ে যায়। যার ফলে আমাদের ঘরবাড়ি, টিউবওয়েল, বাথরুমের কিছু অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। বাকি অংশটুকু যাওয়ার পথে। ফেনীর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘৪টি সেতুর মধ্যে ৩টির সেতুর সংযোগ সড়কের জায়গা অধিগ্রহণ করতে হবে। জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সেতুর কাজ বন্ধ রয়েছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে জমি অধিগ্রহণের চাহিদাপত্র দেয়া হয়েছে। আশা করছি ৪টি সংযোগ সড়কের জায়গা নিয়ে যে জটিলতা তা সহাসই কেটে যাবে।’
অন্যদিকে একই উপজেলার উত্তর জায়লস্কর থেকে ওমরপুর যাতায়াতের জন্য সিলোনিয়া নদীর উপর সংযোগ ব্রিজ নির্মাণ করে মেসার্স হক ট্রেডার্স নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। ৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮১ মিটার সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। কিন্তু কাজের মেয়াদ শেষ হলেও সেতুর সংযোগ সড়কের জায়গার জটিলতায় ৭ ভাগ কাজ অসম্পন্ন। এ ছাড়া ছাগলনাইয়া মহামায়া ইউনিয়নে মুহুরী নদীর উপর ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৬ মিটার মাওলানা ওবায়দুল হক সংযোগ সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।
সোনাগাজীর নবাবপুর থেকে ভোরবাজারে যাতায়াতের জন্য কালীদাস পাহালিয়া নদীর উপর ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৬ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলেও এখনো সেতু দু’টির সংযোগ সড়কের জমি জটিলতার ফলে সেতু ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফেনী জেলা প্রশাসক মাহবুবউল করিম বলেন, ‘সেতু হয়েছে। সংযোগ সড়কের অভাবে তা ব্যবহার উপযোগী করে তোলা যাচ্ছে না। কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সমস্যার সুরাহা হবে বলে আশা করি। জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে ৪টি সেতু চলাচল উপযোগী করা হবে।’
