জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে শান্তি নিশ্চিত করা যায় না। একইভাবে প্রযুক্তিগত বা অর্থনৈতিক শক্তির মাধ্যমেও শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, আমাদের অবশ্যই এমন ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ‘ক্ষমতা আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়’। গুতেরেস বলেছেন, ‘কার জীবন ও ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ- তা নির্ধারণের চূড়ান্ত মাপকাঠি শক্তি হতে পারে না।’
জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে শান্তি মানে শুধু সংঘাতের অনুপস্থিতি নয়। বরং শান্তির জন্য ‘সংযমের উপস্থিতি’ প্রয়োজন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের বক্তব্যে গুতেরেস বলেন, বৈশ্বিক ক্ষমতার কাঠামো তিনটি প্রধান উপায়ে বদলে যাচ্ছে।
প্রথমত, রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে নতুন নতুন ‘অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রভাবকেন্দ্র’ গড়ে উঠছে। দ্বিতীয়ত, ক্ষমতা ক্রমেই বেসরকারি করপোরেশন ও ব্যক্তিদের হাতে চলে যাচ্ছে ।
তৃতীয়ত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির বিকাশের মাধ্যমে ক্ষমতা মানুষের কাছ থেকে যন্ত্রের হাতে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এর মধ্যে ‘স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের’ উন্নয়নও রয়েছে।
গুতেরেস বলেন, এসব পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য বিশ্বের প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থাগুলো এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
এ ছাড়া বক্তব্যের শুরুতেই জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘আমাদের বিশ্বের বিভাজনরেখাগুলো আরও বিস্তৃত হচ্ছে।’
যুদ্ধ থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে সৃষ্ট নানা ধরনের পরিবর্তন ও সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এগুলো আলাদা আলাদা সংকট নয়।’
তিনি বলেন, ‘এগুলো একই গল্পের বিভিন্ন অধ্যায়। ক্ষমতার গল্প। কার হাতে ক্ষমতা আছে? আর কাকে সেই ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে?’
