ট্রাম্পের পর কে? এখনই দৌড়ঝাঁপ শুরু সম্ভাব্য প্রার্থীদের

ট্রাম্পের পর কে? এখনই দৌড়ঝাঁপ শুরু সম্ভাব্য প্রার্থীদের

ফন্ট সাইজ:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আসতে এখনো দুই বছরের বেশি সময় বাকি। কিন্তু এরই মধ্যে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনে মঙ্গলবার গ্রীষ্মের ভ্যাপসা গরম যেন হঠাৎ করেই বিদায় নিয়েছে। ঋতু পরিবর্তনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে নতুন এক মৌসুম, সেটি ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে তৎপরতা।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুর দিকের নানা টানাপড়েনের মধ্যে বিষয়টি অনেকটাই আড়ালে ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই নির্বাচনকে ঘিরে আগাম তৎপরতা দৃশ্যমান হয়েছে।

সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান প্রার্থীরা এমন সব অঙ্গরাজ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে অংশ নিচ্ছেন, যেগুলো একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক বাছাইপর্বে গুরুত্বপূর্ণ।
এসব রাজ্যে তারা গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। কেউ প্রকাশ্যেই হোয়াইট হাউসে যাওয়ার আকাক্সক্ষা জানাচ্ছেন, কেউ আবার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে ভবিষ্যতের জন্য দরজা খোলা রাখছেন।
ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে- এমন বাস্তবতা এমনকি ট্রাম্পকেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বাধ্য করেছে। তিনি ক্ষমতা ছাড়ার বিষয়টি স্বীকার করতে খুব একটা আগ্রহী নন। তবে মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণে ইরানের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি আরও আড়াই বছর এখানে থাকব।

সিএনএন বলছে, সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের এই সময়ে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠা অবশ্য অস্বাভাবিক নয়। মধ্যবর্তী নির্বাচন তাদের দলীয় সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর একটি সুযোগ।
তবে ২০২৮ সালের নির্বাচনী দৌড় এবার যেন হঠাৎ করেই অনেক বেশি বাস্তব বলে মনে হচ্ছে। এর একটি কারণ হতে পারে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা, যা অনেকের মধ্যে একটি রাজনৈতিক যুগের শেষের আবহ তৈরি করছে। পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটরাও অবশেষে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে।

মঙ্গলবার সেই পরাজয়ের স্মৃতিও সামনে এসেছে। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস, যিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে ডেমোক্র্যাটদের প্রার্থী হয়েছিলেন, মিশিগানে গেছেন। সেখানে তিনি ডেমোক্র্যাটদের সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের পক্ষে দলীয় সমর্থন ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেন।
তবে ২০২৮ সালের সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের মধ্যে হ্যারিসই একমাত্র নন। নিউইয়র্কের প্রতিনিধি আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ প্রগতিশীল রাজনীতিকদের একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বলয় তৈরি করছেন।
জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফ এখনও নিজের পুনর্র্নিবাচন নিশ্চিত করতে পারেননি, কিন্তু এরই মধ্যে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে তাকে ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এ ছাড়া ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিটজকার, কেন্টাকির গভর্নর অ্যান্ডি বশিয়ার এবং পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরোকেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘিরে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।
রিপাবলিকান শিবিরেও পরিস্থিতি একই রকম। বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের প্রতিটি বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। ট্রাম্পের উপস্থিতির মধ্যেই সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি তিনি।
সিনেটর টেড ক্রুজ, সিনেটর র‌্যান্ড পলসহ আরও কয়েকজন সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রার্থী প্রকাশ্যেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
এমনকি ৭৪ বছর বয়সী লুইজিয়ানার সিনেটর জন কেনেডিও মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ওয়াশিংটন পোস্ট-কে বলেছেন, তিনি সিনেটে পুনর্র্নিবাচনের জন্য লড়াই করার পরিকল্পনা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র যখন নানা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাওয়া রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

২০২৮ সালে দুই দলের কী প্রয়োজন?
২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। কারণ, দুই প্রধান দলই নতুন নেতৃত্বের দিকে এগোবে এবং উভয় দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি হবে।
রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য প্রার্থীকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে- ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী, নাকি দলের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী রক্ষণশীল শিকড়কে আবার সামনে আনা হবে।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের প্রয়োজন এমন একজন নেতা, যিনি দলের প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থী- দুই অংশকে একত্র করতে পারবেন।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পবিরোধী অবস্থান হয়তো ডেমোক্র্যাটদের জন্য কার্যকর রাজনৈতিক বার্তা হতে পারে।
তবে বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে, জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় যে দল ভোটারদের আস্থা হারিয়েছিল, সেই দলটির প্রতি ভোটারদের একটি অংশ এখনও অসন্তুষ্ট।
ফলে ২০২৮ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সামনে শুধু ট্রাম্পবিরোধী অবস্থান নয়, নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ও নেতৃত্বের প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।