মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে কারাদণ্ডের বাকি সময় গৃহবন্দিত্বে কাটানোর অনুমোদনের প্রতিবাদে পরিবহনমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ক্ষমতাসীন জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরিক দল ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন পার্টির (ডিএপি) মহাসচিব অ্যান্থনি লোক। শনিবার তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ডিএপি সরকার থেকে সরে যাচ্ছে না এবং দলের অন্যান্য মন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, নাজিবকে কারাদণ্ডের অবশিষ্ট সময় নিজ বাসভবনে কাটানোর অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর অ্যান্থনি লোক পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ডিএপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠকের পর তিনি বলেছেন, নাজিবের সাজা কারাগারের পরিবর্তে বাসায় ভোগ করার সিদ্ধান্ত দলটির পক্ষে গ্রহণ করা সম্ভব নয়।
অ্যান্থনি লোক আরও জানিয়েছেন, তিনি ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। তবে তার পদত্যাগের অর্থ ডিএপি সরকারের জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়া নয়। মন্ত্রী পরিবর্তিত হলেও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও চলমান প্রকল্পগুলো স্বাভাবিকভাবেই চলবে। এদিকে আরেক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, নাজিবের আইনজীবীরা তাকে কারাগারের পরিবর্তে নিজ বাসভবনে সাজা ভোগের অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নাজিবের কারাদণ্ডের মেয়াদ ২০২৮ সালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। নাজিব রাজাক ২০২২ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় তহবিল সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় ৪ কোটি ২০ লাখ রিঙ্গিত আত্মসাতের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও অর্থপাচারের অভিযোগে দণ্ড বহাল রাখে মালয়েশিয়ার সর্বোচ্চ আদালত। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে রাজকীয় ক্ষমার মাধ্যমে তার ১২ বছরের কারাদণ্ড কমিয়ে ছয় বছর করা হয়। নাজিবকে শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত মালয়েশিয়ার রাজার সাংবিধানিক বিশেষাধিকার বলে লিখেছে দ্য স্টার অনলাইন। জোহরের মালয়েশিয়ান ইন্ডিয়ান কংগ্রেসের নেতারাও এ সিদ্ধান্তকে রাজার সাংবিধানিক এখতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সিদ্ধান্তটি সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে নাজিবের গৃহবন্দিত্বের সিদ্ধান্তকে ঘিরে ক্ষমতাসীন জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে অবস্থানের পার্থক্যও স্পষ্ট হয়েছে। ডিএপি সিদ্ধান্তটির বিরোধিতা করলেও জোটের অন্য কয়েকটি দলের নেতারা এটিকে রাজার সাংবিধানিক ক্ষমতার অংশ হিসেবে দেখছেন।
এছাড়া দেশটির সাবেক আমলাদের সংগঠন জি-২৫ নাজিবকে গৃহবন্দিত্বের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংগঠনটি এ সিদ্ধান্তের পেছনে অ্যাটর্নি জেনারেলের লিখিত মতামতসহ সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছে বলে লিখেছে দ্য এজ মালয়েশিয়া। যদিও নাজিবের গৃহবন্দিত্বের শর্তের মধ্যে ৫ কোটি রিঙ্গিত জরিমানার বিষয়টিও রয়েছে। তবে এ অর্থ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে তার আইনজীবীরা প্রশ্ন তুলেছেন।
তাদের দাবি, নাজিবের বেশ কিছু সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় থাকায় সেগুলো তার সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নেই। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী অ্যান্থনি লোকের পদত্যাগের ঘোষণা এমন সময়ে এলো, যখন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বাধীন ঐক্য সরকার নাজিবের রাজকীয় ক্ষমা ও গৃহবন্দিত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। যদিও ডিএপি জানিয়েছে, লোকের পদত্যাগের পরও দলটি আনোয়ার সরকারের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।
