অনিরাপদ চারপাশ, সহজ শিকার শিশুরা

সহযোগীদের খবর

অনিরাপদ চারপাশ, সহজ শিকার শিশুরা

ফন্ট সাইজ:

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘অনিরাপদ চারপাশ, সহজ শিকার শিশুরা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মা-বাবা, ভাই-বোন ও পরিবার নিয়ে সবচেয়ে নিরাপদ যে ঘর, সেই ঘরেও এখন নিরাপদ নয় শিশু। আবার যে বাড়ি বা পাড়া-মহল্লায় স্বচ্ছন্দের শৈশব কাটানোর কথা, সেই জায়গায়ও নির্মমতার শিকার হচ্ছে কোমল প্রাণ। এতে ঘরে ও বাইরে– দুই স্থানেই সে অনিরাপদ।

চারপাশ অনিরাপদ হওয়ার পেছনে সামাজিক অবক্ষয়, কিশোর গ্যাং, মাদক, আইনি দুর্বলতা, পারিবারিক অসচেতনতা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশেজ্ঞরা। কুমিল্লায় ১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডে শিশুর বেড়ে ওঠার সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে অনেক প্রশ্ন সামনে এসেছে।

শিশু অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৩তম। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কিডস রাইটস ফাউন্ডেশন সর্বশেষ ২০২৫ সালে এই তালিকা প্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে দেখা যায়, সর্বশেষ প্রতিবেদনে ভারতের অবস্থান ভারত ৯৬, পাকিস্তান ১৫৫, গ্রিস প্রথম এবং আফগানিস্তান সর্বনিম্ন স্তরে (১৯৪তম)। শিশুদের জীবনের অধিকার, স্বাস্থ্যের অধিকার, শিক্ষার অধিকার, নিরাপত্তা এবং অধিকার ভোগ করার পরিবেশ– এই পাঁচটি বিষয়ে ২৩টি সূচকের ভিত্তিতে দেশগুলোর অবস্থান নির্ণয় করা হয়েছে। একে বলা হচ্ছে ‘কিডস রাইটস ইনডেক্স’। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ অনুসমর্থন করা দেশকে এখানে বেছে নেওয়া হয়েছ।

কিডস রাইটস ফাউন্ডেশন একটি সামাজিক ও একাডেমিক যৌথ উদ্যোগ। নেদারল্যান্ডসের এরাসমাস ইউনিভার্সিটি রোটেরডাম এবং ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল স্টাডিজ যৌথভাবে ২০১০ সালে এ উদ্যোগ শুরু করে। ২০১৩ সালে তারা প্রথম শিশু অধিকার সূচকের ভিত্তিতে দেশগুলোর বৈশ্বিক অবস্থান নির্ণয় করে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) জানুয়ারি-আগস্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের ঘটনায় ২৫৪ শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ হিসাবে মাসে ৩১ জনের বেশি শিশুর লাশ পাওয়া যাচ্ছে। এসব ঘটনায় ৮১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৮ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যার শিকার ৪৯ জন। এই আট মাসে নিখোঁজের পর লাশ পাওয়া গেছে ৩৬ শিশুর। নিহত ২৫৪ শিশুর প্রায় ৪৩ শতাংশের ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী। শূন্য থেকে ছয় বছর বয়সী শিশু রয়েছে ৭৪ জন। এটি মোট নিহতের প্রায় ২৯ শতাংশ। কিশোর-কিশোরীদের পাশাপাশি ছোট শিশুরাও সহিংসতার শিকার হচ্ছে। ৭ থেকে ১২ বছরের ৬০ জন সহিংসতার শিকার হয়েছে। আসক বলছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের সূত্র থেকে শিশুর লাশ উদ্ধারের এই তথ্য পেয়েছে তারা।

আসকের নির্বাহী পরিচালক মানবাধিকারকর্মী তাহমিনা রহমান সমকালকে বলেন, শিশুদের বেড়ে ওঠার সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সেখানে ব্যর্থ হওয়া যাবে না। নিখোঁজ হওয়ার পর শিশুর লাশ পাওয়া যাবে– এটা দেখতে চাই না। যত দ্রুত সম্ভব জীবিত উদ্ধার করতে হবে।

তিনি বলেন, সন্তানকে সুরক্ষিত রাখা এখন পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, কীভাবে সময় কাটাচ্ছে– এদিকে নজর রাখা জরুরি। তথ্যের অধিকার থেকে যেমন শিশু-কিশোরদের বঞ্চিত করা যাবে না, আবার ইন্টারনেটে সে কী করছে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

শিশুর লাশ উদ্ধারের পাশাপাশি অনেক শিশু নিখোঁজ থাকছে। তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, পরিবারের সদস্যরা জানেন না। সন্তানের অপেক্ষায় অনেকে বছরের পর বছর পার করছেন। পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। ২ হাজার ৩৮ জনের সন্ধান এখনও মেলেনি। এ হিসাবে নিখোঁজ শিশুদের ১৩ শতাংশের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের বিষয়ে ৪৭৪টি জিডি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৬৮ জনকে উদ্ধার করা যায়নি। একই সময়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩টি। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং এক হাজার ৯৭০ জন উদ্ধার হয়নি।

পুলিশের ভাষ্য, শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুরা সাধারণত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে ঘুরতে গিয়ে পথ ভুলে, পরিবারের সদস্যদের নাম-ঠিকানা বলতে না পারায় এবং একাকী বাসায় ফিরতে গিয়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার কারণে নিখোঁজ হয়।

অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে অভিমান, পড়ালেখার চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে লজ্জার ভয়ে পালিয়ে থাকা, স্বাধীন জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা আদায়ের কৌশল, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাবের মতো কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বর্তমানে সেবা সহজীকরণের অংশ হিসেবে অনলাইন জিডি সুবিধা চালু রয়েছে পুলিশ। এতে নিখোঁজের বিষয়ে জিডির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে নিখোঁজের বিষয়ে ১৭ হাজার ৮০৮টি জিডি হয়েছিল। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৪১৪ এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০।

