সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তান সিরিজের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের আনুষ্ঠানিক স্কিল ক্যাম্প। নেটে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং ও বোলিং অনুশীলনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। স্পিন বোলিং মেশিন থেকে শুরু করে পেসারদের জন্য বিশেষ স্ল্যাব-সব ধরনের অনুষঙ্গ ব্যবহার করে চলছে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার জোর প্রস্তুতি। দলের সার্বিক পরিকল্পনা, চোট সমস্যা ও ব্যাটারদের বর্তমান ফর্ম নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। তার সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো-
প্রশ্ন: আফগানিস্তানের স্পিন শক্তির কথা মাথায় রেখেই কি নেটে স্পিন বোলিং মেশিনে বাড়তি জোর দেয়া হচ্ছে?
মোহাম্মদ আশরাফুল: না, বিষয়টি শুধু আফগানিস্তান বলেই নয়। হেড কোচ ফিল সিমন্স সুযোগ পেলেই এ ধরনের বিশেষ ট্রেনিং করিয়ে থাকেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের আগেও আপনারা দেখেছেন আমরা বোলিং মেশিন ও পেসারদের জন্য স্ল্ল্যাব ব্যবহার করেছি। দুবাই যাওয়ার আগে আমরা মোট ছয়টি স্কিল ট্রেনিং সেশন পাচ্ছি। যদিও টেস্ট স্কোয়াডের ক্রিকেটাররা আগে থেকেই ফিটনেস ও ব্যক্তিগত প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তবে দলীয় স্কিল সেশন আজ থেকে শুরু হলো।
আফগানিস্তান হয়তো স্পিন-সহায়ক উইকেট তৈরি করতে পারে। তাই সব ধরনের পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই আমরা প্রতিটি বিকল্প নিয়ে নিবিড় অনুশীলন করছি।
প্রশ্ন: মুশফিকুর রহীমসহ অন্য ব্যাটারদের নিয়ে আজ দীর্ঘ সময় কাজ করলেন। মূলত কোন জায়গাটিতে জোর ছিল?
আশরাফুল: আজ আমাদের অনুশীলন সূচি ছিল বেশ দীর্ঘ। লাঞ্চের আগে প্রায় দুই ঘণ্টা এবং বিরতির পর আরও দেড় ঘণ্টার মতো কাজ হয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল ব্যাটাররা যেন উইকেটে লম্বা সময় ব্যাটিং করতে পারেন এবং বোলাররাও যেন দীর্ঘ স্পেল করার মতো স্ট্যামিনা ও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেন। কালকেও আমাদের একই পরিকল্পনা থাকবে। টেস্ট মেজাজে দীর্ঘক্ষণ ক্রিজে টিকে থাকার মানসিকতা তৈরি করাই এখনকার মূল ফোকাস।
প্রশ্ন: চোটের কারণে নাহিদ রানাকে একমাত্র টেস্টে পাওয়া যাচ্ছে না। এই পেসারকে ওয়ানডে সিরিজে পাওয়ার সম্ভাবনা কতটা?
আশরাফুল: রানার চোটের বিষয়টি এখন সবারই জানা। ও বর্তমানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। একমাত্র টেস্ট ম্যাচটিতে নিশ্চিতভাবেই ওকে পাওয়া যাচ্ছে না। পরবর্তীতে ওয়ানডেতে ও ফিট হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত প্রধান কোচ, অধিনায়ক এবং নির্বাচকরা আলোচনা করে নেবেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, আমাদের বাকি পেসাররাও দারুণ বোলিং করছেন। অস্ট্রেলিয়ায় কিন্তু রানা ছাড়াই আমরা একটা টেস্টে আধিপত্য বিস্তার করে জয় পেয়েছিলাম। দ্বিতীয় টেস্টেও পেসাররা দারুণ লড়াই করেছে। দলে যারাই সুযোগ পাচ্ছেন, নিজেদের প্রমাণ করছেন।
প্রশ্ন: প্রায় এক বছর পর দলে ফিরেছেন জাকের আলী অনিক। অনুশীলনে তাকে কেমন ছন্দে দেখলেন?
আশরাফুল: জাকের অস্ট্রেলিয়াতেও প্রথম টেস্টের আগে খুব চমৎকার ব্যাটিং অনুশীলন করছিল। ওকে দেখে তখনই মনে হয়েছিল ভালো হৃদমে আছে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়েতে ‘এ’ দলের হয়ে খেলে রান করেছে। ওর ব্যাটিং দেখে স্পষ্ট যে ও আগের সেই আত্মবিশ্বাসী ছন্দে ফিরে এসেছে। মূল একাদশে সুযোগ পেলে ও নিশ্চয়ই নিজের সেরাটা দেবে।
প্রশ্ন: জাপানে হাই-স্কোরিং ম্যাচ হতে দেখা যাচ্ছে। উইকেটের কন্ডিশন বিবেচনায় প্রস্তুতি কেমন হচ্ছে?
আশরাফুল: জাপানে মেয়েদের খেলায় ২০০র বেশি রান উঠছে, ব্যাটে বল খুব সুন্দরভাবে আসছে। ওখানকার আউটফিল্ডও অনেক ফাস্ট। আমাদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে রান ১৪০-এর ঘরে আটকে ছিল, কারণ ভেজা আউটফিল্ডে বাউন্ডারি পাওয়া কঠিন হচ্ছিল। আজকের ম্যাচে রান আরও বাড়বে বলে আশা করি। কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার সঙ্গে কোচিং স্টাফদের হয়তো নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। আমরা সব ধরনের উইকেটের কথা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছি। ভালো উইকেট হলে কীভাবে ২০০ ছাড়ানো সংগ্রহ গড়া যায়, আর মন্থর উইকেট হলে কীভাবে ১৪০ থেকে ১৬০ রান তুলেও ম্যাচ জেতা সম্ভব, তা নিয়েই কাজ করছি।
প্রশ্ন: সাদমান ইসলাম টেস্টে কিছুদিন ধরে কিছুটা ছন্দে নেই। তার টেকনিক্যাল বিষয়গুলো কীভাবে দেখছেন?
আশরাফুল: সাদমান দেশের হয়ে ৩০টি টেস্ট খেলেছে, দীর্ঘ সময় ধরে এই একটি ফরম্যাটেই মনোযোগ দিয়ে খেলছে। ওর ক্যারিয়ারে দু’টি সেঞ্চুরি আছে এবং কয়েক ইনিংস আগেই কিন্তু আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাক-টু-ব্যাক ৮০ রানের ইনিংস খেলেছে। ও নেটে কঠোর পরিশ্রম করছে। যেসব জায়গায় টেকনিক্যাল সমস্যা হচ্ছিল, সেগুলো শুধরে নেয়ার চেষ্টা করছে। সাদমানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আছে, আশা করি শিগগিরই ও রানে ফিরবে।
