কমলাপুরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় রেলের ইলেকট্রিশিয়ান

কমলাপুরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় রেলের ইলেকট্রিশিয়ান

ফন্ট সাইজ:

রাজধানী কমলাপুর রেলস্টেশনে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দুজনকে আটক করেন পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন রায়হান (৩২)। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের শাহজাহানপুর থানা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও
২০১৫ সালের এপ্রিল মাস থেকে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরতও ছিলেন। তবে গত ৩ মাস যাবত তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

অপর ব্যক্তি মোহাম্মদ সানমুন ( ২৩)। তিনিও শাহজাহানপুর থানার যুবলীগের সক্রিয়কর্মী। সোমবার রাজধানীর মিন্টু রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ- পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।

তিনি বলেন, সেদিন কমলাপুর রেলস্টেশনের ২৯ এবং ৩০ নম্বর পিলারের মাঝের একটি স্থানে, আনুমানিক সময় রাত ১০টা ৩৭ মিনিটের দিকে দুইটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ককটেল বিস্ফোরণের পর পরেই রেলওয়ের যারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আছেন, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। রেলওয়ে পুলিশের যারা সংশ্লিষ্ট আছেন, তারাও যথারীতি পরিদর্শন করেন। এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে যেহেতু আমার অধিক্ষেত্রের মধ্যেই উক্ত স্থানটি অবস্থিত, আমি নিজে আমার কয়েকজন এডিসি এবং শাহজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জসহ উক্ত স্থানটি ভিজিট করি।

ভিজিট করার পর পরেই আমরা প্রথম যে জিনিসটায় জোর দিয়েছিলাম, সেটা হচ্ছে তথ্য সংগ্রহের উপর। আমরা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করি এবং এরই অংশ হিসেবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং বিশ্বস্ত সোর্সের মাধ্যমে কয়েকজনকে শনাক্ত করতে সক্ষম হই।

যারা ঘটনায় জড়িত ছিল, ঘটনার পর পরেই তারা গা ঢাকা দিয়েছিল। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিশ্বস্ত সোর্সের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িত আমরা দুইজনকে গ্রেফতার করি। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন রায়হান বাংলাদেশ রেলওয়েতে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরতও ছিলেন। তবে গত ৩ মাস যাবত তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। অপর ব্যক্তি মোহাম্মদ সানমুনও সক্রিয় যুবলীগ কর্মী। জিজ্ঞাসাবাদে উভয়েই এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশ করেছে। ককটেল বিস্ফোরণের পেছনে জড়িত আরও কয়েকজনের নাম পরিচয় আমরা পেয়েছি, কিন্তু তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে সকল কিছু আমরা আমরা প্রকাশ করছি না। সময়মতো তাদেরকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলে আপনাদের সম্মুখে হাজির করা হবে।

ডিসি বলেন, এ সংক্রান্তে যেহেতু অধিক্ষেত্র হচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ের, ঢাকা রেলওয়ে থানায় একটা নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে, যার নম্বর ৪, তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪। এবং মামলাটি হয়েছে স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট এবং দ্য এক্সপ্লোসিভ সাবস্টেনসেস অ্যাক্ট-এর ৩ এবং ৪ ধারায়। জিজ্ঞাসাবাদে এই যে দুইজন আমরা গ্রেফতার করেছি, তারা জনমনে ভীতি সঞ্চার, লকডাউন সফল কর্তা—সফল করা এবং একই সাথে তারা যে আছে, এই জানান দেওয়ার জন্য তারা এই ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটিয়েছে।