পুলিশ সদরদপ্তরের পৃথক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে। আগস্ট মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা হয়েছে দুই হাজার ১৫৬টি, জুলাইয়ে দুই হাজার ৩৩৬, জুনে দুই হাজার ২০০, মে মাসে এক হাজার ৯৫২, এপ্রিলে দুই হাজার ১১, মার্চে এক হাজার ৪৮৫, ফেব্রুয়ারিতে এক হাজার ১৮১ ও জানুয়ারিতে এক হাজার ২৮১টি।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় একই পরিবারের ১০, ৭ ও ২ বছরের তিন শিশুকে হত্যা করা হয়। ৯ সেপ্টেম্বর পাবনায় চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া এক মেয়ে শিশু নিখোঁজ হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর বাড়ির পাশের ডোবা থেকে তার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দুজন হলেন প্রধান আসামি মোস্তফা প্রামাণিক (৫৫) ও তাঁর বাড়ির ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলী (২১)। এই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার প্রধান আসামির বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রথম আলো

‘স্মার্টফোন আছে দেশের ৭৫ শতাংশ পরিবারে’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ৭৫ শতাংশ পরিবারে স্মার্টফোন আছে। এসব পরিবারের অন্তত একজন সদস্য স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। কোনো কোনো পরিবারের একাধিক স্মার্টফোন আছে। একইভাবে ৫৮ শতাংশের বেশি পরিবারে ইন্টারনেট ব্যবহৃত হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রয়োগ ও ব্যবহার নিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে জরিপটি করা হয়। এটি গতকাল রোববার প্রকাশ করা হয়েছে।

জরিপে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকের চেয়ে সর্বশেষ প্রান্তিকে পরিবারপ্রতি স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।

জরিপে দেশের ২ হাজার ৫৬৮টি এলাকার ৬১ হাজার ৬৩২টি খানা (মূলত পরিবার) থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বিবিএসের হিসাবে, সারা দেশে সোয়া চার কোটি পরিবার আছে।

বিবিএস বলছে, জনসংখ্যার হিসাবে দেশের প্রায় ৬৬ শতাংশ মানুষের হাতে মুঠোফোন আছে। আর প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে মুঠোফোন ব্যবহার করে। আর প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেটের সুবিধা ভোগ করে।

ঢাকার উত্তরা এলাকায় বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন আনোয়ারা বেগম। তাঁর বাড়ি চাঁদপুর। বয়স প্রায় ৫৫ বছর। আনোয়ারা বেগমের একটি স্মার্টফোন আছে। চাঁদপুরে ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত ভিডিও কলে কথা বলেন। মুঠোফোনে লেনদেনও করেন তিনি।

আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘টাচ মোবাইল (স্মার্টফোন) আছে বইলাই পোলা-মাইয়াগো লগে ভিডিও কলে কথা কইতে পারি। টাহাও পাঠাই।’

কেন স্মার্টফোন বাড়ছে

স্মার্টফোন মানুষের জীবনকে সহজ করছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি প্রবাসে থাকেন। অনেকেই প্রবাসে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তাঁরা দেশে থাকা পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করেন, ফোনে কথা বলেন। এ জন্য পরিবারের সদস্যদের স্মার্টফোন কিনে দেন। মোবাইল ডেটা ব্যবহার করে কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাঁরা বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

একইভাবে দেশের মোবাইল ফোনে আর্থিক সেবা (এমএফএস) নিতে স্মার্টফোন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। বিকাশ, নগদ, রকেটের মতো এমএফএস ব্যবহার করে অনেকেই আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের কাছে টাকা পাঠান কিংবা বিভিন্ন পরিষেবার বিল পরিশোধ করেন।

এখন শহর এলাকার অনেক স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের মোবাইলে যাবতীয় নোটিশ, বাড়ির কাজসহ যাবতীয় বিষয় জানানো হয়। ফলে অনেক পরিবারে শিক্ষার্থীদের হাতে স্মার্টফোন দেওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে।

এ ছাড়া তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বেড়েছে। এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ লাগে।

সার্বিকভাবে ই-টিকিট, অনলাইনে জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট নিবন্ধন, মোবাইল ব্যাংকিংসহ নানা ধরনের সরকারি-বেসরকারি সেবা ডিজিটালনির্ভর হওয়ায় স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রবণতা অনেকটাই বেড়েছে।

রবির চিফ করপোরেট ও রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, সরকারের সাম্প্রতিক কর-সুবিধার ফলে বাজারে প্রায় ৮ হাজার টাকা দামের স্মার্টফোনও পাওয়া যাচ্ছে, যা স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ আরও বাড়াচ্ছে। সরকার, বিটিআরসি ও মোবাইল অপারেটরদের বিভিন্ন উদ্যোগে দেশে স্মার্টফোনের ব্যবহার ও প্রবেশাধিকার বাড়ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিএনপি সরকার মুঠোফোন উৎপাদনে ২২ ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করেছে। আবার সিমের ওপর ৩০০ টাকা কর তুলে নেওয়া হয়।

জরিপে যা আছে

বিবিএসের জরিপ বলছে, গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ প্রান্তিকে স্মার্টফোন ব্যবহার বেড়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ৭২ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবারে স্মার্টফোন ছিল। পরের তিন প্রান্তিকে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৫ দশমিক ১ শতাংশ। দেশের ৯৮ শতাংশের বেশি পরিবারে অন্তত একটি স্মার্টফোন বা যেকোনো ধরনের ফোন আছে।

