টাকা ছাপানো বন্ধে ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ

টাকা ছাপানো বন্ধে ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ

ফন্ট সাইজ:

রিজার্ভের পর্যাপ্ত ব্যাকআপ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধ এবং কালোটাকার দৌরাত্ম্য বন্ধে বাজারে থাকা ১০০০ টাকার নোট অবিলম্বে বাতিলের দাবিতে সরকারকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর এই নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব (অর্থ বিভাগ) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নোটিশের বিবাদী করা হয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, অর্থনীতি ও মুদ্রানীতির স্বীকৃত নিয়ম অনুযায়ী নতুন মুদ্রা বাজারে ছাড়ার বিপরীতে সমপরিমাণ স্বর্ণ, রৌপ্য কিংবা নির্ভরযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার (যেমন: মার্কিন ডলার, ইউরো, আরএমবি) রিজার্ভ থাকা আবশ্যক। কিন্তু এই নিয়ম উপেক্ষা করে বাজারে কৃত্রিম মুদ্রা সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। ফলে 'কোয়ান্টিটি থিওরি অব মানি' অনুযায়ী টাকার ক্রয়ক্ষমতা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে এবং বাজারে নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে মূল্যস্ফীতি তীব্র আকার ধারণ করছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, লাগামহীন মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ ও নিম্নবিত্ত মানুষ চরম সংকটে পড়ছে। সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত ‘জীবনধারণের অধিকার’ কেবল প্রাণ টিকিয়ে রাখা নয়, বরং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের নিশ্চয়তা দেয়। পর্যাপ্ত রিজার্ভ ছাড়া অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট নাগরিকের এই মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

১০০০ টাকার নোট বাতিলের যুক্তি তুলে ধরে নোটিশে বলা হয়, সাধারণ নাগরিক বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন লেনদেনে এই বড় অঙ্কের নোটের অপরিহার্য কোনো ভূমিকা নেই। বরং এটি কর ফাঁকিবাজ, দুর্নীতিগ্রস্ত চক্র ও অপরাধীদের কালোটাকা ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে লুকিয়ে রাখতে এবং সমান্তরাল 'ছায়া অর্থনীতি' গড়ে তুলতে সহায়তা করছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ২ হাজার টাকার নোট বাতিলের উদাহরণ টেনে নোটিশে বলা হয়, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং কালোটাকার মজুত বিনষ্ট করতে ১০০০ টাকার নোট অবিলম্বে বাতিল করা প্রয়োজন।

নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধ এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নীতিগত পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক পদক্ষেপ না নেওয়া হলে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।