স্কুল ভর্তি

পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লটারি রাখার পরিকল্পনা

ফন্ট সাইজ:

স্কুল ভর্তিতে পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার ঘোষণায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম হয়েছিল। বেড়ে যায় কোচিং-গাইড বাণিজ্য। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পড়ে ভয়াবহ মানসিক চাপে। প্রথম শ্রেণিতে থাকবে না পরীক্ষা- এটি জানিয়ে দেয়া হয়েছিল আগেই। এবার পুরো প্রাইমারি লেভেলে (প্রথম থেকে পঞ্চম) পরীক্ষা না রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হতে বসতে হবে পরীক্ষার হলে।
‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা, ২০২৬’-এর খসড়ায় এই প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) খসড়াটি তৈরি করেছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। খসড়া অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো লিখিত পরীক্ষা থাকবে না। এসব শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে। অন্যদিকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছুদের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরের লিখিত। দুই ঘণ্টার এই পরীক্ষায় বাংলা ও ইংরেজিতে ৩০ নম্বর করে এবং গণিতে ৪০ নম্বর থাকবে। খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, ৪০ শতাংশ রাখা হবে ক্যাচমেন্ট এরিয়ার জন্য।

মাউশি’র এক কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৫০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে শেষ পর্যায়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে লটারির প্রস্তাব করা হয়েছে। মাউশি’র মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ভর্তি নীতিমালার খসড়া শিগগিরই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে মন্ত্রণালয় নীতিমালাটি চূড়ান্ত করবে। উল্লেখ্য, গত ৬ই আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণি বাদে অন্যান্য শ্রেণির পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি নেয়া হবে। আর প্রথম শ্রেণির ভর্তি হবে লটারির মাধ্যমে। ২০১১ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয়। করোনা মহামারির সময় ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে পরিস্থিতির কারণে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয়। এরপর থেকে এ পদ্ধতিই অনুসরণ করা হচ্ছে।