একইভাবে পরিবারে ইন্টারনেট ব্যবহারও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক থেকে চতুর্থ প্রান্তিকে ৫৬ শতাংশ থেকে ৫৮ শতাংশ হয়েছে। দেশে প্রতিবছর ইন্টারনেট ব্যবহারের হার বাড়ছে; ২০২২ সালে দেশে যেখানে পরিবারপ্রতি ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ছিল ৩৮ শতাংশ।

বিবিএসের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে কোন এলাকায় কত মানুষ স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে, তা থাকে না। তবে বার্ষিক প্রতিবেদনে সেই চিত্র পাওয়া যায়। ‘তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ এবং ব্যক্তি ও খানা পর্যায়ে ব্যবহার-২০২৪-২৫’ শীর্ষক বার্ষিক জরিপ অনুযায়ী, স্মার্টফোন ব্যবহারে বিভাগীয় হিসাবে ঢাকার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে চট্টগ্রাম। এই বিভাগের ৮৬ শতাংশ পরিবারে স্মার্টফোন আছে। ঢাকা বিভাগে এই হার ৮২ শতাংশ। তবে ইন্টারনেট ব্যবহারে ঢাকা বিভাগ এগিয়ে।

বিবিএসের শিল্প ও শ্রম শাখার উপপরিচালক সৈয়দা মারুফা শাকি প্রথম আলোকে বলেন, কয়েক বছর ধরে, বিশেষ করে করোনা শুরুর পর থেকে স্মার্টফোন ব্যবহার বেড়েছে। বিলাসিতা নয়, মানুষ এখন প্রয়োজনেই স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। স্মার্টফোন জীবনকে সহজ করেছে।

সৈয়দা মারুফা শাকি আরও বলেন, ‘আমরা গ্রামগঞ্জের মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছি। সেখানেও স্মার্টফোনের ব্যবহার বেড়েছে। কেন বাড়ছে, তা বছর শেষে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিস্তারিত চিত্র পাওয়া যাবে।’

বিবিএস বলছে, গত জুন মাস শেষের হিসাবে, দেশের ৬০ শতাংশ পরিবারে টেলিভিশন আছে। রেডিও আছে ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবারে। আর কম্পিউটার আছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ পরিবারে।

আরেক খবরে বলা হয়, আইফোন, ৫ হাজার টাকার পাওনা ও ‘অসম বন্ধুত্ব’। প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি আইফোন ছিনিয়ে নিতেই ১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে, শুরুতে এমনই ভেবেছিল পুলিশ। কিন্তু তদন্ত যত এগিয়েছে, সামনে এসেছে পাঁচ হাজার টাকা পাওনা নিয়ে ক্ষোভ, বয়সে বড়দের সঙ্গে তার ‘অসম বন্ধুত্ব’ এবং টিকটক ভিডিও তৈরির প্রলোভনের ঘটনা।

হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তা, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পেয়েছে প্রথম আলো। তাঁদের ভাষ্য, অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সটি কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আলাদা স্বার্থ ও ক্ষোভও কাজ করে থাকতে পারে।

লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নেওয়া হয়। ফোন নিতে বাধা দিলে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় অপ্রতিমের বাবার করা হত্যা মামলায় সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে জেলা পুলিশ। তুহিন ছাড়া অন্য দুজন কিশোর। তাঁদের বাইরে আরেক তরুণের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা অপ্রতিমের সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সম্পর্ককে বলছেন ‘অসম বন্ধুত্ব’। কারণ, সপ্তম শ্রেণিতে পড়া অপ্রতিমের সঙ্গে যাঁদের ওঠাবসা ছিল, তাঁরা তার সহপাঠী নন; বয়সেও বড়। তদন্তে তাঁদের একসঙ্গে তোলা ছবি ও ভিডিও এবং টিকটকের জন্য তৈরি বিভিন্ন ভিডিওর তথ্যও পাওয়া গেছে।

‘আইফোন দিয়ে টিকটক বানাব’

ঘটনার দিন শুক্রবার অপ্রতিমকে বাসা থেকে বের করে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মুঠোফোনের খুদে বার্তার। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সেদিন অপ্রতিমের কাছে থাকা ফোনে বারবার বার্তা পাঠাচ্ছিলেন তুহিন। বাসা থেকে বের হতে বলছিলেন। একপর্যায়ে বলা হয়, অপ্রতিমের কাছে থাকা দামি আইফোনটি দিয়ে তাঁরা টিকটকের জন্য ভিডিও বানাবেন, ছবি তুলবেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অপ্রতিম শেষ পর্যন্ত রাজি হয়। শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে সে। পরিবারও আগে জানিয়েছিল, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলবে বলে মায়ের ফোনটি নিয়ে বের হয়েছিল অপ্রতিম। পরে আর বাসায় ফেরেনি।

পুলিশ সূত্রের ভাষ্য, বেলা ৩টা থেকে ৩টা ১০ মিনিটের মধ্যে তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমের দেখা হয়। এরপর বিভিন্ন এলাকার অন্তত চারটি সিসিটিভি ক্যামেরায় তাদের গতিবিধি ধরা পড়ে। ফুটেজগুলোতে দেখা যায়, অপ্রতিম ও তুহিন পাশাপাশি হেঁটে যাচ্ছে, কথা বলছে। তাদের আচরণ ছিল স্বাভাবিক। একটি ফুটেজে তাদের পেছনে আরও দুজনকে যেতে দেখা গেছে। অন্য একটি ফুটেজে চারজনকেই একসঙ্গে পাওয়া যায় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকার একটি সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে একজনকে দেখা গিয়েছিল। ওই ফুটেজই প্রথম সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে।

