এবার সৌদি আরবকে প্রতিরক্ষা বিষয়ক সামরিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বৃটেন। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এই সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে এতে বৃটেনের একটি একক বিমান আরএএফ ভয়েজার সৌদি আরবের অপারেশনে জড়িত হতে পারে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। হুতিদের আক্রমণের মুখে এর আগে সৌদি আরবকে শর্তহীনভাবে সামরিক সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করে পাকিস্তান ও তুরস্ক। ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ নামক চুক্তির অধীনে এই ঘোষণা দেয় তারা। তার ওপর বৃটেনের এই ঘোষণায় আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, সৌদি আরব হয়তো পাল্টা প্রতিশোধে যেতে পারে। আর তাতে যদি পাকিস্তান, তুরস্ক এবং বৃটেন জড়িয়ে পড়ে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তাতে সায় দেয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদি আরবকে প্রতিরক্ষামূলকভাবে আকাশ থেকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহ দেবে বৃটেন। এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তবে তা এক্ষণি হচ্ছে না। কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। এক্ষেত্রে সাইপ্রাসে অবস্থিত রয়েল এয়ার ফোর্স আক্রোতিরি ঘাঁটি থেকে একটি একক বৃটিশ বিমান যোগ দিতে পারে। বার্নহ্যাম বলেছেন, সামরিক সহযোগিতা চেয়ে অনুরোধ করেছে সৌদি আরব। তাদের সেই অনুরোধের প্রেক্ষিতে তিনি এমন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডকে এ বিষয়ে পরামর্শ দিতে রাজি হয়েছেন। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, এই অফার সীমিত সময়ের জন্য। সম্ভবত প্রথমবারের মতো তা মাত্র কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হবে।
উল্লেখ্য, ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি সরকারের সঙ্গে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত হুতিরা। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ওই সরকারকে সমর্থন করে সৌদি আরব। ফলে সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের দা-কুমড়ো সম্পর্ক। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে হুতিরা। পাশাপাশি লোহিত সাগর উপকূলে দেশটির জ্বালানি বিষয়ক স্থাপনাও টার্গেট হয়েছে। বৃটিশ কর্মকর্তারা সৌদি আরবকে দেয়া সমর্থনকে বর্ণনা করে বলেছেন, এর মধ্যে হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করবে সৌদি বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান। সেক্ষেত্রেও বৃটেনের সহযোগিতা থাকবে। উল্লেখ্য, সৌদিকে বৃটেন যে একটি ভয়েজার বিমান সরবরাহ করবে তা এই ফ্লিটের ৯টি বিমানের মধ্যে একটি। এই ৯টি বিমানের মধ্যে সামরিকভাবে নিবন্ধিত ৮টি। অন্যটি বেসামরিক ব্যবহারের জন্য নিবন্ধিত। তবে প্রয়োজন হলে আরও ৫টি বিমান সামরিক কাজে ব্যবহার করতে অনুরোধ করতে পারে রয়েল এয়ার ফোর্স।
