টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজে রাতের আঁধারে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের ঘটনায় থানায় মামলায় দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে ঠিকাদার জাহাঙ্গীর হোসেন এবং সাব-ঠিকাদার শাহা আলমের নামে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর সন্ধ্যায় সাব- ঠিকাদার শাহা আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে এলজিইডি’র ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল মনজুর মো. ছাদেকের নেতৃত্বে তাদের তদন্ত কমিটি এবং জেলার তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তারা কাজের মান তদারকি করেন। এর আগে সোমবার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশ হওয়ার পর ঢাকা সদর দপ্তর, জেলা এলজিইডি এবং উপজেলা থেকে পৃথক ৩ টি কমিটি গঠন করা হয়। যার ফলে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
ব্রিজে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে সরজমিন পরিদর্শন করে সত্যতা পেয়েছেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইকবাল হোসেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ ঘটনায় টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডি’র পক্ষ থেকে জেলা সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলীকে আহ্বায়ক এবং সদর উপজেলা প্রকৌশলীকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। অপরদিকে বাসাইল উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে প্রধান করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। জানা যায়, বাসাইল উপজেলাধীন বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০.০৬ মিটার দৈর্ঘ্য গার্ডার ব্রিজ পুনর্নির্মাণের কাজ পাই মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ব্রিজটির কাজ শুরু হয় ২০২২ সালে সেপ্টেম্বর মাসে ও শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। পরে এই ব্রিজের কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এই ব্রিজের ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও ২০ শতাংশ কাজ বাকি আছে। স্থানীয় কয়েকজন জানান, রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেতুর ফুটপাথের স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে তারা বাধা দেন। একপর্যায়ে কাজটি বন্ধ করা হয়।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা মুঠোফোনে ওই কাজের ভিডিও ধারণ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা চলে যাওয়ার পর রাতে আবার নির্মাণকাজ শুরু হয়। ওই রাতেই ফুটপাথের স্ল্যাব তৈরির কাজ শেষ হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণ করা ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এ প্রসঙ্গে বাসাইল থানার ওসি আলমগীর কবীর বলেন, মামলার পর সাব-ঠিকাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতকে বুধবার টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হবে।