দেড় কিলোমিটার ভেতরের নির্জন জঙ্গল

অপ্রতিমকে হত্যা করা হয় লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন জঙ্গলে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, মূল সড়ক থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভেতরে কাঁচা রাস্তা দিয়ে যেতে হয় সেখানে। একটি সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিম ও তুহিনকে হেঁটে পাহাড়ের দিকে যেতে দেখা গেছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, পরে সেখানে তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হয় আরও দুই কিশোর।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল পাঁচটা থেকে ছয়টার মধ্যে অপ্রতিমের কাছ থেকে ফোনটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সে বাধা দিলে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। তুহিন প্রথমে বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন এবং পরে অন্যরাও আঘাত করে। অপ্রতিমের মৃত্যু হলে তার ফোনটি নিয়ে তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

সিয়াম নামের আরেক তরুণ ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে তদন্তে পাওয়া তথ্যের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে ঘটনার সময় তিনি আশপাশে থেকে পাহারা দেওয়ার মতো কোনো ভূমিকা পালন করেছিলেন কি না, সেটি যাচাই করছে পুলিশ। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ জানতে পেরেছে, এলাকাটি বেশ নির্জন। এ কারণে বাইরে থেকে সহজে সেখানে কী ঘটছে, তা বোঝার সুযোগ কম।

অপ্রতিমের মরদেহে মাথার গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি আরও কিছু ক্ষত পাওয়া যায়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, এর কিছু ক্ষত মৃত্যুর পর তৈরি হয়ে থাকতে পারে। রাতে শিয়াল মরদেহ টানাটানি করেছিল। এ বিষয়ে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক তথ্যও পর্যালোচনা করছে পুলিশ।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘বন্ধুরাই নিয়ে যায় পাহাড়ে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, কুমিল্লায় ১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে আইফোন ছিনিয়ে নিতেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে তার বন্ধুরা। লালমাই পাহাড়ের নির্জন এলাকায় নিয়ে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় তাকে। খুনিদের সঙ্গে অপ্রতিমের বয়সের পার্থক্য ছিল। তারা সহপাঠী ছিল না; কিন্তু তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। প্রায় প্রতিদিনই তাদের আড্ডা-গল্প হতো। একসঙ্গে টিকটকও করত তারা। রোববার সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। এদিন সকাল থেকেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বজন ও এলাকাবাসী। যে মাঠে ছুটে বেড়াত অপ্রতিম, সেখানেই সকাল ১০টায় হলো তার প্রথম জানাজা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে মাঠের বাতাস। ছেলের কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘আমার একটাই ছেলে ও আপনাদের ভালোবাসায় বড় হয়েছিল।’ এরপর গন্ধমতি ঈদগাহে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বাড়ির পাশের কবরস্থানেই চিরনিদ্রায় শায়িত হয় অপ্রতিম। মা ড. নাহিদা বেগম আদর করে ছেলেকে ডাকতেন ‘ঘণ্টু’। বিলাপ করে বলছিলেন, ‘ওর বই-খাতা আছে, বিছানায় জিনিসপত্র আছে, কিন্তু ও নেই। আমরা কীভাবে এই শূন্যতা মেনে নেব, জানি না।’

এদিকে আদরের অপ্রতিমকে অশ্রুসিক্ত বিদায়ের পর ঘাতকদের ফাঁসি এবং নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কয়েকশ শিক্ষার্থী। এ সময় স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে মহাসড়ক।

আইফোনের জন্যই নির্জন পাহাড়ে খুন : পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে জানান, এ ঘটনায় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলসহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার দিন শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে সোয়া ২টার দিকে তুহিন অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা নামক স্থানে নিয়ে গিয়েছিল। লাশ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনাটি পর্যালোচনা করে তুহিনকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন স্বীকার করেছে, আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যই পরিকল্পিতভাবে অপ্রতিমকে পাহাড়ে নেওয়া হয়। সেখানে বিকাল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতিম বাধা দেয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। প্রথমে তুহিন এবং পরে তার আরেক বন্ধু ফাহাদ ও কামরুল শক্ত বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় জোরে আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা আইফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায়। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকেও গ্রেফতার করা হয় এবং তুহিনের বাড়ি থেকে আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, তুহিন প্রথমে পুলিশকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আইফোন উদ্ধারে তিনটি স্থানে অভিযান চালানো হলেও সেখানে সেটি পাওয়া যায়নি। পরে তুহিনের স্বীকারোক্তি মতে বাসায় তার রুম থেকে আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, এছাড়াও সিয়াম নামের আরেকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তিনি জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি নিষ্পত্তির আবেদন করা হবে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় জড়িত আছে কিনা তাও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখছি।

মেসেঞ্জারে ডেকে নেওয়া হয়: পুলিশ জানায়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর অপ্রতিমকে কুমিল্লা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে দেখা যায়। পরে মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করে তাকে এক ঘণ্টার জন্য বাইরে যাওয়ার কথা বলে ডেকে নেয় তুহিন। সিসিটিভি ফুটেজে বেলা সোয়া ৩টার দিকে তুহিনকে অপ্রতিমের সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে দিয়ে সানন্দা এলাকার দিকে যেতে দেখা যায়। পরে অন্য পথ দিয়ে আরও কয়েকজন ওই এলাকার জঙ্গলের দিকে যায়।

ঘাতকরা ছিল বখাটে ও টিকটক বন্ধু: পুলিশ জানিয়েছে, নিহত অপ্রতিমের বয়স ১৩ বছর হলেও ঘাতকদের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা মাঝেমধ্যে একসঙ্গে টিকটক করত। ঘাতকদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম তুহিন গত বছর কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অকৃতকার্য হয়। মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল ইসলাম ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আটক সিয়াম আবদাল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।

সবাইকে কাঁদিয়ে চিরনিদ্রায় অপ্রতিম: রোববার সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্বজনদের কান্নায় সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। জানাজার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানান।

