সুর নরম করে ফিফায় সংস্কারের প্রস্তাব ইনফান্তিনোর

সুর নরম করে ফিফায় সংস্কারের প্রস্তাব ইনফান্তিনোর

ফন্ট সাইজ:

বিতর্কিত বাণিজ্যিক উদ্যোগ এবং ইউরোপ-আমেরিকার ফুটবল সংস্থাগুলোর অভূতপূর্ব বিদ্রোহের মুখে অবশেষে নতিস্বীকার করলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় প্রশাসনিক সংস্কার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ বহিরাগত তদন্তের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। আগামী মাসে বসতে যাওয়া ফিফা কাউন্সিলের বৈঠককে সামনে রেখে সকল সদস্য দেশের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ফিফায় সভাপতির একক ক্ষমতা ছাঁটাইসহ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর এই সুর বদলের কথা জানান তিনি।

মূলত ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামের একটি গোপনে তৈরি করা প্রস্তাব নিয়ে মারাত্মক প্রশাসনিক সংকটে পড়েছেন ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় সব টুর্নামেন্টের মার্কেটিং ও টিকিটিং স্বত্বের ২১ শতাংশ প্রাইভেট ভেঞ্চারে বিক্রি করে দেয়ার তোরজোড় প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষেপে ওঠে ইউরোপিয়ান ফুটবল সংস্থা উয়েফা। তাতে সায় দেয় উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান ফুটবল সংস্থা কনকাক্যাফ। বিরোধীরা ফিফার রিজার্ভ ফান্ড থেকে অবিলম্বে প্রতিটি সদস্য দেশকে ১০ মিলিয়ন ডলার করে দেয়ার যৌথ দাবি জানায়। শুধু তাই নয়, উয়েফা যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনি পদক্ষেপ নেয়ারও প্রস্তুতি শুরু করে।

পরিস্থিতি পুরোপুরি হাতের বাইরে চলে যেতে দেখে চিঠিতে সমঝোতার হাত বাড়িয়ে ইনফান্তিনো লিখেছেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহে আপনারা যা বলেছেন, তা আমি গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। মূল পরিকল্পনা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হওয়ার আগেই বাইরে চলে যাওয়ায় ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। তবে আমি পরিষ্কার বলতে চাই, ফিফার প্রশাসনিক ও ক্রীড়া সংক্রান্ত স্বাধীনতা কখনোই বিক্রির জন্য ছিল না, আর ভবিষ্যতেও থাকবে না।’

নিজের ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার আভাস দিয়ে ফিফা প্রধান আরও লেখেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য কিন্তু বদলে যায়নি, তবে বড় বড় নীতি কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে সেই কাঠামোগত প্রক্রিয়ার শক্তি পরিবর্তন করা প্রয়োজন। বিগত এক দশকে আমাদের অর্জন আমাদের মূল ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে। তবে আগামী দিনের বিশাল সিদ্ধান্তগুলোর জন্য বর্তমান ব্যবস্থা কতটা মানানসই, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।’

তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের দাবি, ২০২৭ সালের মার্চে চতুর্থবারের মতো ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পথ সুগম করতেই মূলত ইনফান্তিনোর এই কৌশলগত সুর বদল। উয়েফা ও ইংলিশ এফএ সভাপতির মতো শীর্ষ কর্তারা ইতিমধ্যেই সমস্ত গোপন নথি জনসমক্ষে প্রকাশের কঠোর দাবি তুলেছেন। আগামী ১৫ই অক্টোবরের ফিফা কাউন্সিল বৈঠকে ইনফান্তিনো নিজের চেয়ার বাঁচাতে ক্ষমতার কতটুকু ছাড় দেন, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।