মালয়েশিয়ায় শিশু যৌন নির্যাতনবিষয়ক উপকরণ সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী পরিচালিত বিশেষ অভিযানে একজন বাংলাদেশি নাগরিকসহ মোট ৫৩ জনকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আটজন অপ্রাপ্তবয়স্ক; তাদের একজনের বয়স মাত্র ১৩ বছর। একই অভিযানে ৬ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৩টি ডিজিটাল ফাইল শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫ লাখ ৪০ হাজার ১২৭টি শিশু যৌন নির্যাতনবিষয়ক উপকরণ এবং ১ লাখ ১৩ হাজার ৬৬টি প্রাপ্তবয়স্কদের পর্নোগ্রাফিক ফাইল রয়েছে।
দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা জানিয়েছে, ‘অপ পেডো ইন্টিগ্রেটেড ৩.০’ নামের এই অভিযান গত ১৪ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একযোগে পরিচালনা করা হয়। বুকিত আমানের অপরাধ তদন্ত বিভাগের ডি১১ ইউনিট ও মালয়েশিয়ার যোগাযোগ ও মাল্টিমিডিয়া কমিশনের সংগৃহীত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৪টি রাজ্যে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৪০৬ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য এবং কমিশনের ৪৩ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।
পুলিশের বরাতে বারনামা জানিয়েছে, অভিযানে ৯২টি লক্ষ্যবস্তু যাচাই করা হয় এবং ৫২টি স্থানে অভিযান চালিয়ে ১৩ থেকে ৫৬ বছর বয়সী ৫৩ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৫১ জন পুরুষ ও দুজন নারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫২ জন মালয়েশিয়ার নাগরিক এবং একজন বাংলাদেশি নাগরিক। এছাড়া শিক্ষা খাতের দুজন সরকারি কর্মচারীও আটক হয়েছেন—তাদের একজন শিক্ষক এবং অন্যজন একটি পৃথক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাগার সহকারী।
বুকিত আমানের অপরাধ তদন্ত বিভাগের পরিচালক এম. কুমার জানিয়েছেন, পুলিশ বন্ধ অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে শিশু যৌন নির্যাতনবিষয়ক ভিডিও ও অ্যানিমেশন তৈরি, বিতরণ এবং বিক্রির কার্যক্রমও শনাক্ত করেছে। এসব ডিজিটাল উপকরণ ৫০ থেকে ৬০ রিঙ্গিত মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছিল। অর্থ পরিশোধের জন্য ই-ওয়ালেট, পেপাল এবং টাচ ‘এন গোসহ বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হলেও এ ধরনের অপরাধের প্রবণতা ও এর ভবিষ্যৎ বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তার মতে, শিশু ও তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
অভিযানে পুলিশ ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, তথ্য সংরক্ষণকারী বিভিন্ন যন্ত্র এবং যৌন সামগ্রীসহ মোট ৯৫টি আলামত জব্দ করেছে। পাশাপাশি ৬ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৩টি ডিজিটাল ফাইল শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে ৫ লাখ ৪০ হাজার ১২৭টি শিশু যৌন নির্যাতনবিষয়ক উপকরণের ফাইল এবং ১ লাখ ১৩ হাজার ৬৬টি প্রাপ্তবয়স্কদের পর্নোগ্রাফিক ফাইল রয়েছে।
এদিকে, পুলিশ অভিভাবকদের সন্তানদের ডিজিটাল কার্যক্রমের ওপর নিয়মিত নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও আইনগত পদক্ষেপের পাশাপাশি পরিবার পর্যায়ে সচেতনতা এবং শিশুদের অনলাইন কার্যক্রমের ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে বারনামা।