অপ্রতিমের বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার একটাই ছেলে। সামান্য একটা আইফোনের জন্য আমার ছেলেকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে-একথা আমার মন কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছে না। আমি শুধু ঘাতকদের কঠোর বিচার চাই।

কালের কণ্ঠ

‘লোকসানের চাপ, জ্বালানি তেল লিটারে বাড়ল ২০ টাকা’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, অব্যাহত লোকসান কমাতে জ্বালানি তেলের দাম আরেক দফা বাড়াল সরকার। বেশ কিছুদিন ধরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বড় অঙ্কের লোকসানের মধ্যে পড়ে।

সরকারের বাজেট বাস্তবায়নে তহবিল সংকটের সময় এই চাপ সামাল দিতে এবার বাধ্য হয়েই জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে হয়েছে সরকারকে। এ দফায় ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ দাম বৃদ্ধি একদিকে সরকারের লোকসান কমাবে, অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারও ঠেকাবে।

গতকাল রবিবার রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দর গত রাত থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রল ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে।

নতুন দাম ঘোষণার আগে সেপ্টেম্বর মাসে ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ টাকা ও কেরোসিন ১৩৫ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছিল।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ ২০২৬ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থে এত দিন দেশে দাম বাড়ানো হয়নি। ফলে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৮ এপ্রিল সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল।

এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হলেও প্রায় পাঁচ মাস দেশে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল।

জ্বালানি বিভাগ আরো জানিয়েছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের দরের তুলনায় দেশে জ্বালানি তেলের দাম কম থাকায় প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় জ্বালানি তেল পাচার রোধ, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং বিপিসির লোকসান কমাতে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারদরে ডিজেল বিক্রি করলে বিপিসির প্রতি লিটারে প্রায় ৮৯ টাকা লোকসান হচ্ছে। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা এবং বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ানো হলে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পেছনে বিপিসির আর্থিক চাপও বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি বিপিসি জানিয়েছে, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানি তেল আমদানিতে সংস্থাটির লোকসান হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে এলএনজি আমদানিতেও ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে সরকারকে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এসব পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে বিপিসির লোকসান কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানো এবং পাচারের ঝুঁকি ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ‘আইফোনের জন্যই অপ্রতিমকে হত্যা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু একটি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পূর্বপরিকল্পনা থেকেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গলে নিয়ে খুন করা হয়েছে স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে। সেখানে ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকালে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে অপ্রতিমকে হত্যা করে তুহিনসহ তার পরিচিতরা। এরপর নিথর দেহ ফেলে রেখে আইফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

শনিবার রাতে সেই মোবাইল ফোনটি তুহিনের ঘর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় চার জনকে আটক করা হলেও তুহিনসহ তিন জনের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ মিলেছে। তাদেরকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে গতকাল রবিবার আদালতে পাঠানো হয়। অপ্রতিম হত্যার দায় স্বীকার করে রাতে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে তিন আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও মো. কামরুল হাসান। রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, ঐ তিন আসামি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবিদা সুলতানা মলির আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। এর আগে শনিবার রাতে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা বললেন: অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, প্রথমে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আরো এক জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে মোট চার জন গ্রেফতার হয়েছে। তাদের কাছ থেকে অপ্রতিমের আইফোনসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের আচরণ ও কর্মকাণ্ডে কিশোর অপরাধী চক্রের বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে। তাদের অনেকেই অপ্রতিমের চেয়ে আনুমানিক পাঁচ থেকে ১০ বছর বয়সে বড়। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বয়সসংক্রান্ত তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে। অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযোগপত্র দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো এ মামলার বিচারও দ্রুত শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে বিচার করবে আদালত—এ কথা উল্লেখ করে বিচারিক প্রক্রিয়ায় সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি।

পুলিশ সুপার যা বললেন: এর আগে দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অপ্রতিম হত্যায় জড়িত গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সানন্দা গ্রামের নূরে আলমের ছেলে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), একই ওয়ার্ডের সালমানপুর মেম্বার বাড়ির মমিন হোসেনের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), কোতোয়ালি মডেল থানাধীন হাতিগাড়া কালিরবাজার এলাকার আবদুল কুদ্দুসের ছেলে মো. কামরুল হাসান (১৭) এবং সদর দক্ষিণ থানা এলাকার এলাহিপুর গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে মো. সিয়াম (১৯)। সিয়ামকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গ্রেফতারদের মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী তুহিন ২০২৫ সালে কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পরীক্ষায় ফেল করে লেখাপড়া ছেড়ে দেয়। ফাহাদ স্থানীয় ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং সিয়াম নগরীর দৌলতপুর এলাকার আফজল খান কারিগরি ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।

পুলিশ সুপার বলেন, গত শুক্রবার অপ্রতিম নিখোঁজের ঘটনায় তার বাবার সাধারণ ডায়ারির (জিডি) সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। আশপাশের বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ২টা থেকে সোয়া ২টার দিকে তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন বনের ভেতরে যায়। অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়ার আগেই প্রযুক্তির সহায়তায় তুহিনকে নজরদারিতে এনে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন, গ্রেফতারদের মধ্যে তুহিন অপ্রতিমের পূর্ব পরিচিত। ঘটনার দিন গত শুক্রবার বিকাল আনুমানিক ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে তুহিন ঐ জঙ্গলের মধ্যে অপ্রতিমের মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে অপ্রতিম বাধা দিলে প্রথমে তুহিন, পরবর্তী সময় ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমকে মাথায় আঘাত করে। একপর্যায়ে অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হলে তুহিন মোবাইল ফোনটি নিয়ে তার সহযোগী ফাহাদ ও কামরুলসহ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

