এবারের মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা নিয়ে অদ্ভুত এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিযোগিতা থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ৬ জন প্রতিযোগীকে বাদ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ইস্যুতে সৃষ্ট এই বিভক্তির ফলে দু’টি পক্ষের সৃষ্টি হয়েছে। মূল সংস্থা ওই ৬ দেশের ৬ প্রতিযোগীকে অযোগ্য ঘোষণা করেছে। পক্ষান্তরে থাইল্যান্ডভিত্তিক ওই দেশগুলোর দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান বলেছে, অন্যায়ভাবে এ ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তারা ওই ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করে। পাশাপাশি ঘোষণা না মেনে প্রতিযোগীদের মূল প্রতিযোগিতায় পাঠাবে তারা। এ জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে মিস থাইল্যান্ড নির্বাচন হয়ে গেছে। আগামী মাসে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া তাদের প্রতিযোগীকে নির্বাচন করবে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রতিযোগিতা নিয়ে সৃষ্টি হতে পারে হ-য-ব-র-ল। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে বলা হয়েছে, এ বছর মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়ছেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ৬ প্রতিযোগী। প্রতিযোগিতার দু’টি মালিকানা গ্রুপের বিবাদে তাদেরকে অযোগ্য করা হয়েছে। আগামী নভেম্বরে পুয়ের্তো রিকোতে হবে এবারের ৭৫তম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার মূল আসর। এই প্রতিযোগিতায় মিস ইউনিভার্স ব্রান্ডের মালিক জেকেএন ইউনিভার্স এলএলসি। তারা ১৮ই সেপ্টেম্বর জানিয়ে দেয় যে, এবার প্রতিযোগিতা করতে পারবেন না থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের প্রতিযোগীরা। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, মিস ইউনিভার্স ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি পরিচালনা করেন থাই ব্যবসায়ী নাওয়াত ইটসারাগরিসিল। মিস ইউনিভার্স ব্রান্ডের অধিকার অন্যকে দেয়া বা হস্তান্তরের কোনো অধিকার নেই এই কোম্পানির।
এতে আরও বলা হয়, জেকেএন ইউনিভার্সের সঙ্গে বৈধ লাইসেন্স ব্যতীত ওই ৬টি দেশ ফ্র্যাঞ্চাইজ চুক্তি করেছে। শুরু থেকেই এ বিষয়টি অনুমোদিত নয় এবং তা বাতিল বলে গণ্য হবে। প্রতিযোগিতাটির পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলগুলোর দায়িত্বে থাকা এমইউ ইস্ট এই ঘোষণাটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানিয়েছে যে, তারা বিবৃতিটি ‘পর্যালোচনা বা অনুমোদন করেনি’ এবং এটি মিস ইউনিভার্সের দুই মালিকের সম্মত অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করে না। এমইউ ইস্ট দাবি করেছে যে থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে যথাযথ ৬ নির্বাচিত প্রতিযোগী ও বৈধ প্রতিনিধিদের প্রতিযোগিতায় পাঠানোর বিধিবদ্ধ অধিকার আছে। দু’টি পক্ষের অমতের কারণে এসব প্রতিযোগীর অংশগ্রহণ আটকে দেয়া, বিলম্বিত করা বা ক্ষতিগ্রস্ত করা উচিত হবে না। ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তিকে অবৈধ ঘোষণা করায় জেকেএন ইউনিভার্সের যে প্রচেষ্টা তারা তাও প্রত্যাখ্যান করেছে।
এমইউ ইস্ট বলেছে তারা এটা মেনে নেয় না যে, তার আঞ্চলিক অধিকারের অধীনে সম্পাদিত ওই চুক্তি বৈধ। একটি একতরফা প্রকাশ্য বিবৃতির মাধ্যমে তা বাতিল করা যেতে পারে না। এর ফলে প্রতিযোগীরা পড়েছেন ব্যতিক্রমী একটি অবস্থায়। প্রতিযোগিতা বিষয়ক সংগঠনের একটি পক্ষ বলছে, ওই ৬টি দেশের প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করতে পারবেন না। অন্যদিকে আরেক পক্ষ বলছে, জাতীয় পর্যায়ের ফ্রাঞ্চাইজ ইস্যুতে তাদের অধিকার সুরক্ষিত। উল্লেখ্য, ৩১শে জুলাই এমইউ ইস্ট-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ইটসারাগরিসিলকে। তিনি ৯৫টি দেশের প্রতিনিধিদের চার্জে থাকছেন বলে ঘোষণা দেয়া হয়। তিনি বলেন, পূর্বাঞ্চলে জাতীয় পর্যায়ের পরিচালক, প্রতিনিধি এবং বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবেন। ১৮ই সেপ্টেম্বর তিনি এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে বলেন, ওই ৬ প্রতিযোগীকে সমর্থন করেন তিনি। একই সঙ্গে বলেন, জেকেএন ইউনিভার্সের ওই ঘোষণা সত্ত্বেও প্রতিযোগীরা পুয়ের্তো রিকো সফর করবেন। তবে তিনি সেখানে যাবেন না।
এমন অবস্থায় পড়া ৬টি দেশের মধ্যে শুধু থাইল্যান্ড এরই মধ্যে তাদের প্রতিনিধি বাছাই করেছে। এ উদোগে আগস্টে থারিনা বোটস’কে মিস ইউনিভার্স থাইল্যান্ড হিসেবে বাছাই করেছে তারা। আগামী মাসে মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনাম তাদের প্রতিযোগীকে বাছাই করতে পারে। গত বছর ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতা। সেখানে মূল প্রতিযোগিতার আগেই একটি অনুষ্ঠানে মেক্সিকোর মিস ফাতিমা বশের প্রকাশ্য ভর্ৎসনার পর কয়েকজন প্রতিযোগী অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যান। প্রচারমূলক কার্যক্রমে অংশ নেয়া নিয়ে বশকে প্রকাশ্যে তিরস্কার করেন ইতসারাগরিসিল। বশের সঙ্গে ওই উত্তপ্ত কথোপকথনের সময় ইতসারাগরিসিল তাকে ‘বোকা মাথা’ বলে অভিহিত করেন এবং নিরাপত্তাকর্মীদের তাকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দিতে বলেন। এই ঘটনার পর ডেনমার্কের তৎকালীন মিস ইউনিভার্স ভিক্টোরিয়া কেয়ার থেইলভিগসহ কয়েকজন প্রতিযোগী বসের সমর্থনে অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যান। পরে মিস ইউনিভার্সের প্রেসিডেন্ট রাউল রোচা ইতসারাগরিসিলের আচরণের নিন্দা জানান এবং বলেন, ২০২৫ সালের প্রতিযোগিতায় তার সম্পৃক্ততা ‘সীমিত’ করা হবে। পরে ইতসারাগরিসিল ক্ষমা চান। তিনি থাই ভাষায় বলেন, ‘কেউ যদি ভালো অনুভব না করেন, কেউ যদি অস্বস্তি বোধ করেন, কিংবা কেউ যদি এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তাহলে আমি সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। আমি ইতিমধ্যে কক্ষে থাকা অন্য মেয়েদের কাছেও কথা বলে ক্ষমা চেয়েছি। সেখানে প্রায় ৭৫ জন মেয়ে ছিলেন।’
