দুজুয়ানের প্রভাব কেটে যাওয়ায় সকাল থেকেই ঝলমলে রোদ নাগোয়ায়। তবে সেই আলোয় করোগি স্পোর্টস পার্কে আলোকিত হতে পারেনি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। দলীয় কোন্দল আর ক্রিকেট বোর্ডের কর্তাদের বেফাঁস মন্তব্যে আরও একবার বাজে ক্রিকেটের প্রদর্শনী দেখলো বাংলাদেশ। পাকিস্তানের কাছে ৩১ রানে হেরে ব্রোঞ্জও হাতছাড়া হলো জ্যোতি-সুপ্তাদের। পাকিস্তানের ১৪৫ রানের জবাবে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রানে থেমেছে বাংলাদেশ। অধিনায়কত্বের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিগার সুলতানা জ্যোতি করেন ৩০ বলে ২৫ রান। শ্রীলঙ্কাকে ১৬৭ রানে হারিয়ে নারী ক্রিকেটে স্বর্ণ জিতেছে ভারত। এশিয়ান গেমসে অংশ নেয়া আগের প্রতিটি আসরেই পদক জিতেছিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। শুরুটা হয়েছিল গুয়াংজু এশিয়াডে রুপা দিয়ে।
২০১৪ সালের ইনচনেও রুপার পদক জিতেছিল মেয়েরা। ২০১৮ সালের জাকার্তা-পালেমবাং এশিয়াডে ক্রিকেট না থাকলেও হাংজুতে ফিরে আবারো পদক জেতে জ্যোতির দল, তবে এবার পদকের রং বদলে হয়েছিল তামাটে। আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসেও পদকের আশা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি তারা। র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবিধায় সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। ভেজা আউটফিল্ডের কারণে চীনের বিপক্ষে না খেলেই র্যাঙ্কিংয়ের সুবিধায় সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে জ্যোতির দল। কিন্তু শেষ চারে ভারতের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশ। হারে ১১৪ রানের বড় ব্যবধানে। এরপর ব্রোঞ্জের ম্যাচে সামনে পায় পাকিস্তানকে- যাদের হাংজুতে হারিয়েই পদক জিতেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এবার গল্পটা হলো উল্টো। যে উইকেটে নিয়মিতই রানের বন্যা বইছে, সেখানে ১৪৫ রানও তাড়া করতে পারেনি বাংলাদেশ।
আগের দিনই এই মাঠে ভারত করেছিল ১৯৫ রান। এশিয়ান গেমসে নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন ভারতের শেফালি ভার্মা। পাকিস্তানের ১৭৭ রানও শ্রীলঙ্কা পেরিয়ে গিয়েছিল ১৯ বল হাতে রেখে। আর বাংলাদেশ? ১৪৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ২০ রানেই হারায় তিন উইকেট। হঠাৎ করে একটি টুর্নামেন্টের মাঝে নেতৃত্ব ছেড়ে দেয়া জ্যোতিও শেষ ম্যাচটা রাঙাতে পারেননি। ৩০ বলে ২৫ রান করেছেন, যা শুধু ব্যবধান কমিয়েছে। শারমিন আক্তার সুপ্তার ৪৫ বলে ৪৬ রানের ইনিংসও দলের প্রয়োজন মেটাতে পারেনি। ম্যাচ শেষে জ্যোতি সরল স্বীকারোক্তিই দিয়েছেন, ‘আমরা ভালো ব্যাটিং করতে পারিনি, তাই হেরেছি।’ মিক্সড জোনে জ্যোতির সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন সুপ্তাও। তার ভাষায়, ‘পার্থক্যটা আমাদের ব্যাটিংয়েই হয়েছে।
আমরা খারাপ ব্যাটিং করেছি। এই উইকেটে ১৪০-১৫০ রান যেকোনো দলই করতে পারে। আমরাও আগে ব্যাটিং করলে ১৪০-১৫০ রান করার জন্যই যেতাম। তবে এটা কোনো অজুহাত নয়। আমরা সত্যিই খারাপ ব্যাটিং করেছি।’ শেষ দুই ম্যাচে ভারতের কাছে বড় হার এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিং ব্যর্থতা যেন বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের পুরনো সমস্যাগুলোকেই আবার সামনে নিয়ে এলো। তাই প্রথমবারের মতো পোডিয়ামে দাঁড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া করে ফিরতে হবে বাংলাদেশকে। গেমসের আগে যে ক’টি খেলায় পদকের স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ, তাদের মধ্যে ছিল নারী ক্রিকেট। সে স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে নিগাররা আরেকবার বোঝালেন, দলের অভ্যন্তরে কতোটা ভাঙাগড়া চলছে। গেমস শুরুর আগে অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিলেও এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমসে জোড়া ব্যর্থতার দায় এড়াবেন কি করে নিগার?
