ক্রিকেট বিশ্বের মহাশক্তিধর ভারতের বিপক্ষে যেকোনো ফরম্যাটেই জয় পাওয়া বড় বিষয়। তবে টোকিওর অদূরে সানোতে আজ যা ঘটলো, তা ক্রিকেটপ্রেমীদের বহু দিন মনে থাকবে। টানা বৃষ্টির কারণে মাত্র পাঁচ ওভারের সংক্ষিপ্ত ম্যাচে ভারত মাত্র ৩২ রানের পুঁজি নিয়েও ২ রানের নাটকীয় জয় তুলে নিলো। অন্যদিকে, জয়ের ঠিক দোরগোড়ায় পৌঁছেও আক্ষেপে পুড়তে হলো উদীয়মান ক্রিকেট দল জাপানকে।
সানোর এই ম্যাচটি যেন মনে করিয়ে দেয় ১৯৩০ সালে ডন ব্র্যাডম্যানের সিলন (বর্তমান শ্রীলঙ্কা) সফরের স্মৃতি। উইকেটের যে অবস্থা ছিল, তাকে ক্রিকেটের পরিভাষায় বলা চলে ‘স্টিকি ডগ’ বা চরম মাত্রায় স্পিন সহায়ক ও মন্থর উইকেট। ওভারপ্রতি খেলা গড়ায় ৫ ওভারে। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করা ভারত জাপানি স্পিনারদের ঘূর্ণিতে পড়ে মাত্র ৩২ রানে থামে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৬ রান করেন শ্রেয়াস আইয়ার। ইনিংসের প্রথম বলেই শূন্য রানে আউট হন মারকুটে ব্যাটার অভিষেক শর্মা। পুরো ১০ ওভারে বল করেন কেবল স্পিনাররা। গোটা ম্যাচে বাউন্ডারি হয়েছে মোটে চারটি।
স্বল্প পুঁজি নিয়ে বোলিং করতে নেমে শুরুটা দারুণ করে ভারত। অক্ষর প্যাটেলের মিতব্যয়ী বোলিং এবং ইশান কিষাণের দুর্দান্ত রানআউটে কোণঠাসা হয়ে পড়ে জাপান। প্রথম দুই ওভারে স্কোর দাঁড়ায় মাত্র ৮ রান। তবে হাল ছাড়েনি স্বাগতিকেরা। পরের দুই ওভারে রবি বিষ্ণয় ও ওয়াশিংটন সুন্দরকে চড়াও হয়ে ১০ ও ৭ রান তুলে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন জাপানি ব্যাটাররা।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য জাপানের দরকার ছিল ৮ রান। মাঠে তখন চরম উত্তেজনা। লেগ সাইডে ওয়াইড বলের কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ম্যাচটিকে আরও নাটকীয় করে তোলে। জাপানি আম্পায়ার ক্রিস থারগার্টে লেগ সাইডের বাইরে যাওয়া বলে ওয়াইড ডাকলে ভারতীয় শিবিরে অসন্তোষ দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত আরেক আম্পায়ার ক্রিস ব্রাউনের হস্তক্ষেপে সেই সিদ্ধান্ত বদলানো হয়। স্নায়ুচাপ ধরে রেখে শেষ ওভারে দারুণ বোলিং করেন অক্ষর প্যাটেল। মাত্র ৫ রান খরচ করে ভারতকে শ্বাসরুদ্ধকর ২ রানের জয় এনে দেন এই অলরাউণ্ডার।
পাঁচ ওভারের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সফলভাবে সর্বনিম্ন রান ডিফেন্ড করার রেকর্ড গড়ে ভারত। তবে এই ম্যাচ প্রমাণ করলো, জাপানে ক্রিকেটের শেকড় ধীরে ধীরে শক্ত হচ্ছে। পরাশক্তি ভারতের বুক কাঁপিয়ে যে লড়াই জাপান উপহার দিলো, তা বিশ্ব ক্রিকেটে এক নতুন বার্তা দিয়ে রাখলো।