টানা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তুহিন স্বীকার করে যে, অপ্রতিমের আইফোনটি হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে কৌশলে ঐ নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এই পরিকল্পনায় তার সঙ্গে ফাহাদ ও কামরুল সরাসরি জড়িত ছিল। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাত্ক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ফাহাদকে এবং পরে ফাহাদের তথ্যে কামরুলকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার তুহিন কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সত্য স্বীকার করে এবং তার নিজ বাড়ি থেকেই ছিনতাই হওয়া আইফোনটি উদ্ধার করা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কিশোর গ্যাং কিংবা আরো কেউ জড়িত আছে কি না, কিংবা ভিকটিমসহ হত্যাকারীরা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নয়া দিগন্ত

‘নাশকতার ছক ঘরে-বাইরে’—এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজধানীজুড়ে ২৭৬টি চেকপোস্ট বসানো, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও প্রবেশপথে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। কিন্তু এসব পদক্ষেপের মধ্যেও বিচ্ছিন্নভাবে নাশকতার ঘটনা ঘটায় প্রশ্ন উঠেছে- আগাম গোয়েন্দা তথ্য থাকা সত্ত্বেও কেন সব ঘটনা প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি-কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশ দেশে ও বিদেশে অবস্থান করে অস্থিরতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে বিদেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের নির্দেশনা এবং অর্থায়নে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নাশকতা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই সম্ভব হয়নি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে বিদেশ থেকে অর্থায়ন এবং নির্দেশনার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোল্লা মো: শাহীন গতকাল বলেন, ভারত থেকে আওয়ামী লীগের পলাতক কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনায় এবং হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো অর্থের সহায়তায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।

তিন দিনে একের পর এক ঘটনা

গত তিন দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ ও মশাল মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার এক দিনেই রাজধানীর সাতটি স্থানে ১৪টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। একই দিনে কাফরুল থানার সামনে একটি বাসে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে।

শনিবার রাতে কমলাপুর রেলস্টেশন, সচিবালয়ের মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের এলাকা, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। মিরপুর-১, কেরানীগঞ্জ ও কাফরুলসহ কয়েকটি এলাকায় বাস ও পিকআপভ্যানে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

গতকাল দুপুরে মিরপুর-১২ নম্বরে একটি বাসে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। একই এলাকায় সন্ধ্যায় কলেজ রোডের সিরামিকস কারখানার গেটের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে ঘটনাগুলোর প্রকৃত সংখ্যা, ক্ষয়ক্ষতি এবং সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আগাম সতর্কতা ছিল

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রায়কে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে- এমন আশঙ্কার কথা আগেই জানানো হয়েছিল। সম্ভাব্য নাশকতা মোকাবেলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও নেয়া হয়।

বিশেষ শাখার (এসবি) একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রায়কে কেন্দ্র করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে- এ বিষয়ে সরকারকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। তার দাবি- গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি ছিল না।

বণিক বার্তা

দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘এক-তৃতীয়াংশের নেই নিজস্ব আয়, সরকারের ভর্তুকিতে মেটানো হচ্ছে বেতন-ভাতা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পরিচালন খাতে অনুদান পাওয়া ১৭৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৮টিরই নিজস্ব কোনো আয় ছিল না। অর্থাৎ পরিচালন খাতে অনুদান পাওয়া প্রতি দুই প্রতিষ্ঠানের প্রায় একটির নিজস্ব আয় নেই। অন্যদিকে বাকি ৮৬টি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত আয় ছিল মাত্র ২ হাজার ৫২ কোটি টাকা।

ঢাকা লেদার কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৬ সালে। প্রক্রিয়াজাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন ও বিক্রির উদ্দেশ্যে সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিটির যাত্রা শুরু হয়। যদিও কাঁচামাল সংকটে চালুর মাত্র ছয়দিন পরই কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ১৯৯৮ সাল থেকে ঢাকা লেদারের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ। তবে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন ব্যয় এবং কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এখনো পরিশোধ করা হচ্ছে সরকারি অর্থে।

একই চিত্র ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডেরও। পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে সেখানে উৎপাদন বন্ধ। গত এক দশকে কারখানাটি সংস্কারে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও এখনো উৎপাদনে ফিরতে পারেনি কোম্পানিটি। ভারতের মেঘালয় থেকে চুনাপাথর এনে উৎপাদন চালুর উদ্যোগও এক রকম থমকে আছে। অথচ একই এলাকায় বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জহোলসিম ভারত থেকে চুনাপাথর এনে ক্লিংকার উৎপাদনের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করছে।

শুধু ঢাকা লেদার কিংবা ছাতক সিমেন্ট নয়, এ ধরনের আরো অনেক অ-আর্থিক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, সংস্থা ও করপোরেশন রয়েছে, যেগুলোর পরিচালন কার্যক্রম থেকে কোনো আয় নেই। উল্টো এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে প্রতি বছর সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। সরকার নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করায় বেতন-ভাতা খাতে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যয় দ্বিগুণ হবে।

সরকারি কর্মচারী বাতায়নের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশন ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোয় কর্মরত কর্মচারীর সংখ্যা ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৮৭। অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে অ-আর্থিক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৩০। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি বাবদ ৮৯ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ও ব্যবসায়িক পরিস্থিতির নাজুক চিত্র উঠে এসেছে অর্থ বিভাগের একাধিক প্রতিবেদনে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পরিচালন খাতে অনুদান পাওয়া ১৭৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৮টিরই নিজস্ব কোনো আয় ছিল না। অর্থাৎ পরিচালন খাতে অনুদান পাওয়া প্রতি দুই প্রতিষ্ঠানের প্রায় একটির নিজস্ব আয় নেই। অন্যদিকে বাকি ৮৬টি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত আয় ছিল মাত্র ২ হাজার ৫২ কোটি টাকা।

