শ্রীলঙ্কায় ২০১৯ সালের ইস্টার সানডেতে ভয়াবহ বোমা হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ১৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন দেশটির হাইকোর্ট। ওই হামলায় ২৭০ জন নিহত এবং ৫০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন নওফের মৌলভি। দেশটির প্রসিকিউশনের দাবি, আত্মঘাতী বোমা হামলাগুলোর মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তিনি।
২০১৯ সালের ইস্টার সানডেতে তিনটি গির্জা ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে সমন্বিত বোমা হামলা চালানো হয়। ২০০৯ সালে দেশটির গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এটি ছিল শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। নিহতদের মধ্যে ৪৫ জন বিদেশি নাগরিক ছিলেন। হামলায় অংশ নেয়া সব আত্মঘাতী বোমারু বিস্ফোরণে নিহত হন।
দেশটির তদন্তকারীরা আগে থেকেই হামলার জন্য ইসলামপন্থী উগ্রবাদীদের দায়ী করে আসছেন। এ মামলায় অভিযুক্ত ২৫ জনই শ্রীলঙ্কার মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। তাদের মধ্যে একজন হেফাজতে থাকা অবস্থায় মারা যান।
আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্র এবং আগ্নেয়াস্ত্র রাখাসহ ২৩ হাজারের বেশি অভিযোগ আনা হয়েছিল। প্রসিকিউশনের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন ২ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ। এছাড়া বিস্ফোরক, তলোয়ার ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ ২ হাজার ৭৬টি আলামত আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
হামলার পর শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ এটিকে বড় ধরনের ‘গোয়েন্দা ব্যর্থতা’ হিসেবে চিহ্নিত করে। দেশটির পার্লামেন্টে জানানো হয়েছিল, হামলার বিষয়ে ভারত থেকে আগাম সতর্কবার্তা দেয়া হলেও তা যথাযথভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়নি।
২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কার সুপ্রিম কোর্ট সাবেক প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনাকে হামলার শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে কয়েক মিলিয়ন অর্থ দেয়ার নির্দেশ দেন।
আদালত তাকে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতার জন্য দায়ী করেন, যা হামলার পথ তৈরি করেছিল বলে আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।
গত মাসে হামলার সূত্রপাত ঘটানো অপরাধমূলক অবহেলার দায়ে সাবেক দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। তবে কয়েক দশক ধরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ থাকায় শ্রীলঙ্কায় সাধারণত মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।
ইস্টার হামলায় নিহতদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবিতে বহু বছর ধরে শ্রীলঙ্কায় নিয়মিত বিক্ষোভ করে আসছেন দেশটির মানুষ।
