এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী ‘মরিয়মের রেখে যাওয়া চিঠিগুলো’তে কী ছিল

এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী ‘মরিয়মের রেখে যাওয়া চিঠিগুলো’তে কী ছিল

ফন্ট সাইজ:

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বাসা থেকে উদ্ধার হয়েছে কয়েকটি হাতে লেখা চিঠি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত চিঠিগুলো এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের লেখা এমনটা বলা হচ্ছে।
এসবের একটি চিঠিতে লেখা রয়েছে, শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই.... তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই...

আরেকটি চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, কিন্তু জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবোই বা কেমনে যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে দেখি তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি।’

অপর চিঠিতে লেখা- সে ছিল অন্য নারীর স্বামী- কাগজে কলমে অধিকার ছিল তার বউয়ের। আর আমি ছিলাম বোকা...!!! অন্য কারও স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ...!!! কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের কারণ... ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেয়ার বিষয় নয়... ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!
জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা অন্য একটি পাতায় লেখা হয়েছে, ‘আমি হেরেছি--- তুমি জিতেছো-- কারণ, আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি, ধংসের শেষ দাঁড়িয়েও মুখে হাসি রেখেছি-- ভেবে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।’

চিঠিগুলোর সঙ্গে ‘১২-০৭-২০২৬’ তারিখ সংবলিত একটি পাতাও পাওয়া গেছে। ওই পাতায় ঘুমানোর আগে করণীয় কয়েকটি ধর্মীয় আমলের তালিকা লেখা রয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

এদিকে মরিয়ম খাতুনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে।

রোববার গভীর রাতে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও নজরুলের শ্যালক ওবায়দুল রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, মাকসুদা বেগম ও নজরুলের শ্যালক ওবায়দুল রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়, রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল ইসলাম মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত ন্যাম ভবনের বাসায় যেতে বলেন। খবর পেয়ে মরিয়মের বাবা তাঁর শ্যালিকা সুফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে পৌঁছান। দেখতে পান, বাসায় অনেক মানুষের ভিড়। পরে তিনি জানতে পারেন, বাসার ভেতরের রুমে ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে মরিয়ম ঝুলে আছেন। রুমের দরজা ভেতর থেকে লাগানো ছিল।
পরে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশের সহায়তায় ও উপস্থিত লোকজনের মাধ্যমে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মরিয়মকে ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। এ সময় মরিয়মের বিছানার ওপর থেকে একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করা হয়। 

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. ফজলুল করিম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, চিরকুটটি মরিয়মের হতে পারে। তবে লেখাটি মরিয়মের কি না, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত করে বলা যাবে।