যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পা রাখছে ইরানের একটি সংক্ষিপ্ত কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে বড় কিছু ঘটার ইঙ্গিত দিয়েছেন। যুদ্ধকালীন এমন মুহূর্তেই আজ মঙ্গলবার দেশটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও তার দলের। চলমান যুদ্ধের মধ্যে সরাসরি শত্রুভাবাপন্ন দেশের মাটিতে ইরানের এই সফরকে সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন।
কারা পাচ্ছেন সফরের অনুমতি
জাতিসংঘ সদরদপ্তরের চুক্তি অনুযায়ী কোনো সদস্য দেশের প্রতিনিধি দলের চলাচলে বাধা না দেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বাধীন ইরানের মূল প্রতিনিধিদলটিকে নিউইয়র্কে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে। তবে ২০২৫ সালে যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এবারের প্রতিনিধিদলের আকার অনেক ছোট করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, স্বাগতিক দেশ হিসেবে দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবেই তাদের আসতে দেয়া হচ্ছে। তবে এই প্রতিনিধিদলের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ থাকবে এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নীতিমালা অনুযায়ী তাদের বিলাসবহুল সামগ্রী কেনার ওপরও কড়া নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের ইঙ্গিত
গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইরানে দৃশ্যত কোনো প্রকাশ্য মার্কিন হামলা না হলেও উত্তেজনা এতটুকু কমেনি। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তিনি এখন সিদ্ধান্ত নেয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে আছেন এবং শিগগিরই অনেক বড় কিছু ঘটতে পারে। এই বক্তব্য কূটনৈতিক পরিবেশকে আবারো জটিল করছে। এর বিপরীতে ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, নতুন করে কোনো মার্কিন আক্রমণ হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনার ওপর অবিরাম হামলা চালানো হবে। ইরানের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমান্ড আশঙ্কা প্রকাশ করে দাবি করে, কিছু আঞ্চলিক দেশের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
যুদ্ধকালীন শত্রু দেশে সফরের অতীত ইতিহাস
জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে ইরান বহু বছর ধরে উত্তাল ও শান্তিপূর্ণ নানা পরিস্থিতিতে এই সাধারণ সভায় অংশ নিয়ে আসছে। ১৯৮৭ সালে ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেন। এছাড়া ২০১৫ সালে ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তির পর তৎকালীন ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি অধিবেশন মঞ্চে দাঁড়িয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা দিয়েছিলেন। তবে এবারের যুদ্ধকালীন উপস্থিতির আবহ সম্পূর্ণ ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরুর কোনো স্পষ্ট লক্ষণই নেই। ১৯৭৭ সালে মিসরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতের ইসরাইল সফরের সঙ্গে অনেকে এই পরিস্থিতির তুলনা করলেও, সাদাতের সফরটি ছিল একটি শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ।