এদিকে ১২২টি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের ঋণ ঝুঁকি মূল্যায়ন করে অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, অতি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে ১৯টি প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ২২ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। অন্যদিকে আর্থিকভাবে দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে ২৪টি প্রতিষ্ঠান। দুই তালিকাতেই রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১২। ফলে অতি উচ্চ ঋণ ঝুঁকি ও আর্থিকভাবে দুর্দশাগ্রস্ত—দুই শ্রেণীতে মোট ৩১টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত জনবলের সংখ্যা প্রায় ২৭ হাজার।

আজকের পত্রিকা

‘৪৩ মাসে নিখোঁজ ৭২ হাজার শিশু’—এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, কুমিল্লায় নিখোঁজের পরদিন গত শনিবার মরদেহ পাওয়া গেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের ১৩ বছরের সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের। একই দিন সুনামগঞ্জে অচেতন বাবার পাশ থেকে তিন ভাই-বোনের মরদেহ এবং মানিকগঞ্জে মা-বাবার মরদেহের পাশ থেকে দেড় বছরের আলিজা নূরের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনা পৃথক হলেও এই পাঁচ শিশুই হয়েছে নৃশংসতা ও হত্যার শিকার।

প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও শিশুরা হত্যা, নৃশংসতার শিকার হচ্ছে। নিখোঁজ হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, গত তিন বছর সাত মাসে (৪৩ মাস) ৭২ হাজার ৪৮৯ শিশুর নিখোঁজের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। অবশ্য নিখোঁজ শিশুদের ৯০ শতাংশের বেশি উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। তবে তাদের কতজনকে জীবিত ও কতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেই তথ্য আলাদাভাবে করা নেই পুলিশ সদর দপ্তরে।

বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলেছে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে সারা দেশে ২৫৪ শিশু খুন হয়েছে। তাদের মধ্যে নিখোঁজের পর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে ৩৬ শিশুর।

রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গত বৃহস্পতিবার নিখোঁজ হয়েছে হাবিবুল্লাহ নাঈম নামে ১২ বছরের এক শিশু। এ ঘটনায় তার মা থানায় জিডি করেছেন। তবে গতকাল রোববার রাত পর্যন্ত তার সন্ধান পায়নি পরিবার। তাদের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গার নাটোর গ্রামে। বাবা বাবুল ইসলাম ও শরীফা খাতুনের সঙ্গে খিলক্ষেতের কুর্মিটোলা স্কুল রোড এলাকায় থাকত।

নিখোঁজ নাঈমের চাচা গোলাম হুসাইন বলেন, নাঈমের কাছে থাকা মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। ‎‎ খিলক্ষেত থানার ওসি মো. সোহরাব আল হোসাইন গতকাল বলেন, শিশুটিকে খুঁজে পেতে অভিযান চলছে।

৯ সেপ্টেম্বর সকালে গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার গাজীপুরা কাজীপাড়ার সুমন মার্কেট এলাকা থেকে নিখোঁজ ৮ বছরের শিশু আলিফের খোঁজও পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় জিডি হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে ৪৭৪টি। তাদের মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ৪০৬ জন। ৬৮ জন উদ্ধার হয়নি। একই সময়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩ জন। তাদের মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ১৩ হাজার ২৭৩ জন। উদ্ধার হয়নি ১ হাজার ৯৭০ জন। অর্থাৎ এ সময়ে শূন্য থেকে ১৭ বছর বয়সী মোট ১৫ হাজার ৭১৭ নিখোঁজ শিশুর মধ্যে উদ্ধার হয়নি ২ হাজার ৩৮ জন; যা মোট নিখোঁজের ১৩ শতাংশ।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে সারা দেশে ২২ হাজার ৫৫০ জন, ২০২৪ সালে ১৬ হাজার ৪১৪ জন এবং ২০২৩ সালে ১৭ হাজার ৮০৮ জন শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর নিখোঁজের ৯০ শতাংশের বেশি শিশু উদ্ধার হয়।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘অপরাধীর দাপটে নড়বড়ে আইনশৃঙ্খলা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, হঠাৎ টালমাটাল দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। প্রতিদিনই ঘটছে হত্যাকা- থেকে শুরু করে নানা অপরাধ। শিশু থেকে বৃদ্ধ কেউ পাচ্ছেন না রেহাই। রাজনৈতিক ঘটনার পাশাপাশি পারিবারিকভাবেও হত্যাকান্ড ঘটছে। তুচ্ছ ঘটনায় বাবা বা মা তার আদরের সন্তানকে মেরে নিজেও আত্মহত্যা করছেন। রাস্তায় নামলে ছিনতাইকারীদের ভয়ে কাবু পথচারীরা। আবার পাশবিক নির্যাতন ও হত্যার শিকারও হচ্ছেন অনেকেই। চাঁদাবাজির ঘটনাও নেই পিছিয়ে। বিদেশ থেকে শীর্ষ অপরাধীরা তাদের অনুসারীদের দিয়ে অপরাধ সংঘটিত করছে। সর্বশেষ কুমিল্লায় শিক্ষার্থী অপ্রতিম ও খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আজমুল হোসেনকে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। নতুন করে যোগ হয়েছে ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে আগুনের ঘটনা। সব মিলিয়ে জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় অনেকটা চাপে পড়েছে পুলিশ। এই নিয়ে শনিবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বাসায় পুলিশের ঊর্ধ্বতনদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেছেন। গতকালও পুলিশ সদর দপ্তরসহ সবকটি ইউনিটে হয়েছে একাধিক বৈঠক। অপরাধীদের নির্মূল করতে শিগগির বড় একটি অপারেশন চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। দাগি অপরাধীদের পাশাপাশি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করতে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। প্রতিটি থানায় ২৪ ঘণ্টা পুুলিশের টহল বাড়াতে বলা হয়েছে। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত টহলেই থাকতে হবে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বা দলটির অঙ্গ-সংগঠন কোনো ধরনের মিছিলসহ অন্য অপকর্ম চালালেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই কথা বলেছেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অপারেশন) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, পুলিশের টহল বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছে। থানায় জনবল বা যানবাহন সংকট থাকলে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তরকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। কিশোর বা শিশু গ্যাং বলে কিছু থাকবে না। সবকিছুই নির্মূল করা হবে।

উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা জনমনে: পুলিশ সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামগ্রিক অপরাধের সব সূচক যে ঊর্ধ্বমুখী বিষয়টি এমন নয়। বরং চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণের মতো কয়েকটি অপরাধ কমেছে। কিন্তু একই সময়ে হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন, পুলিশের ওপর হামলা এবং গণপিটুনির মতো গুরুতর অপরাধের কিছু সূচক বেড়েছে। কুমিল্লায় বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে গত শুক্রবার বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় ১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। পরদিন শনিবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ ও পরিবার। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে বলে জানায় পুলিশ।

এদিকে খুলনায় ভাত চুরির অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করা হয় খুবি ছাত্র আজমুল হোসেনকে। ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন হলেও দেশে নিরাপত্তার উদ্বেগজনক পরিস্থিতিকেই সামনে আনছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ১৪ হাজার ৬০২টি। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০টি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতায় নিহত হয়েছে ২৫৪ শিশু। সে হিসাবে গড়ে দৈনিক একজনের বেশি শিশু সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছে। এসব ঘটনা বেড়ে যাওয়া জনমনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক: অপরাধ রোধে গত শনিবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বাসায় বৈঠক করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে। তাছাড়া গতকাল পুলিশ সদর দপ্তরেও হয়েছে আরেকটি বিশেষ বৈঠক। বৈঠকগুলোতে বেশ কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশের সবকটি ইউনিট, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপারদের বার্তা পাঠিয়ে বলা হয়েছে যেসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হবে, সেখানে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন, এলাকায় থানা পুলিশের ঢিলেঢালা টহল হচ্ছে। রাতের বেলায় ডিউটি হয় না বললেই চলে। আবার কিছু টহল হলেও গাড়ির মধ্যে ঘুমিয়ে রাত পার করে দেন তারা।

আন্ডারওয়ার্ল্ড ও চরমপন্থিদের তৎপরতা: পুলিশের তথ্যানুযায়ী আন্ডারওয়ার্ল্ড আগের চেয়ে বেশি তৎপর হচ্ছে। রাজনৈতিক বিরোধ বাড়ছে। টার্গেট কিলিং হচ্ছে। চরমপন্থিদেরও অপকর্ম বেড়ে গেছে। দেশের ভেতরের পাশাপাশি বিদেশ থেকে হত্যার নির্দেশনা আসছে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যেও আছে আতঙ্ক। পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সরকার নির্দেশ দিলেও পুলিশের মধ্যে ঢিলেঢালা ভাব দেখা যাচ্ছে। উদ্ধার হচ্ছে না লুণ্ঠিত আগ্নেয়াস্ত্র। ধরা পড়ছে না দাগি অপরাধী। প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাই, ডাকাতি, হামলা, ধর্ষণসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

‘ন্যাম ভবনে এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু’—এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, নারীকাণ্ডে বিতর্কিত জামায়াতের এমপি (সাতক্ষীরা-৪) গাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকার সরকারি ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে তাঁর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেছেন। আসামি করা হয়েছে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী এবং মরিয়ম খাতুনের মামা ওবায়দুর রহমানকে। ডিএমপি তেজগাঁও বিভাগের ডিসি মো. ইবনে মিজান জানান, এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তার দেখাতে আজ জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে আবেদন জানানো হবে।

পুলিশ বলছে, ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ছিলেন ওই তরুণী। ঠিক কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনি আত্মহত্যা করলে সেটার কী কারণ তা-ও জানাতে পারেনি স্বজনরা। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পেছনে অন্য রহস্য আছে জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট। নেমেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশও। লাশ উদ্ধারের সময় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের কাছে তিনি স্ত্রীর মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেননি।

একই বাসায় গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমও থাকতেন বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী বাসায় থাকায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। মারা যাওয়া মরিয়ম খাতুনের সঙ্গেই আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দল থেকে বহিষ্কার হন গাজী নজরুল ইসলাম। ডিসি মো. ইবনে মিজান জানান, মরিয়মের লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ উদ্ধার করে। গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্ত চলমান । ডিসি আরও জানান, তদন্তের স্বার্থে প্রাথমিক অবস্থায় সব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। সিআইডি ক্রাইম সিন টিম রিপোর্ট হস্তান্তর করার পর বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

তেজগাঁও বিভাগের এডিসি ফজলুল করিম বলেন, রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তারা খবর পেয়েছেন। ঘটনা ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে ঘটেছে। শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, ঘটনার সময় এমপি গাজী নজরুল একই ফ্ল্যাটের পাশের একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন। সূত্র জানায়, গতকাল দুপুর সোয়া ২টায় এমপি নজরুল বাসায় আসেন। তিনি দুই স্ত্রীকে নিয়ে দুপুরের খাবার খান। এরপর আলাদা কক্ষে যান। বিকাল ৫টার পর মরিয়মকে ডাকতে গিয়ে তাঁর কক্ষের দরজা বন্ধ দেখতে পান গাজী নজরুল। পরে জানালা দিয়ে তাকিয়ে মরিয়মকে ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন। এরপর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।