ইতালির স্কুলগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা আইন করে সীমিত করার পাশাপাশি বোরকা ও হিজাব নিষিদ্ধ করার একটি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির সরকার। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এ কথা জানিয়েছেন।
দেশটির জাতীয় যুব উৎসব ‘ফেনিক্স’-এ দেয়া বক্তব্যে মেলোনি বলেন, শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় শিশুরা সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছে- এমনটা তারা অনুভব করতে পারে না।
তার দল ব্রাদার্স অব ইতালি (এফডিআই)-এর যুব শাখা আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, একটি ইতালীয় শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় শিশুরা কোণঠাসা বোধ করবে, কারণ তারা সংখ্যালঘু হয়ে গেছে, এটা কল্পনাও করা যায় না। এটা হতে দেয়া যায় না।
এএনএসএ নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেলোনি আরও জানান যে, তার সরকার স্কুলে বোরকা ও হিজাব নিষিদ্ধ করবে।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কেউ কেউ যদি ইতালির স্কুলব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সমস্যায় পড়েন, তাহলে তাদেরও ইতালীয় ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানান মেলোনি।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রস্তাবিত পদক্ষেপটি শিগগিরই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে গত বছর ইতালির ডানপন্থী পপুলিস্ট দল লেগা জনসমাগমস্থলে মুখ ঢেকে রাখা পর্দা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছিল। ২০২৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছিল, সদস্য দেশগুলোর সরকারি কর্তৃপক্ষ চাইলে কর্মীদের ধর্মীয় বিশ্বাসের দৃশ্যমান প্রতীক মাথার স্কার্ফ বা হিজাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোর্ট অব জাস্টিস (সিজেইইউ) বলেছিল, কঠোর নিরপেক্ষতার নীতি গ্রহণ করে একটি নিরপেক্ষ প্রশাসনিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যকে বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
