গেমসে মেডেল ম্যাচ ছাড়া প্রেস কনফারেন্সের সুযোগ নেই। ব্রোঞ্জ মেডেলের ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে হেরে পদক হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের। তাই সংবাদ সম্মেলনেও আসবে না মেয়েরা। একমাত্র ভরসা মিক্সড জোন। কোরোগি স্পোর্টস পার্কের মিক্সড জোনে কাল প্রথমে আসেন শারমিন আক্তার সুপ্তা। সেখানে কথাই বলতে চাইছিলেন না কোচ সারোয়ার ইমরান। এক প্রকার জোর করেই ম্যানেজার ফাইয়াজের মাধ্যমে তাকে হাজির করা হয়। মিক্সড জোনে হাজির হয়ে বোমা ফাটালেন বাংলাদেশ নারী দলের এই হেড কোচ। হারের দায় চাপালেন বিসিবি’র কর্তাদের ওপর। তিনি বলেন, ‘বিসিবিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বলনে বাইরের কথাতেই মেয়েরা তাদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারেনি।’
বিশ্বকাপ পর্যন্ত ঠিকঠাক ছিল। পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে দেশে ফিরেছিল নিগার সুলতানা জ্যোতিরা।
এরপরেই ছন্দপতন। শ্রীলঙ্কার কাছে সহজ ম্যাচ হার দিয়ে এশিয়া কাপ শুরু। এরপর ইন্দোনেশিয়া, আরব আমিরাতের মতো দলের বিপক্ষে ১২০ রানের পুঁজি দাঁড় করাতে হিমশিম খায় জ্যোতিরা। সেমিফাইনালে ভারতের কাছে তো পাত্তাই পায়নি মেয়েরা। এশিয়া কাপ চলাকালেই মিডিয়ায় কোচ ও অধিনায়কের সমালোচনা করেন বিসিবি’র পরিচালক ও নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু। সারোয়ার ইমরানের জায়গায় নতুন কোচ আনারও ঘোষণা দেন বিসিবি’র এই পরিচালক। তার এই কথার পরেই এশিয়ান গেমসের পর টি-টোয়েন্টির দায়িত্ব ছাড়ার কথা বলেন জ্যোতি। যার প্রভাব পড়ে পুরো দলে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ক্রিকেটাররা। দলের চ্যাঞ্চলো হারিয়ে যায়।
কাল পদক হারোনোয় সেটাই জানালেন সারোয়ার ইমরান। আগামী অক্টোবর পর্যন্ত বিসিবি’র সঙ্গে চুক্তিতে থাকা এই কোচ বলেন, ‘আমাদের আসলে সমস্যাটা শুরু হয়েছে এশিয়া কাপ থেকে। আমরা এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ক্লোজ ম্যাচ হেরেছি। হারার পর থেকেই আমাদের বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর-টবর আসে, এসবের কারণে ইন্দোনেশিয়া এবং ইউএই’র মতো টিমের সঙ্গেও ১২০-১৩০ করতে পারিনি আমরা। ওই জিনিসটা এখনো ক্যারি করেছি এশিয়ান গেমসে।’ ১৪৫ রান তাড়া করতে না পারার কারণ জানিয়ে এই কোচ বলেন, ‘আজকে (গতকাল) হয়তো আমরা যদি পাওয়ার প্লেতে ভালো ব্যাটিং করতে পারতাম, ম্যাচটা জেতা সম্ভব ছিল। ১৪৫ রান মানে পাওয়ার প্লেতে একটা মোটামুটি ৪০-৪৫ দরকার ছিল। তারপর ১৫ ওভারে ১০০ রান। কিন্তু আমরা পাওয়ার প্লেতে ২৪ রান করেছি, যা আমাদের অনেক পিছিয়ে দিয়েছে।’ কি কথা? কীভাবে দলের উপর প্রভাব ফেলেছে জানতে চাইলে সারোয়ার ইমরান বলেন, ‘বাইরে অনেক কথা হয়েছে। একে ওকে সরিয়ে দেয়ার কথা বলা হচ্ছে। এরপর থেকেই কিন্তু এমন হচ্ছে।
দেখেন এশিয়া কাপ থেকে আমরা কিন্তু পারছি না, যেকোনো টিম ছয় মারছে ইজিলি, আমাদের টিম কিন্তু ছয় মারতেই পারতেছে না। যে আগে মারতো, এখন সে জায়গাতেও নেই।’ এর সমাধান কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সমাধানটা আমার মনে হয় সাইকোলজিক্যাল। বুস্ট আপ করতে হবে, আমরা বুস্ট আপ করতে পারতেছি না, এই অবস্থা।’ কোন ধরনের আলোচনা দলের উপর বেশি প্রভাব পড়েছে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক এই কোচ বলেন, ‘ধরেন, আমার সম্বন্ধেই বলা হইতেছে, আমাকে রাখবে না, একে রাখবে না... এরকম।
বোর্ড পরিবর্তন করতেই পারে। সেটা অবশ্যই টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময়ে না। আমরা একটা টুর্নামেন্ট খেলতেছি, হেড কোচ আর ক্যাপ্টেনদের আপনি সাইজ করে দিলেন, তো কীভাবে আপনি আশা করেন? দীর্ঘদিন ধরেই একটা জায়গায় আটকে আছে বাংলদেশের ক্রিকেট। বিশেষ করে ব্যাটিং। কোনোভাবেই বাংলাদেশের ব্যাটাররা ১২০-১৩০ এর বেশি স্কোর করতে পারছেন না। সেটা স্বীকার করে নারী দলের এই কোচ বলেন, ‘শিওর, আমাদের নারী ক্রিকেট একটা জায়গায় আটকে আছে। এখানে প্রসেস আছে। যেমন স্কুল ক্রিকেট চলতেছে শ্রীলঙ্কায়, শত শত স্কুল খেলতেছে মেয়েদের। আমাদের কিন্তু ওই রকম কোনো স্ট্রাকচার নেই। নতুন কোনো প্লেয়ার নেই, আমরা ৩০টার বেশি প্লেয়ার বের করতে পারি না যে ডাকবো কাকে।’