"একের পর এক এ ধরনের ঘটনা ঘটতেছে, প্ল্যাটফর্মে, ট্রেনে আগুন দিচ্ছে। যারা করতেছে তারা তো অবশ্যই সুযোগটা পাচ্ছে। সুযোগটা কেন পাচ্ছে?" এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যখন কোনো সন্ত্রাসী গ্রুপ বা সন্ত্রাসীরা একটা ঘটনা ঘটায়, তারা কিন্তু সুনির্দিষ্ট কৌশল অবলম্বন করে। ঢাকা একটা মেগাসিটি। আমাদের বাংলাদেশ পুলিশের আমাদের যে কর্মকাণ্ডের পরিধি, আপনারা যদি দেখেন যে, নিয়মিতভাবেই আমরা অসংখ্য অ্যাক্টিভিটিজে আমরা জড়িত আছি। নিয়মিত জনসভা হচ্ছে, মিছিল-মিটিং হচ্ছে, বিভিন্ন আন্দোলন হচ্ছে।

পাশাপাশি হচ্ছে, যে সকল সংগঠন নিষিদ্ধ অথবা যে সকল সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তারা বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটিজ করছে। তো সঙ্গত কারণেই এদেরও তো সমর্থক অনেক সংখ্যা রয়েছে। আবার এদের মধ্যে অনেকেই ভাড়ায় কাজ করে, ভাড়া দ্বারা পরিচালিত। তো এবং নিয়মিতভাবেই কিন্তু আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। যে ঘটনাগুলো বিভিন্ন জায়গায় ঘটছে, তাদের কিন্তু গ্রেফতার করা হচ্ছে।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে, একই সাথে ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরও কিন্তু আইনানুগ ব্যবস্থায় আনা হচ্ছে। অতএব এ কথা বলার সুযোগ নাই যে, আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি না বা আমাদের কোনো দুর্বলতা আছে। তিনি বলেন, পুলিশ না থাকলে কি হয়, সেটা ইতোমধ্যে আপনারা দেখেছেন। অতএব, পুলিশের যে কর্মকাণ্ড, পুলিশ তার আইন এবং বিধি মোতাবেক সে কর্মকাণ্ডগুলো পরিচালনা করছে। এবং এই কর্মকাণ্ড পরিচালনার কারণে দেখবেন যে লোকজন স্বাচ্ছন্দে তারা চলাফেরা করতে পারছে।

তিনি বলেন, আমরা তো গতরাতে তাদেরকে গ্রেফতার করেছি, গতরাতে এবং ভোরে। এটা আরও জিজ্ঞাসাবাদের বিষয় আছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আরও বলতে পারব যে, আরও কোনো ঘটনায় তারা সংশ্লিষ্ট আছে কিনা। এবং এদের সাথে আরও যারা জড়িত আছে, একই গ্রুপ যে সব কাজগুলা করে, তা না কিন্তু। কেউ অর্থায়ন করে, কেউ কোঅর্ডিনেট করে, কেউ ককটেল নিক্ষেপ করে, কেউ ভিডিও ধারণ করে। তো এই বিষয়গুলো আমরা যাচাই-বাছাই করছি। যাচাই-বাছাই শেষে আমরা বলতে পারব যে, এই যে যারা যাদেরকে আমরা গ্রেফতার করেছি বা যাদের তথ্য আমরা পেয়েছি, তারা আর কি কোন কোন ঘটনায় জড়িত আছে বা নাই।
"আগাম পুলিশিং একটা বিষয় আছে এবং গোয়েন্দা তথ্যে আপনাদের কোনো ঘাটতি আছে কিনা এখানে" এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা যেটা বারবারই বলেছি, প্রিভেন্টিভ ব্যবস্থার কিন্তু কথা কিন্তু আমি ইতোমধ্যে বলেছি। গোয়েন্দা তথ্য যেগুলো আছে, যেগুলো সরবরাহ করা হয়, সেগুলোর বিরুদ্ধেও কিন্তু আমরা নিয়মিতভাবেই সেগুলো প্রাপ্ত হয়েও আমরা নিয়মিত ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। আমরা বলতে এ আরকি, যে কাজগুলো করছি, অধিকাংশ কাজগুলোই কিন্তু গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে করছি। পাশাপাশি আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমও আছে। তো আমি বলতে চাই না এখানে আমাদের কোনো গোয়েন্দা ব্যর্থতা আছে। গোয়েন্দা ব্যর্থতা থাকলে তো আরও অনেক ঘটনা ঘটত।