ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম বলেছেন, বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও অধিদপ্তরের নজরদারিতে রয়েছে। শুধু জরিমানা করাই অধিদপ্তরের মূল উদ্দেশ্য নয়। ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি ভবনে আয়োজিত ‘ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯’ বিষয়ক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।
গণমাধ্যমকর্মীদের অংশগ্রহণে কর্মশালায় জহিরুল ইসলাম বলেন, অনলাইনে প্রতারণা বেড়েছে। ২০০৯ সালের বিদ্যমান আইনে ডিজিটাল কমার্স নেই। অনলাইনে কোনো অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর ব্যবস্থা নেয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে তথ্য-প্রমাণের অভাবে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয় না। তাই ডিজিটাল কমার্সকে আইনে অন্তর্ভুক্ত করে সংশোধনের প্রস্তাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এটি আইনে অন্তর্ভুক্ত হলে ডিজিটাল বিষয়গুলোতে আরও বেশি গুরুত্ব দেয়া সম্ভব হবে। বাজার তদারকিতে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ভোক্তা-অধিকারের মহাপরিচালক বলেন, বিএসটিআই ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের কাজ বেশি সম্পর্কিত। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। তবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই জনবল কম এবং সবার কর্মপরিধিও আলাদা। তিনি বলেন, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের আইনে জরিমানা করার বিধান রয়েছে। কিন্তু অন্য অনেক প্রতিষ্ঠান মাঠে সরাসরি জরিমানা করতে পারে না। এ কারণে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরকে সবসময় মাঠে থাকতে হয়।
খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে এককভাবে কাজ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে জহিরুল ইসলাম বলেন, এ ক্ষেত্রে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআইয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। বড় অভিযানের সময় টাস্কফোর্স গঠন করে কাজ করা হয়। তবে প্রতিদিন সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করা কঠিন। একই প্রতিষ্ঠানে সরকারের একাধিক বিভাগ একসঙ্গে গেলে ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি তৈরি হতে পারে। এ বিষয়টি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা হবে। একই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একাধিকবার জরিমানার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ অপরাধ করার পর দ্বিতীয়বার একই অপরাধ প্রমাণ হলে এবং অপরাধের মাত্রা বেশি হলে জরিমানা আরোপ করা হয়। জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে দোকানের ধরনসহ পারিপার্শ্বিক বিষয় বিবেচনা করা হয়। তখন তার বিরুদ্ধে দ্বিগুণ জরিমানার বিধান রয়েছে। এ সময় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বাড়তি ভাড়া নেয়ার মতো অভিযোগেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান মহাপরিচালক।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধে অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তাহমিনা বেগম জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১১ হাজার ১৪৮টি বাজার অভিযান পরিচালনা করে ২৪ হাজার ২২৩টি প্রতিষ্ঠানকে দণ্ড দেয়া হয়।
এসব অভিযানে ১৯ কোটি ৮০ লাখ ২৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১২ হাজার ৮৮২টি অভিযানে ২৬ হাজার ২৯৭টি প্রতিষ্ঠানকে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি করা হয়। এ সময় জরিমানা আদায়ের পরিমাণ ছিল ১৮ কোটি ৮১ লাখ ৪৯ হাজার ২০০ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৪ হাজার ২৭৯টি বাজার অভিযানে ২৭ হাজার ২৪৩টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ সময় ২৪ কোটি ২৭ লাখ ২২ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৪ হাজার ৯২টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৩ হাজার ৬২৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কর্মশালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক সেবাষ্টিন রেমা ও আতিয়া সুলতানা, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
