খুবি’র সাবেক তিন ছাত্রসহ গ্রেপ্তার ৪

শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা

খুবি’র সাবেক তিন ছাত্রসহ গ্রেপ্তার ৪

ফন্ট সাইজ:

খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে ও ছাদ থেকে ফেলে হত্যার মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক তিন শিক্ষার্থীসহ এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ জেলার কালিয়া-কাশিয়ানী থানাধীন ভাটিয়াপাড়া গোল চত্বর এলাকা থেকে এসআরবি-৬, খুলনার স্পেশাল কোম্পানি ও ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে তদন্তে প্রাপ্ত এজাহারনামীয়/সন্দেহভাজন আসামি শেখ আসিফ হাসান (২৮) কে আটক করা হয়েছে। আসিফ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ডিসিপ্লিনের ১৮ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী। সে খুলনার পাইকগাছা থানার সনাতনকাটি গ্রামের শেখ মিরাজ আহমেদের ছেলে।

এর আগে ২২শে সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটায় পিরোজপুরের নেছারাবাদ থানার কুড়িয়ানা আদাবাড়ি এলাকা থেকে এসআরবি-৬ ও এসআরবি-৮-এর যৌথ আভিযানিক দল হাসনাত হাবিব রিফাত (৩০) কে গ্রেপ্তার করে। রিফাত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ ব্যাচের এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের সাবেক শিক্ষার্থী এবং সিরাজগঞ্জ সদর থানার মনোয়ার হোসেনের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। পরবর্তীতে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও দু’জনকে আটক করা হয়েছে।

২২শে সেপ্টেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হল গেটের সামনে থেকে তারেক হোসেন রুবেলকে আটক করে এসআরবি-৬। আটক রুবেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের সামনে জুস বিক্রি করতো। একইদিনে বরিশালের উজিরপুর থানা এলাকা থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ১৭ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী এবং ৪৬তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রতাপ সরকারকে আটক করে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরা দু’জনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ই সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের পেছনের ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির একটি মেসে আজমুলের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলা হয়। এরপর মেসের কিছু শিক্ষার্থী ও বহিরাগত মিলে তাকে ছাদে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের একপর্যায়ে তিনি চারতলার ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান (পড়ে গেছেন নাকি ফেলে দেয়া হয়েছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে)। পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১৯শে সেপ্টেম্বর রাতে নিহত আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দিন বাদী হয়ে হরিণটানা থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজাহারে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়।