অস্বাভাবিকভাবে বড় স্তনের সঙ্গে নারীদের একটি অপ্রত্যাশিত স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক থাকতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। বড় স্তনের কারণে পিঠ ও ঘাড়ে ব্যথা হওয়ার বিষয়টি অনেক নারীর কাছেই পরিচিত।
তবে নতুন এই গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরের গড়নের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বড় স্তন শুধু শারীরিক অস্বস্তির কারণই নয়, এর সঙ্গে কিছু স্নায়বিক ও ঘুমজনিত সমস্যারও সম্পর্ক থাকতে পারে। খবর নিউ ইয়র্ক পোস্টের।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত গবেষণাটিতে ‘ম্যাক্রোমাস্টিয়া’ নামের একটি শারীরিক অবস্থার দিকে বিশেষভাবে নজর দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় নারীর স্তনের আকার তার শরীরের গড়নের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়।
গবেষণাটির প্রধান লেখক ক্রিস্টিন পোকক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, অনেকে স্তনের অতিরিক্ত বৃদ্ধি বা বড় আকারকে মূলত সৌন্দর্যগত সমস্যা হিসেবে দেখেন। তবে আমাদের গবেষণার ফলাফল বলছে, এর সঙ্গে নারীদের স্বাস্থ্যের আরও বিস্তৃত কিছু সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই গবেষণার জন্য গবেষকেরা মাথাব্যথা ও স্নায়ুরোগ চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নেয়া ৬৮৭ নারীর স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। এতে দেখা যায়, যেসব নারীর স্তনের টিস্যু অতিরিক্ত বড়, তাদের ঘাড়ে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
এ ছাড়া তাদের সারভাইকাল র্যাডিকুলোপ্যাথি অর্থাৎ ঘাড়ের কোনো স্নায়ু চাপে পড়া বা আটকে যাওয়ার সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল দ্বিগুণেরও বেশি।
বড় স্তনের সঙ্গে ঘুমের সমস্যারও সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা যায়, ম্যাক্রোমাস্টিয়ায় আক্রান্ত নারীদের অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। তবে বড় স্তনের কারণে শারীরিক চাপ অনুভব করা নারীদের কাছে এসব ফলাফল খুব একটা বিস্ময়কর নাও হতে পারে।
এই গবেষণার আরও একটি অপ্রত্যাশিত বিষয় হলো, ম্যাক্রোমাস্টিয়ায় আক্রান্ত নারীদের দীর্ঘস্থায়ী মাইগ্রেনে ভোগার ঝুঁকি অন্য নারীদের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো এই অবস্থার সঙ্গে মাথাব্যথার সম্পর্ক স্বীকার করলেও, অতিরিক্ত বড় স্তনের সঙ্গে বিভিন্ন স্নায়বিক সমস্যার কীভাবে সম্পর্ক তৈরি হয়, সে বিষয়ে এখনো খুব কম তথ্য রয়েছে।
পোকক বলেন, এই সম্পর্কগুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে পারলে নারীদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে এমন উপসর্গের ক্ষেত্রে আরও পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ম্যাক্রোমাস্টিয়া তুলনামূলকভাবে পরিচিত একটি শারীরিক অবস্থা হলেও এর আরও গুরুতর একটি রূপ রয়েছে, যার নাম গিগ্যান্টোমাস্টিয়া । এটি অত্যন্ত বিরল এবং এতে স্তনের আকার অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়ে যায়। বিশ্বজুড়ে গিগ্যান্টোমাস্টিয়ার মাত্র প্রায় ৩০০টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
ওষুধের মাধ্যমে স্তনের বৃদ্ধি ধীর করা সম্ভব হলেও অনেক রোগীর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। গুরুতর অথবা বারবার ফিরে আসা কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা সম্পূর্ণ মাস্টেকটমি অর্থাৎ স্তন অপসারণের অস্ত্রোপচারেরও পরামর্শ দিতে পারেন।
গিগ্যান্টোমাস্টিয়ার সঙ্গে বয়ঃসন্ধি, গর্ভাবস্থা, কিছু ওষুধ, স্থূলতা, অটোইমিউন রোগ কিংবা হরমোনের ভারসাম্যহীনতার সম্পর্ক থাকতে পারে।
এ ছাড়া ব্যথা ও শারীরিক ভঙ্গিমায় সমস্যা ছাড়াও স্তনবৃন্তে অসাড়তা, স্তনের নিচে সংক্রমণ বা ক্ষত এবং উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও নিজের শরীর নিয়ে নেতিবাচক অনুভূতির মতো মানসিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
গবেষণাটির প্রাথমিক ফলাফল এই বিরল শারীরিক অবস্থা এবং নারীদের ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে আরও তথ্য দিয়েছে। তবে ম্যাক্রোমাস্টিয়া কীভাবে ঘাড়ের ব্যথা, মাইগ্রেন ও স্লিপ অ্যাপনিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এর চিকিৎসার মাধ্যমে এসব উপসর্গ কমানো সম্ভব কি না- তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
